নিউইয়র্ক ০৬:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাল্টার দাম কেজিতে ৫২০ টাকা, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : ০২:০২:০৪ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বাজারে আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফল আমদানির নির্দেশনা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকা হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ফলের সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় মাল্টার বর্তমান বাজারদাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীদের কাছে আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও কীভাবে প্রতিকেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকায় পৌঁছায়, তার ব্যাখ্যা চান তিনি।

অস্বাভাবিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।

সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ ঘাটতির কারণে বর্তমানে মাল্টার দাম বেড়েছে। তাদের হিসাবে, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন।

আমদানিকারকেরা জানান, উচ্চশুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণেও ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের পর মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানো এবং দ্রুত এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

আসন্ন চাহিদা বিবেচনায় ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, খেজুরের শুল্কের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে।

বৈঠকে বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন। একই সঙ্গে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না।

সরকার ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষকে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো পক্ষ কারসাজির চেষ্টা করলে পুরো ব্যবস্থার ওপরই আস্থার সংকট তৈরি হয়।

সভায় এনবিআরের প্রতিনিধি জানান, বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের প্রকৃত ক্রয়মূল্য আলাদা হলেও শুল্কায়নের ক্ষেত্রে সেই পার্থক্য সব সময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও উৎসমূল্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

খেজুর আমদানিকারকেরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবহন ও বন্দরের জটিলতার কারণে খেজুর দেশে পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। তাই সময়মতো পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি নিশ্চিত করতে শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রয়োজন।

সভায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফলের আমদানি বাড়ানোর আশ্বাস দেন। সরকারের পক্ষ থেকেও শুল্ক-কর, শুল্কায়ন ও আমদানিপ্রক্রিয়ার যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যালোচনার কথা জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ১৮ বছর পূর্তি উদযাপন

এত দিন চুপ থাকলেও হঠাৎ কেন ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে সরব মোদি সরকার

০৩ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মাল্টার দাম কেজিতে ৫২০ টাকা, ব্যাখ্যা চাইলেন বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটের সময় : ০২:০২:০৪ অপরাহ্ণ, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

বাজারে আমদানিনির্ভর ফলের সরবরাহ বাড়িয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ব্যবসায়ীদের দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে মাল্টাসহ বিভিন্ন ফল আমদানির নির্দেশনা দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে খুচরা বাজারে প্রতিকেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকা হওয়ার কারণ জানতে চেয়েছেন তিনি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ফলের সরবরাহ নিশ্চিত ও বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখতে ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

সভায় মাল্টার বর্তমান বাজারদাম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ব্যবসায়ীদের কাছে আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও কীভাবে প্রতিকেজি মাল্টার দাম ৫২০ টাকায় পৌঁছায়, তার ব্যাখ্যা চান তিনি।

অস্বাভাবিক দামে মাল্টা বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাজারে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।

সভায় ব্যবসায়ীরা জানান, সরবরাহ ঘাটতির কারণে বর্তমানে মাল্টার দাম বেড়েছে। তাদের হিসাবে, কোনো কোনো সপ্তাহে দেশে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনার মাল্টা এসেছে। অথচ স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন।

আমদানিকারকেরা জানান, উচ্চশুল্ক, পরিবহন ব্যয়, জাহাজ ও বন্দরের জটিলতা এবং আগের চালানে লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী মাল্টা আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণেও ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ঝুঁকি রয়েছে।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্যের পর মাল্টার শুল্কসংক্রান্ত বিষয় পর্যালোচনার আশ্বাস দেন বাণিজ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আমদানি বাড়ানো এবং দ্রুত এলসি খুলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর তাগিদ দেন তিনি।

আসন্ন চাহিদা বিবেচনায় ব্যবসায়ীদের এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নিতে বলেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, খেজুরের শুল্কের বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

খেজুরের অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু বা শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আমদানিকারকদের সঙ্গে বৈঠক করবে।

বৈঠকে বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের আন্তর্জাতিক উৎসমূল্য যাচাই করে একটি যৌক্তিক নির্দেশক মূল্য নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে পাঠানো হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শুল্কায়ন ব্যবস্থা এমন হতে হবে, যাতে ব্যবসায়ীরা অযৌক্তিক অ্যাসেসমেন্টের শিকার না হন। একই সঙ্গে পণ্যের মূল্য কম দেখিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগও রাখা যাবে না।

সরকার ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষকে স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো পক্ষ কারসাজির চেষ্টা করলে পুরো ব্যবস্থার ওপরই আস্থার সংকট তৈরি হয়।

সভায় এনবিআরের প্রতিনিধি জানান, বিভিন্ন মান ও গ্রেডের খেজুরের প্রকৃত ক্রয়মূল্য আলাদা হলেও শুল্কায়নের ক্ষেত্রে সেই পার্থক্য সব সময় যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারদর ও উৎসমূল্য বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবসম্মত মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

খেজুর আমদানিকারকেরা জানান, আন্তর্জাতিক পরিবহন ও বন্দরের জটিলতার কারণে খেজুর দেশে পৌঁছাতে আগের তুলনায় বেশি সময় লাগছে। তাই সময়মতো পর্যাপ্ত খেজুর আমদানি নিশ্চিত করতে শুল্কসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রয়োজন।

সভায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প উৎস থেকে মাল্টাসহ বিভিন্ন বিদেশি ফলের আমদানি বাড়ানোর আশ্বাস দেন। সরকারের পক্ষ থেকেও শুল্ক-কর, শুল্কায়ন ও আমদানিপ্রক্রিয়ার যৌক্তিক সমস্যাগুলো পর্যালোচনার কথা জানানো হয়।

মতবিনিময় সভায় বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান, বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card