নিউইয়র্ক ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআই সঙ্গীর আসক্তি রুখতে চীনে কঠোর বিধিনিষেধ: বন্ধ হলো ‘ভার্চ্যুয়াল পার্টনার’ ফিচার

  • আপডেটের সময় : ০১:৩৯:২৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঙ্গে মানুষের মানসিক নির্ভরশীলতা ও আসক্তি কমাতে মানুষের মতো আচরণ করা ‘হিউম্যান-লাইক’ এআই চ্যাটবটের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন সরকার। শিশুদের সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে দেশের ক্রমহ্রাসমান জন্মহার বাড়ানো এবং জনমিতি সংকট মোকাবিলার মতো কৌশলগত উদ্দেশ্য দেখছেন।

চলতি বছরের জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই নীতিমালায় এমন যেকোনো এআই মডেলের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আবেগঘন সম্পর্ক গড়ে তোলে। নতুন নিয়মে ১৪ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে যেকোনো এআই চ্যাটবট ব্যবহারে অভিভাবকদের স্পষ্ট অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য কোনো ধরনের ভার্চ্যুয়াল সঙ্গী, জীবনসঙ্গী বা রোমান্টিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে—এমন চ্যাটবটের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও চ্যাটবটকে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিতে হবে যে এটি কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ নয়। অতিরিক্ত আসক্তি কাটাতে প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর ব্যবহারকারীকে অনলাইনের সময়সীমা সম্পর্কে সতর্কবার্তাও পাঠাতে হবে।

বেইজিংয়ের এমন কঠোর অবস্থানের মুখে আলিবাবা ও বাইটড্যান্সের মতো শীর্ষস্থানীয় চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এআই সেবা থেকে ভার্চ্যুয়াল কম্প্যানিয়ন বা বন্ধু বানানোর ফিচার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। গবেষকদের অনেকেই মনে করছেন, এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে চীনের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্য সুরক্ষার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চীনের জনসংখ্যা সংকট। সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজির গবেষক স্যাম ব্রেসনিক উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন এক সন্তান নীতির কারণে চীন এখন ভয়াবহ জনমিতিক চ্যালেঞ্জের মুখে। তরুণ প্রজন্ম রক্ত-মাংসের মানুষের সঙ্গে বিয়ে বা সম্পর্কে জড়ানোর বদলে এআই সঙ্গীর ওপর অতি-নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় জন্মহার আরও তলানিতে নামার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বাস্তব জীবনের একাকিত্ব দূর করতে গিয়ে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষকে সমাজ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে বলে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও প্রমাণিত হয়েছে।

বিবিসি

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

এআই সঙ্গীর আসক্তি রুখতে চীনে কঠোর বিধিনিষেধ: বন্ধ হলো ‘ভার্চ্যুয়াল পার্টনার’ ফিচার

আপডেটের সময় : ০১:৩৯:২৮ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঙ্গে মানুষের মানসিক নির্ভরশীলতা ও আসক্তি কমাতে মানুষের মতো আচরণ করা ‘হিউম্যান-লাইক’ এআই চ্যাটবটের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন সরকার। শিশুদের সুরক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষার যুক্তি দেখিয়ে এ পদক্ষেপ নেওয়া হলেও, বিশেষজ্ঞরা এর পেছনে দেশের ক্রমহ্রাসমান জন্মহার বাড়ানো এবং জনমিতি সংকট মোকাবিলার মতো কৌশলগত উদ্দেশ্য দেখছেন।

চলতি বছরের জুলাই থেকে কার্যকর হওয়া নতুন এই নীতিমালায় এমন যেকোনো এআই মডেলের ওপর বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে, যা ব্যবহারকারীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আবেগঘন সম্পর্ক গড়ে তোলে। নতুন নিয়মে ১৪ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে যেকোনো এআই চ্যাটবট ব্যবহারে অভিভাবকদের স্পষ্ট অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য কোনো ধরনের ভার্চ্যুয়াল সঙ্গী, জীবনসঙ্গী বা রোমান্টিক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে—এমন চ্যাটবটের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এমনকি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রেও চ্যাটবটকে স্পষ্টভাবে মনে করিয়ে দিতে হবে যে এটি কোনো রক্ত-মাংসের মানুষ নয়। অতিরিক্ত আসক্তি কাটাতে প্রতি দুই ঘণ্টা পর পর ব্যবহারকারীকে অনলাইনের সময়সীমা সম্পর্কে সতর্কবার্তাও পাঠাতে হবে।

বেইজিংয়ের এমন কঠোর অবস্থানের মুখে আলিবাবা ও বাইটড্যান্সের মতো শীর্ষস্থানীয় চীনা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের এআই সেবা থেকে ভার্চ্যুয়াল কম্প্যানিয়ন বা বন্ধু বানানোর ফিচার বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। গবেষকদের অনেকেই মনে করছেন, এআই প্রযুক্তির ক্ষতিকর ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে চীনের এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করতে পারে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, স্বাস্থ্য সুরক্ষার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চীনের জনসংখ্যা সংকট। সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড ইমার্জিং টেকনোলজির গবেষক স্যাম ব্রেসনিক উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন এক সন্তান নীতির কারণে চীন এখন ভয়াবহ জনমিতিক চ্যালেঞ্জের মুখে। তরুণ প্রজন্ম রক্ত-মাংসের মানুষের সঙ্গে বিয়ে বা সম্পর্কে জড়ানোর বদলে এআই সঙ্গীর ওপর অতি-নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় জন্মহার আরও তলানিতে নামার শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বাস্তব জীবনের একাকিত্ব দূর করতে গিয়ে এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষকে সমাজ থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করে ফেলছে বলে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাতেও প্রমাণিত হয়েছে।

বিবিসি

Share this news as a Photo Card