নিউইয়র্ক ১১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হঠাৎ ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, জানে না বাংলাদেশ ব্যাংক

  • আপডেটের সময় : ০১:৪৩:৩২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা জোরদার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দোহাই দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা সাধারণ গ্রাহকদের আগাম না জানিয়েই একযোগে ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থা আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত টানা প্রায় ছয় দিন ধরে চলার কথা রয়েছে।

কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাধীন এটিএম বুথ, কার্ড ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) সেবা হঠাৎ থমকে যাওয়ায় প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে দেশজুড়ে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভের মুখে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন ও সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে এই সাময়িক বিভ্রাট ঘটেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সেবা বন্ধ করার মতো নজিরবিহীন ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আগে থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো স্বউদ্যোগে এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পুরো ঘটনাকে বেশ নেতিবাচক ও গর্হিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন চলতে পারে, কিন্তু ব্যাংকগুলো এত বড় একটি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি। একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও কোনো আগাম সতর্কবার্তা বা গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়নি। ফলে হঠাৎ সেবা অচল হয়ে পড়ায় দেশজুড়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়েছেন এবং ব্যাংকগুলোর এমন একক ও খামখেয়ালিপূর্ণ সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে সেবা বন্ধ হওয়ার পর রোববার থেকেই কয়েকটি ব্যাংক দায়সারাভাবে গ্রাহকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে সেবা সীমিত থাকার বিষয়টি জানাতে শুরু করে। ব্যাংকগুলোর পাঠানো বার্তায় উল্লেখ করা হয়, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত কার্ড ও লেনদেন সেবা বন্ধ থাকবে।

এই সময়ে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা এটিএম বুথ, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম) ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) টার্মিনাল পুরোপুরি অকার্যকর থাকবে। তবে ব্যাংকগুলোর দাবি, সাধারণ ডেবিট কার্ড লেনদেন এবং অন্যান্য ব্যাংকের এটিএম-পিওএস বুথ, বাংলা কিউআর এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (এমএফএস) মাধ্যমে বিকাশ, নগদ, রকেট, ট্যাপ বা উপায়ে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ চালু রয়েছে।

এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা মনির হোসেন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারিগরি কাজ শেষ হওয়ামাত্রই সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো পুরোদমে সচল করা হবে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে গ্রাহকদের বিকল্প ডিজিটাল মাধ্যমগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন যে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন কিংবা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে সেবা সাময়িক সীমিত রাখা অস্বাভাবিক নয়। তবে একসাথে ৩০টি ব্যাংকের কার্ড সেবা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রাখার মতো নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের বিকল্প প্রস্তুতির সুযোগ দিতে অনেক আগেই বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা উচিত ছিল। আগাম নোটিশ ছাড়া এমন হঠকারী সিদ্ধান্তে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হঠাৎ ৩০ ব্যাংকের কার্ড-এটিএম সেবা বন্ধ, জানে না বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেটের সময় : ০১:৪৩:৩২ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

নিরাপত্তা জোরদার ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নের দোহাই দিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিংবা সাধারণ গ্রাহকদের আগাম না জানিয়েই একযোগে ৩০টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর সেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থা আগামী ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত টানা প্রায় ছয় দিন ধরে চলার কথা রয়েছে।

কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতাধীন এটিএম বুথ, কার্ড ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) সেবা হঠাৎ থমকে যাওয়ায় প্রয়োজনের সময় টাকা তুলতে গিয়ে দেশজুড়ে চরম ভোগান্তি ও ক্ষোভের মুখে পড়েছেন লাখ লাখ গ্রাহক।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আধুনিকায়ন ও সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে এই সাময়িক বিভ্রাট ঘটেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, একসঙ্গে এতগুলো ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক সেবা বন্ধ করার মতো নজিরবিহীন ও সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আগে থেকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো স্বউদ্যোগে এককভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় পুরো ঘটনাকে বেশ নেতিবাচক ও গর্হিত পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান জানান, নিরাপদ ব্যাংকিং সেবা নিশ্চিতের অংশ হিসেবে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশন চলতে পারে, কিন্তু ব্যাংকগুলো এত বড় একটি পদক্ষেপ নেওয়ার আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেনি। একই সঙ্গে গ্রাহকদেরও কোনো আগাম সতর্কবার্তা বা গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়নি। ফলে হঠাৎ সেবা অচল হয়ে পড়ায় দেশজুড়ে অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরও অত্যন্ত কঠোরভাবে নিয়েছেন এবং ব্যাংকগুলোর এমন একক ও খামখেয়ালিপূর্ণ সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে সেবা বন্ধ হওয়ার পর রোববার থেকেই কয়েকটি ব্যাংক দায়সারাভাবে গ্রাহকদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে সেবা সীমিত থাকার বিষয়টি জানাতে শুরু করে। ব্যাংকগুলোর পাঠানো বার্তায় উল্লেখ করা হয়, কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারণে ৪ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর দুপুর ১২টা পর্যন্ত নির্ধারিত কার্ড ও লেনদেন সেবা বন্ধ থাকবে।

এই সময়ে কিউক্যাশ নেটওয়ার্কের আওতায় থাকা এটিএম বুথ, ক্যাশ রিসাইক্লিং মেশিন (সিআরএম) ও পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) টার্মিনাল পুরোপুরি অকার্যকর থাকবে। তবে ব্যাংকগুলোর দাবি, সাধারণ ডেবিট কার্ড লেনদেন এবং অন্যান্য ব্যাংকের এটিএম-পিওএস বুথ, বাংলা কিউআর এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (এমএফএস) মাধ্যমে বিকাশ, নগদ, রকেট, ট্যাপ বা উপায়ে অর্থ স্থানান্তরের সুযোগ চালু রয়েছে।

এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তা মনির হোসেন জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সিস্টেম মাইগ্রেশনের কারিগরি কাজ শেষ হওয়ামাত্রই সংশ্লিষ্ট সেবাগুলো পুরোদমে সচল করা হবে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে গ্রাহকদের বিকল্প ডিজিটাল মাধ্যমগুলো ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন যে প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উন্নয়ন কিংবা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে সেবা সাময়িক সীমিত রাখা অস্বাভাবিক নয়। তবে একসাথে ৩০টি ব্যাংকের কার্ড সেবা প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বন্ধ রাখার মতো নজিরবিহীন পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের বিকল্প প্রস্তুতির সুযোগ দিতে অনেক আগেই বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা উচিত ছিল। আগাম নোটিশ ছাড়া এমন হঠকারী সিদ্ধান্তে ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থায় বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Share this news as a Photo Card