নিউইয়র্ক ১১:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭০ বছর পর আবার আসাম থেকে নৌপথে বাংলাদেশে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু

  • আপডেটের সময় : ০১:৪৪:৪৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর প্রথমবারের মতো ভারতের আসাম থেকে সরাসরি জলপথে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী বাণিজ্যিক চালান পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) আসামের ডিব্রুগড়ের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ টন মিথানল নিয়ে একটি বার্জ ঢাকার পানগাঁও অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরের উদ্দেশে ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করে।

শহরটির ঐতিহ্যবাহী নৌঘাট বন্ধ হওয়ার প্রায় ৭০ বছর পর এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ নৌযোগাযোগে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো।

ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও নৌপথবিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বগিবিল থেকে ‘ডিএলবি পাতকাই’ নামের পণ্যবাহী বার্জটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা উদ্বোধন করেন। বার্জটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ‘কুশল কুনওয়ার’ নামের একটি শক্তিশালী টাগবোট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

আসামের নামরূপে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড’-এর উৎপাদিত এই মিথানল বহনকারী বার্জটি ভারতের ন্যাশনাল ওয়াটারওয়ে-২ (ব্রহ্মপুত্র নদ) হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট ব্যবহার করে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ধলেশ্বরী হয়ে বুড়িগঙ্গা তীরের পানগাঁও নৌবন্দরে নোঙর করবে। ডিব্রুগড় থেকে পানগাঁও পর্যন্ত মোট প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দেবে চালানটি।

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এটিকে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বহুমুখী কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই এ বাণিজ্য সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখ্য, উনিশ শতকে পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর ছিল ডিব্রুগড়; ১৮৫৬ সাল থেকেই কলকাতা ও ডিব্রুগড়ের মধ্যে নিয়মিত স্টিমারে চা, কাঠ ও যাত্রী পরিবহন হতো। তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৫০ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে নদীর তলদেশের পরিবর্তনের পর বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে। ১৯৫৪ সালে পণ্য বুকিং বন্ধ হওয়ার পর ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ডিব্রুগড় নৌঘাট বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সাত দশক পর পুনরায় পণ্য পরিবহনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এ নৌপথটি আবার সচল হলো।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

৭০ বছর পর আবার আসাম থেকে নৌপথে বাংলাদেশে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল শুরু

আপডেটের সময় : ০১:৪৪:৪৬ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর প্রথমবারের মতো ভারতের আসাম থেকে সরাসরি জলপথে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পণ্যবাহী বাণিজ্যিক চালান পাঠানো হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) আসামের ডিব্রুগড়ের বগিবিল টার্মিনাল থেকে ৫৪০ টন মিথানল নিয়ে একটি বার্জ ঢাকার পানগাঁও অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরের উদ্দেশে ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করে।

শহরটির ঐতিহ্যবাহী নৌঘাট বন্ধ হওয়ার প্রায় ৭০ বছর পর এ উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও বাংলাদেশের মধ্যকার অভ্যন্তরীণ নৌযোগাযোগে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন হলো।

ভারতের কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও নৌপথবিষয়ক মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল বগিবিল থেকে ‘ডিএলবি পাতকাই’ নামের পণ্যবাহী বার্জটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা উদ্বোধন করেন। বার্জটিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে ‘কুশল কুনওয়ার’ নামের একটি শক্তিশালী টাগবোট। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।

আসামের নামরূপে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ‘আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেড’-এর উৎপাদিত এই মিথানল বহনকারী বার্জটি ভারতের ন্যাশনাল ওয়াটারওয়ে-২ (ব্রহ্মপুত্র নদ) হয়ে বাংলাদেশ সীমান্তে পৌঁছাবে। এরপর ভারত-বাংলাদেশ প্রটোকল রুট ব্যবহার করে ব্রহ্মপুত্র, যমুনা ও ধলেশ্বরী হয়ে বুড়িগঙ্গা তীরের পানগাঁও নৌবন্দরে নোঙর করবে। ডিব্রুগড় থেকে পানগাঁও পর্যন্ত মোট প্রায় ১ হাজার ৩০০ কিলোমিটার জলপথ পাড়ি দেবে চালানটি।

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল এটিকে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পরিকাঠামো উন্নয়ন ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে বহুমুখী কানেক্টিভিটি বৃদ্ধির অংশ হিসেবেই এ বাণিজ্য সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখ্য, উনিশ শতকে পূর্ব ভারতের অন্যতম ব্যস্ত নদীবন্দর ছিল ডিব্রুগড়; ১৮৫৬ সাল থেকেই কলকাতা ও ডিব্রুগড়ের মধ্যে নিয়মিত স্টিমারে চা, কাঠ ও যাত্রী পরিবহন হতো। তবে ১৯৪৭ সালের দেশভাগ এবং ১৯৫০ সালের বিধ্বংসী ভূমিকম্পে নদীর তলদেশের পরিবর্তনের পর বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ে। ১৯৫৪ সালে পণ্য বুকিং বন্ধ হওয়ার পর ১৯৫৬ সালের ১৫ অক্টোবর আনুষ্ঠানিকভাবে ডিব্রুগড় নৌঘাট বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ সাত দশক পর পুনরায় পণ্য পরিবহনের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক এ নৌপথটি আবার সচল হলো।

Share this news as a Photo Card