নিউইয়র্ক ০৭:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২০৩১ সালের আগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভব নয়

  • আপডেটের সময় : ১২:০৯:৪১ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কবে? রাষ্ট্রপক্ষ বলছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এই মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে আসামি পক্ষ বলছে, আপিল বিভাগে এ ধরনের মামলা সালের ক্রম অনুযায়ী শুনানি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেই হিসাবে এই মামলার আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ২০৩১ সালের আগে সম্ভব নয়।

আইনজ্ঞরা বলছেন, হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হওয়া ডেথ রেফারেন্সের যেসব মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে সেসব রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে আসামিরা। এখন এসব আপিল বিচারাধীন। ইতিপূর্বে সালের ক্রম অনুযায়ী নিষ্পত্তি হচ্ছে আপিলগুলো। বর্তমানে ২০১৮/১৯ সালের আপিল শুনানি হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চূড়ান্ত শুনানি হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত  নেবে আপিল বিভাগ।

প্রসঙ্গত: বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতারকক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরদিন চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন ভিকটিমের বাবা বরকত উল্লাহ। পরে ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় ডিবি পুলিশ। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দণ্ডিতরা। পাশাপাশি ডেথ রেফারেন্স আসে হাইকোর্টে। গত বছরের ১৬ মার্চ রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায়ে বলা হয়, কেবল ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। নির্মম নির্যাতন করে কাউকে পিটিয়ে মারার ক্ষেত্রে এটি কোনো কারণ হতে পারে না। এই রায়ের বিরুদ্ধে ঐ বছরই আপিল করেন কারাবন্দি আসামিরা। যাদের সকলেই বুয়েটের শিক্ষার্থী।

হাইকোর্টের রায়ে সমালোচনা করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আমি মনে করি, পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ত্রুটিপূর্ণ রায় এটি। কারণ আমি আসামি খালাসের পক্ষে যেসব যুক্তিতর্ক তুলে ধরেছি সেগুলো খণ্ডন না করেই আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এটা অনুচিত। তিনি বলেন, আপিল বিভাগে ফাঁসির আসামিদের আপিল শুনানি সালের ক্রম অনুযায়ী হয়ে থাকে। সেই হিসাবে ২০৩১ সালের আগে মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভব নয়।

রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আপিলগুলো একত্রে শুনানি হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। এই শুনানির প্রাথমিক দায় দণ্ডিত আসামিদের আইনজীবীদের ভূমিকার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আমরাও রাষ্ট্রের পক্ষে, আমাদের তত্পরতা থেমে থাকবে, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। আমরাও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা, বিচারের রায়ের কার্যকারিতা দেখতে চাই। নিশ্চয়ই আমি মনে করি যে, আমাদের মানুষের এই প্রত্যাশার জায়গাটি পূরণ করার জন্য আদালত তো নিশ্চয়ই বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছু চিন্তা করবেন বলে মনে হয় না।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ভারতে বাংলাদেশের মতো ‘পরিস্থিতি’ তৈরির চেষ্টা করছে কংগ্রেস: বিজেপি

রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনে ৫ শিশুসহ ২৮ জন নিহত

০৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

২০৩১ সালের আগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভব নয়

আপডেটের সময় : ১২:০৯:৪১ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলা চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কবে? রাষ্ট্রপক্ষ বলছে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এই মামলা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে আসামি পক্ষ বলছে, আপিল বিভাগে এ ধরনের মামলা সালের ক্রম অনুযায়ী শুনানি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। সেই হিসাবে এই মামলার আপিলের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি ২০৩১ সালের আগে সম্ভব নয়।

আইনজ্ঞরা বলছেন, হাইকোর্টে নিষ্পত্তি হওয়া ডেথ রেফারেন্সের যেসব মামলায় মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে সেসব রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে আসামিরা। এখন এসব আপিল বিচারাধীন। ইতিপূর্বে সালের ক্রম অনুযায়ী নিষ্পত্তি হচ্ছে আপিলগুলো। বর্তমানে ২০১৮/১৯ সালের আপিল শুনানি হচ্ছে। ফলে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে আবরার ফাহাদ হত্যা মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে চূড়ান্ত শুনানি হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত  নেবে আপিল বিভাগ।

প্রসঙ্গত: বুয়েটের শেরেবাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরারকে ২০১৯ সালের ৬ অক্টোবর রাতে ছাত্রলীগের এক নেতারকক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১৯ জনকে আসামি করে পরদিন চকবাজার থানায় হত্যা মামলা করেন ভিকটিমের বাবা বরকত উল্লাহ। পরে ২৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয় ডিবি পুলিশ। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামান। রায়ে ২০ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচ জনকে যাবজ্জীবন সাজা দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন দণ্ডিতরা। পাশাপাশি ডেথ রেফারেন্স আসে হাইকোর্টে। গত বছরের ১৬ মার্চ রায় ঘোষণা করে হাইকোর্ট। রায়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রাখে বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বাধীন দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ। রায়ে বলা হয়, কেবল ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে যুক্ত থাকার অভিযোগে আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। নির্মম নির্যাতন করে কাউকে পিটিয়ে মারার ক্ষেত্রে এটি কোনো কারণ হতে পারে না। এই রায়ের বিরুদ্ধে ঐ বছরই আপিল করেন কারাবন্দি আসামিরা। যাদের সকলেই বুয়েটের শিক্ষার্থী।

হাইকোর্টের রায়ে সমালোচনা করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামির কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু বলেন, আমি মনে করি, পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে ত্রুটিপূর্ণ রায় এটি। কারণ আমি আসামি খালাসের পক্ষে যেসব যুক্তিতর্ক তুলে ধরেছি সেগুলো খণ্ডন না করেই আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এটা অনুচিত। তিনি বলেন, আপিল বিভাগে ফাঁসির আসামিদের আপিল শুনানি সালের ক্রম অনুযায়ী হয়ে থাকে। সেই হিসাবে ২০৩১ সালের আগে মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি সম্ভব নয়।

রাষ্ট্রের শীর্ষ আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, আপিলগুলো একত্রে শুনানি হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। এই শুনানির প্রাথমিক দায় দণ্ডিত আসামিদের আইনজীবীদের ভূমিকার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু আমরাও রাষ্ট্রের পক্ষে, আমাদের তত্পরতা থেমে থাকবে, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। আমরাও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মামলাটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের দৃষ্টি আকর্ষণ করব। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় কথা, বিচারের রায়ের কার্যকারিতা দেখতে চাই। নিশ্চয়ই আমি মনে করি যে, আমাদের মানুষের এই প্রত্যাশার জায়গাটি পূরণ করার জন্য আদালত তো নিশ্চয়ই বিচ্ছিন্নভাবে কোনো কিছু চিন্তা করবেন বলে মনে হয় না।

Share this news as a Photo Card