নিউইয়র্ক ০৬:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হানিফসহ চার আওয়ামী লীগ নেতার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ২৯ অক্টোবর

  • আপডেটের সময় : ১২:০২:৪৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • ৬ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আমির হোসেন মামলা পরিচালনা করছেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, জহিরুল আমিন, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্য প্রসিকিউটররা।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। পরে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ চার আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্তে সমর্থন ও তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি একজন বেসামরিক রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অধীনস্তদের নির্দেশনা এবং টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের।

প্রসিকিউটর তামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, হানিফের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহায়তা এবং আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থিত থেকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি), জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও এনেছে প্রসিকিউশন। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসিকিউটর তামিম আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে একই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই অবস্থানে থেকে হানিফও একই ধরনের সাজা পাবেন বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

তবে মামলার অভিযোগ ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে বিচারিক সিদ্ধান্ত আসবে।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমে ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর গত ১০ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল করায় পরে আবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, ষড়যন্ত্র এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ সম্পন্ন হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

সৌদি আরবের দুই শহরে জরুরি সতর্কতা

ব্রাজিলে ফিলিস্তিনপন্থি লুলা জেতার পর ট্রাম্প বললেন, নির্বাচনে ‘কারচুপি’ হয়েছে

২৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

হানিফসহ চার আওয়ামী লীগ নেতার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ২৯ অক্টোবর

আপডেটের সময় : ১২:০২:৪৯ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ চার নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণার এ তারিখ নির্ধারণ করেন।

ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলার অন্য তিন আসামি হলেন কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খান, সাধারণ সম্পাদক আজগর আলী এবং কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান আতা। চার আসামিই বর্তমানে পলাতক। তাঁদের পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে নিয়োগ পাওয়া আইনজীবী আমির হোসেন মামলা পরিচালনা করছেন।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, জহিরুল আমিন, সহিদুল ইসলাম সরদারসহ অন্য প্রসিকিউটররা।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক ও পাল্টা যুক্তি উপস্থাপন শেষ হয়। পরে মামলাটি রায় ঘোষণার জন্য অপেক্ষমাণ রাখেন ট্রাইব্যুনাল।

গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষ চার আসামির সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ করে। প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলন দমনের সিদ্ধান্তে সমর্থন ও তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন মাহবুবউল আলম হানিফ। তিনি একজন বেসামরিক রাজনৈতিক নেতা হিসেবে অধীনস্তদের নির্দেশনা এবং টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে আন্দোলন দমনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখেন বলে দাবি রাষ্ট্রপক্ষের।

প্রসিকিউটর তামিমের ভাষ্য অনুযায়ী, হানিফের বিরুদ্ধে আন্দোলন দমনে উসকানি ও সহায়তা এবং আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের বিভিন্ন বৈঠকে উপস্থিত থেকে সমর্থন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া টেলিফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার (এসপি), জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হত্যাযজ্ঞ চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগও এনেছে প্রসিকিউশন। এ-সংক্রান্ত কথোপকথনের রেকর্ড ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রসিকিউটর তামিম আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন নাছিমকে একই ধরনের অপরাধে সর্বোচ্চ সাজা দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একই অবস্থানে থেকে হানিফও একই ধরনের সাজা পাবেন বলে আশা করছে রাষ্ট্রপক্ষ।

তবে মামলার অভিযোগ ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য আদালতে প্রমাণিত হওয়া সাপেক্ষে বিচারিক সিদ্ধান্ত আসবে।

মামলার বিচারিক কার্যক্রমে ২৩ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তাকে জেরার মধ্য দিয়ে ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর গত ১০ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষ অতিরিক্ত তথ্যপ্রমাণ দাখিল করায় পরে আবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।

মামলায় চার আসামির বিরুদ্ধে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া, ষড়যন্ত্র এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আগামী ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর রায়ের মধ্য দিয়ে বহুল আলোচিত এ মামলার বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ সম্পন্ন হবে।

Share this news as a Photo Card