নিউইয়র্ক ১২:১৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ হাজার মুক্তায় সাজানো গাউন, কান-এ নজর কাড়লেন ঐশ্বরিয়া

  • আপডেটের সময় : ০৮:২০:২৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
  • ৩১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কান চলচ্চিত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের ফ্যাশন নিয়ে আলোচনা থামছে না। ২০২৬ সালের এই আসরের লাল গালিচায় একের পর এক চমকপ্রদ পোশাকের পর এবার প্রকাশ্যে এসেছে তার একটি নজরকাড়া অদেখা লুক। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন হাউস ‘টনি ওয়ার্ড কতুর’ ঐশ্বরিয়ার সেই বিশেষ পোশাকের ছবি প্রকাশের পর তা এখন ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

বিখ্যাত এই লেবানিজ ডিজাইনারের তৈরি আইভরি-সাদা রঙের একটি স্ট্র্যাপলেস গাউনে ঐশ্বরিয়াকে দেখা গেছে রাজকীয় সাজে। পোশাকটির মূল আকর্ষণ ছিল এর বডিসজুড়ে বসানো সাত হাজারেরও বেশি মুক্তা। ত্রি-মাত্রিক নকশার এই গাউনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা সমুদ্রের ঢেউয়ের গতিময়তা ফুটিয়ে তুলেছে। প্রতিটি মুক্তা হাতে বসানো এই পোশাকটি আধুনিক হাই-ফ্যাশনের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফ্যাশন হাউসটি জানিয়েছে, এই বিশেষ কতুর গাউনটি তৈরি করতে প্রায় ৬০০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। পোশাকটিতে নাটকীয় আবহ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৪০ মিটার দীর্ঘ আইভরি সিল্ক ট্যাফেটা। কাঁধের ওপর ভলিউমিনাস রাফল বা ঢেউখেলানো ভাঁজগুলো দূর থেকে ফুলের পাপড়ির মতো সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছে। নিখুঁত কারিগরি ও সূক্ষ্ম কারুশিল্পের এই পোশাকটি ঐশ্বরিয়ার ফ্যাশন-আবেদনকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেছে।

সমৃদ্ধ এই গাউনটির সঙ্গে ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছেন অত্যন্ত পরিমিত ও মার্জিত সাজ (মিনিমালিস্ট স্টাইলিং)। পোশাকের সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিতে তিনি কোনো ভারী গয়না পরেননি। কানের লম্বা হিরার ঝুমকা ও হাতে থাকা একটি বড় ডায়মন্ড রিং পুরো লুকে ভারসাম্য রক্ষা করেছে। মেকআপেও ছিল পরিশীলিত আভিজাত্যের ছাপ। উজ্জ্বল ত্বক, হালকা শিমারি আইশ্যাডো এবং নিউড-গোলাপি লিপস্টিকের মাধ্যমে তিনি বজায় রেখেছেন তার সিগনেচার ‘সফট গ্ল্যাম লুক’।

চুলের সজ্জায় সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী বেছে নিয়েছিলেন সাইড পার্টেড সফট ওয়েভি স্টাইল, যা তাকে ধ্রুপদী হলিউড গ্ল্যামারের ছোঁয়া দিয়েছে। ফ্যাশন সমালোচকদের মতে, বর্তমান সময়ের ‘কোয়ায়েট লাক্সারি’ বা পরিমিত বিলাসিতার যে ধারা চলছে, ঐশ্বরিয়ার এই পোশাকটি তার একটি সার্থক প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, কয়েক দশক ধরেই কান চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। ২০২৬ সালের আসরে নীল মারমেড গাউন ও সাদা ট্যাক্সিডো লুকে ইতোমধ্যে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। তবে টনি ওয়ার্ডের এই ৭ হাজার মুক্তার কারুকাজ করা অদেখা লুকটি তার দীর্ঘদিনের স্টাইল আইকন ইমেজকে আরও প্রভাবশালী করে তুলেছে। কেবল জাঁকজমক নয়, বরং পরিশীলিত উপস্থাপনা যে প্রকৃত আভিজাত্যের পরিচয়, ঐশ্বরিয়া আবারও সেটিই প্রমাণ করলেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

৭ হাজার মুক্তায় সাজানো গাউন, কান-এ নজর কাড়লেন ঐশ্বরিয়া

আপডেটের সময় : ০৮:২০:২৫ অপরাহ্ণ, বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬

কান চলচ্চিত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চনের ফ্যাশন নিয়ে আলোচনা থামছে না। ২০২৬ সালের এই আসরের লাল গালিচায় একের পর এক চমকপ্রদ পোশাকের পর এবার প্রকাশ্যে এসেছে তার একটি নজরকাড়া অদেখা লুক। আন্তর্জাতিক ফ্যাশন হাউস ‘টনি ওয়ার্ড কতুর’ ঐশ্বরিয়ার সেই বিশেষ পোশাকের ছবি প্রকাশের পর তা এখন ফ্যাশন দুনিয়ায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

বিখ্যাত এই লেবানিজ ডিজাইনারের তৈরি আইভরি-সাদা রঙের একটি স্ট্র্যাপলেস গাউনে ঐশ্বরিয়াকে দেখা গেছে রাজকীয় সাজে। পোশাকটির মূল আকর্ষণ ছিল এর বডিসজুড়ে বসানো সাত হাজারেরও বেশি মুক্তা। ত্রি-মাত্রিক নকশার এই গাউনটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা সমুদ্রের ঢেউয়ের গতিময়তা ফুটিয়ে তুলেছে। প্রতিটি মুক্তা হাতে বসানো এই পোশাকটি আধুনিক হাই-ফ্যাশনের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফ্যাশন হাউসটি জানিয়েছে, এই বিশেষ কতুর গাউনটি তৈরি করতে প্রায় ৬০০ ঘণ্টা সময় লেগেছে। পোশাকটিতে নাটকীয় আবহ তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৪০ মিটার দীর্ঘ আইভরি সিল্ক ট্যাফেটা। কাঁধের ওপর ভলিউমিনাস রাফল বা ঢেউখেলানো ভাঁজগুলো দূর থেকে ফুলের পাপড়ির মতো সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলেছে। নিখুঁত কারিগরি ও সূক্ষ্ম কারুশিল্পের এই পোশাকটি ঐশ্বরিয়ার ফ্যাশন-আবেদনকে আরও এক ধাপ উঁচুতে নিয়ে গেছে।

সমৃদ্ধ এই গাউনটির সঙ্গে ঐশ্বরিয়া বেছে নিয়েছেন অত্যন্ত পরিমিত ও মার্জিত সাজ (মিনিমালিস্ট স্টাইলিং)। পোশাকের সৌন্দর্যকে প্রাধান্য দিতে তিনি কোনো ভারী গয়না পরেননি। কানের লম্বা হিরার ঝুমকা ও হাতে থাকা একটি বড় ডায়মন্ড রিং পুরো লুকে ভারসাম্য রক্ষা করেছে। মেকআপেও ছিল পরিশীলিত আভিজাত্যের ছাপ। উজ্জ্বল ত্বক, হালকা শিমারি আইশ্যাডো এবং নিউড-গোলাপি লিপস্টিকের মাধ্যমে তিনি বজায় রেখেছেন তার সিগনেচার ‘সফট গ্ল্যাম লুক’।

চুলের সজ্জায় সাবেক এই বিশ্বসুন্দরী বেছে নিয়েছিলেন সাইড পার্টেড সফট ওয়েভি স্টাইল, যা তাকে ধ্রুপদী হলিউড গ্ল্যামারের ছোঁয়া দিয়েছে। ফ্যাশন সমালোচকদের মতে, বর্তমান সময়ের ‘কোয়ায়েট লাক্সারি’ বা পরিমিত বিলাসিতার যে ধারা চলছে, ঐশ্বরিয়ার এই পোশাকটি তার একটি সার্থক প্রতিফলন।

উল্লেখ্য, কয়েক দশক ধরেই কান চলচ্চিত্র উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে বিবেচিত হন ঐশ্বরিয়া রাই বচ্চন। ২০২৬ সালের আসরে নীল মারমেড গাউন ও সাদা ট্যাক্সিডো লুকে ইতোমধ্যে তিনি প্রশংসিত হয়েছেন। তবে টনি ওয়ার্ডের এই ৭ হাজার মুক্তার কারুকাজ করা অদেখা লুকটি তার দীর্ঘদিনের স্টাইল আইকন ইমেজকে আরও প্রভাবশালী করে তুলেছে। কেবল জাঁকজমক নয়, বরং পরিশীলিত উপস্থাপনা যে প্রকৃত আভিজাত্যের পরিচয়, ঐশ্বরিয়া আবারও সেটিই প্রমাণ করলেন।

Share this news as a Photo Card