নিউইয়র্ক ১২:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন শ্রোতার সামনে গান শুনিয়ে পারিশ্রমিক পেলেন ১২ কোটি টাকা

  • আপডেটের সময় : ০৫:২৯:০৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
  • ২৭ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

তিনজন শ্রোতার সামনে এক ঘণ্টা গান গেয়ে এক মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন মার্কিন সংগীতশিল্পী একন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১২ কোটি টাকারও বেশি। সম্প্রতি ‘ফ্ল্যাগর‍্যান্ট’ পডকাস্টে ক্যারিয়ারের এই অদ্ভুত কনসার্টের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি ধনী পরিবারের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন একন। পরিবারের এক মেয়ে তার ভীষণ ভক্ত হওয়ায় মূলত তার আবদারেই আয়োজন করা হয়েছিল কনসার্টটির। তবে আয়োজনের ব্যাপকতা দেখে একনও ধারণা করেছিলেন, সেখানে বড় সংখ্যক দর্শক-শ্রোতা উপস্থিত থাকবেন।

কনসার্টে একনের পুরো ট্যুরিং দলও উপস্থিত ছিল। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, লাইটিং টিম, রোড ম্যানেজার ও বিজনেস ম্যানেজারসহ তার দলের সদস্যদের জন্যও ছিল প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে শ্রোতা ছিলেন মাত্র তিনজন।

একন জানান, ওই পরিবারের মেয়েটির বিশেষ অনুরোধে তাকে পুরো এক ঘণ্টা নিজের জনপ্রিয় গান ‘মিস্টার লোনলি’ বারবার গাইতে হয়েছিল। এত বড় আয়োজনের বিপরীতে মাত্র তিনজনের সামনে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতাকে ক্যারিয়ারের অন্যতম অদ্ভুত কনসার্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য একনের জন্য পাঠানো হয়েছিল বিশেষ একটি ৭৪৭ উড়োজাহাজ। একনের ভাষ্য, উড়োজাহাজটিতে ছিল শোবার ঘর, শাওয়ার, গেম রুম ও থিয়েটার। এত বড় আয়োজন দেখে তিনি ভেবেছিলেন, অনুষ্ঠানে নিশ্চয়ই অনেক দর্শক থাকবেন।

কিন্তু মঞ্চে যাওয়ার পর একনের সেই ধারণা বদলে যায়। বিশাল একটি হলের মধ্য দিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছিল বিশাল মঞ্চ, এলইডি লাইট, লেজারসহ নানা আয়োজন। অথচ দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছিল মাত্র তিনটি চেয়ার। 

একন বলেন, ‘তারা আমাকে বিশাল একটি হলের মধ্য দিয়ে নিয়ে গেল। সেখানে ছিল শুধু তিনটি চেয়ার, বিশাল মঞ্চ, এলইডি লাইট, লেজার এবং সবকিছু। আমি মঞ্চের পাশে বসে আমার দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’

এরপর সেখানে আসেন পরিবারের তিন সদস্য—মেয়ে, ছেলে ও স্ত্রী। একনের ভাষায়, মেয়েটি তার ভক্ত হওয়ায় বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। এরপর নিজের নির্ধারিত পরিবেশনা শুরু করেন একন।

কিন্তু অনুষ্ঠানের মাঝপথে মেয়েটি একনকে থামিয়ে দেন। একন জানতে চান, সবকিছু ঠিক আছে কি না। তখন মেয়েটি তার জনপ্রিয় গান ‘মিস্টার লোনলি’ শুনতে চান। একন বলেন, ‘সে বলল, “আমি ‘মিস্টার লোনলি’ শুনতে চাই।” আমি বললাম, “এটাই?” সে বলল, “হ্যাঁ, আগে এটা গাইতে পারেন?”’

একন গানটি গাওয়ার পর মেয়েটি আবারও একই গান শুনতে চান। গান শেষ হওয়ার পর আবারও অনুরোধ আসে। এভাবে পুরো এক ঘণ্টা তাকে শুধু ‘মিস্টার লোনলি’ গানটিই গাইতে হয়েছে বলে জানান একন। তিনি বলেন, ‘গান শেষ হলো, আর সে বলল, “আহা, আবার!” পুরো এক ঘণ্টা। আমরা শুধু সেটাই গেয়েছি।’

ঘটনাটি বলতে গিয়ে একন মজা করে বলেন, তাকে অনেকটা সিডি প্লেয়ারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল। তার পুরো ট্যুরিং দল, সাউন্ড ও লাইটিংয়ের লোকজনসহ সবাই ভেবেছিলেন, এটি বড় একটি কনসার্ট। অথচ শেষ পর্যন্ত তিনজন দর্শকের সামনে একই গান বারবার গেয়েছেন তিনি।

এত বড় আয়োজনের খরচের কথাও জানিয়েছেন একন। তার মতে, তার পারিশ্রমিক ও মঞ্চের আয়োজন মিলিয়ে পুরো অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ লাখ ডলার খরচ হয়েছিল।

পরে পুরো ঘটনা নিয়ে রসিকতা করেন একন। তার মনে হয়েছিল, আগে থেকে যদি তাকে অনুষ্ঠানের ধরন সম্পর্কে বলা হতো, তাহলে এত বড় আয়োজনের প্রয়োজন হতো না। তিনি বলেন, ‘আমি মনে মনে ভাবছিলাম, তারা যদি আগে আমাকে সবকিছু বলে দিত, আমি তাদের এত টাকা বাঁচিয়ে দিতে পারতাম। অর্ধেক টাকা নিয়েই তাদের বসার ঘরে গিয়ে এক ঘণ্টা কারাওকে করতে পারতাম।’ তার কথা শুনে পডকাস্টের সবাই হাসতে থাকেন।

২০০৪ সালে প্রথম অ্যালবাম ‘ট্রাবল’ প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে পরিচিতি পান সেনেগালিজ-আমেরিকান সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও প্রযোজক একন। এই অ্যালবামের ‘লকড আপ’ ও ‘লোনলি’ গান তাকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ‘স্ম্যাক দ্যাট’, ‘আই ওয়ানা লাভ ইউ’, ‘ডোন্ট ম্যাটার’, ‘বিউটিফুল’ ও ‘রাইট নাউ (না না না)’–সহ একাধিক জনপ্রিয় গান উপহার দেন একন। সংগীতের পাশাপাশি প্রযোজক ও উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :
About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জোহরান মামদানি মেয়র হওয়ার বছরেই বিশ্বের এক নম্বর শহর নিউইয়র্ক

একইসঙ্গে পুতিনকে সমর্থন ও ট্রাম্পকে হুঁশিয়ারি উত্তর কোরিয়ার

০৭ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

তিন শ্রোতার সামনে গান শুনিয়ে পারিশ্রমিক পেলেন ১২ কোটি টাকা

আপডেটের সময় : ০৫:২৯:০৭ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

তিনজন শ্রোতার সামনে এক ঘণ্টা গান গেয়ে এক মিলিয়ন ডলার পারিশ্রমিক নিয়েছিলেন মার্কিন সংগীতশিল্পী একন। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ১২ কোটি টাকারও বেশি। সম্প্রতি ‘ফ্ল্যাগর‍্যান্ট’ পডকাস্টে ক্যারিয়ারের এই অদ্ভুত কনসার্টের অভিজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

মধ্যপ্রাচ্যের একটি ধনী পরিবারের ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানে পারফর্ম করতে গিয়েছিলেন একন। পরিবারের এক মেয়ে তার ভীষণ ভক্ত হওয়ায় মূলত তার আবদারেই আয়োজন করা হয়েছিল কনসার্টটির। তবে আয়োজনের ব্যাপকতা দেখে একনও ধারণা করেছিলেন, সেখানে বড় সংখ্যক দর্শক-শ্রোতা উপস্থিত থাকবেন।

কনসার্টে একনের পুরো ট্যুরিং দলও উপস্থিত ছিল। সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ার, লাইটিং টিম, রোড ম্যানেজার ও বিজনেস ম্যানেজারসহ তার দলের সদস্যদের জন্যও ছিল প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠানে শ্রোতা ছিলেন মাত্র তিনজন।

একন জানান, ওই পরিবারের মেয়েটির বিশেষ অনুরোধে তাকে পুরো এক ঘণ্টা নিজের জনপ্রিয় গান ‘মিস্টার লোনলি’ বারবার গাইতে হয়েছিল। এত বড় আয়োজনের বিপরীতে মাত্র তিনজনের সামনে গান গাওয়ার অভিজ্ঞতাকে ক্যারিয়ারের অন্যতম অদ্ভুত কনসার্ট হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য একনের জন্য পাঠানো হয়েছিল বিশেষ একটি ৭৪৭ উড়োজাহাজ। একনের ভাষ্য, উড়োজাহাজটিতে ছিল শোবার ঘর, শাওয়ার, গেম রুম ও থিয়েটার। এত বড় আয়োজন দেখে তিনি ভেবেছিলেন, অনুষ্ঠানে নিশ্চয়ই অনেক দর্শক থাকবেন।

কিন্তু মঞ্চে যাওয়ার পর একনের সেই ধারণা বদলে যায়। বিশাল একটি হলের মধ্য দিয়ে তাকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ছিল বিশাল মঞ্চ, এলইডি লাইট, লেজারসহ নানা আয়োজন। অথচ দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছিল মাত্র তিনটি চেয়ার। 

একন বলেন, ‘তারা আমাকে বিশাল একটি হলের মধ্য দিয়ে নিয়ে গেল। সেখানে ছিল শুধু তিনটি চেয়ার, বিশাল মঞ্চ, এলইডি লাইট, লেজার এবং সবকিছু। আমি মঞ্চের পাশে বসে আমার দর্শকদের জন্য অপেক্ষা করছিলাম।’

এরপর সেখানে আসেন পরিবারের তিন সদস্য—মেয়ে, ছেলে ও স্ত্রী। একনের ভাষায়, মেয়েটি তার ভক্ত হওয়ায় বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। এরপর নিজের নির্ধারিত পরিবেশনা শুরু করেন একন।

কিন্তু অনুষ্ঠানের মাঝপথে মেয়েটি একনকে থামিয়ে দেন। একন জানতে চান, সবকিছু ঠিক আছে কি না। তখন মেয়েটি তার জনপ্রিয় গান ‘মিস্টার লোনলি’ শুনতে চান। একন বলেন, ‘সে বলল, “আমি ‘মিস্টার লোনলি’ শুনতে চাই।” আমি বললাম, “এটাই?” সে বলল, “হ্যাঁ, আগে এটা গাইতে পারেন?”’

একন গানটি গাওয়ার পর মেয়েটি আবারও একই গান শুনতে চান। গান শেষ হওয়ার পর আবারও অনুরোধ আসে। এভাবে পুরো এক ঘণ্টা তাকে শুধু ‘মিস্টার লোনলি’ গানটিই গাইতে হয়েছে বলে জানান একন। তিনি বলেন, ‘গান শেষ হলো, আর সে বলল, “আহা, আবার!” পুরো এক ঘণ্টা। আমরা শুধু সেটাই গেয়েছি।’

ঘটনাটি বলতে গিয়ে একন মজা করে বলেন, তাকে অনেকটা সিডি প্লেয়ারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছিল। তার পুরো ট্যুরিং দল, সাউন্ড ও লাইটিংয়ের লোকজনসহ সবাই ভেবেছিলেন, এটি বড় একটি কনসার্ট। অথচ শেষ পর্যন্ত তিনজন দর্শকের সামনে একই গান বারবার গেয়েছেন তিনি।

এত বড় আয়োজনের খরচের কথাও জানিয়েছেন একন। তার মতে, তার পারিশ্রমিক ও মঞ্চের আয়োজন মিলিয়ে পুরো অনুষ্ঠানে প্রায় ৫০ লাখ ডলার খরচ হয়েছিল।

পরে পুরো ঘটনা নিয়ে রসিকতা করেন একন। তার মনে হয়েছিল, আগে থেকে যদি তাকে অনুষ্ঠানের ধরন সম্পর্কে বলা হতো, তাহলে এত বড় আয়োজনের প্রয়োজন হতো না। তিনি বলেন, ‘আমি মনে মনে ভাবছিলাম, তারা যদি আগে আমাকে সবকিছু বলে দিত, আমি তাদের এত টাকা বাঁচিয়ে দিতে পারতাম। অর্ধেক টাকা নিয়েই তাদের বসার ঘরে গিয়ে এক ঘণ্টা কারাওকে করতে পারতাম।’ তার কথা শুনে পডকাস্টের সবাই হাসতে থাকেন।

২০০৪ সালে প্রথম অ্যালবাম ‘ট্রাবল’ প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক সংগীতাঙ্গনে পরিচিতি পান সেনেগালিজ-আমেরিকান সংগীতশিল্পী, গীতিকার ও প্রযোজক একন। এই অ্যালবামের ‘লকড আপ’ ও ‘লোনলি’ গান তাকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে। পরে ‘স্ম্যাক দ্যাট’, ‘আই ওয়ানা লাভ ইউ’, ‘ডোন্ট ম্যাটার’, ‘বিউটিফুল’ ও ‘রাইট নাউ (না না না)’–সহ একাধিক জনপ্রিয় গান উপহার দেন একন। সংগীতের পাশাপাশি প্রযোজক ও উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

Share this news as a Photo Card