সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধি করে বিচারাধীন মামলার জট দ্রুত কমানোর লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এ চিঠি পাঠান।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ যাত্রা শুরু করে মাত্র চারজন বিচারপতিকে নিয়ে। সে সময় দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ হাজার এবং দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬ কোটি ৪৩ লাখ। বর্তমানে দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি ৮১ লাখে উন্নীত হলেও বিচারাধীন মামলার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৮ লাখ ১৭ হাজারে। এর বিপরীতে আপিল বিভাগে বর্তমানে বিচারপতির সংখ্যা মাত্র আটজন।
চিঠিতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৯ সালে আপিল বিভাগে বিচারপতির সংখ্যা ছিল ১১ জন এবং বিচারাধীন মামলা ছিল ৫ হাজার ২৬৩টি। ২০১১ সালে বিচারপতির সংখ্যা ১০ জন থাকলেও বিচারাধীন মামলা বেড়ে ১২ হাজার ৮৯১টিতে পৌঁছায়। ২০১৭ সালে বিচারপতির সংখ্যা কমে ৯ জন হলেও বিচারাধীন মামলা বৃদ্ধি পেয়ে ১৬ হাজার ৫৭৮টি হয়। ২০২২ সালে বিচারপতির সংখ্যা ৯ জন থাকলেও বিচারাধীন মামলা প্রায় ১৯ হাজার ৯২৮টিতে উন্নীত হয়। ২০২৪ সালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা আরও বেড়ে ৩১ হাজার ১২০টিতে পৌঁছায়, অথচ বিচারপতির সংখ্যা ছিল মাত্র ৮ জন।
তিনি চিঠিতে আরও বলেন, বর্তমান সময়ে আইনের বিভিন্ন শাখায় বিশেষায়িত বিচারব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। কিন্তু আপিল বিভাগে বিচারপতির স্বল্পতার কারণে বিশেষায়িত বেঞ্চ গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না, ফলে গুরুত্বপূর্ণ মামলার নিষ্পত্তি বিলম্বিত হচ্ছে।
প্রতিবেশী ভারতের উদাহরণ তুলে ধরে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার ২০২৬ সালের ১৬ মে সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতির সংখ্যা বৃদ্ধিসংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করে অনুমোদিত বিচারপতির সংখ্যা ৩৪ থেকে ৩৮ জনে উন্নীত করেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে আপিল বিভাগে পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
চিঠির শেষাংশে বিচারাধীন মামলার জট কমিয়ে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার স্বার্থে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিচারপতি নিয়োগের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।


























