নিউইয়র্ক ০৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছি

  • আপডেটের সময় : ০৮:০১:০৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নিজেরাও বিশ্লেষণ করেছি এবং মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও নিয়েছি বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে এনসিপির কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের পরিদর্শন শেষে বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, এনসিপি চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেরাও পর্যালোচনা করেছে। যেসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, সেগুলো মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চেয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি (ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট) নিয়ে আগে এনসিপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংস্কার উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করলেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তারা কোনো পক্ষ নিতে চায় না।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে আমরা দল হিসেবে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। এটি আমাদের জন্য নন-নেগোশিয়েবল। আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। মার্কিন প্রতিনিধিদেরও আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগকে (রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ) সমর্থন করে। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোরই নেওয়া উচিত বলে তারা মনে করে। একই সঙ্গে সরকার, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট হওয়ার আগে এনসিপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি আমরা আগেও একাধিকবার পরিষ্কার করেছি। আজও একই কথা বলেছি। আমরা মনে করি, এত বড় একটি সিদ্ধান্তের আগে এনসিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ থাকার সময় এই চুক্তি হয়নি। তিনি পদত্যাগ করার প্রায় দুই মাস পর চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। ফলে সরকারের ভেতর থেকে এ বিষয়ে জানার সুযোগও তার ছিল না।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে একই ধরনের ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় জাতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তারা মার্কিন প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেড চুক্তি নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও প্রচারণার কথা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, অনেক সত্য-মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে আরও জনসচেতনতা প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসেরও বিষয়টি আরও ভালোভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরা উচিত, যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়।

এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। 

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

আমেরিকানরা ইরান যুদ্ধের বিরোধী নয়: ট্রাম্প

জেন-জি আন্দোলনের মধ্যে ৫ দফা দাবি পেশ করলেন রাহুল গান্ধী

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিশ্লেষণ করেছি

আপডেটের সময় : ০৮:০১:০৯ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে নিজেরাও বিশ্লেষণ করেছি এবং মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও নিয়েছি বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে এনসিপির কার্যালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের পরিদর্শন শেষে বিফ্রিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ বলেন, এনসিপি চুক্তির বিভিন্ন দিক নিয়ে নিজেরাও পর্যালোচনা করেছে। যেসব বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যার প্রয়োজন ছিল, সেগুলো মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে জানতে চেয়েছে। তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যাও পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি (ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট) নিয়ে আগে এনসিপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সংস্কার উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন করলেও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় তারা কোনো পক্ষ নিতে চায় না।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে আমরা দল হিসেবে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছি। এটি আমাদের জন্য নন-নেগোশিয়েবল। আমরা সংসদের ভেতরে ও বাইরে কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। মার্কিন প্রতিনিধিদেরও আমরা এ বিষয়ে আমাদের অবস্থান জানিয়েছি।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তারা বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগকে (রিফর্ম ইনিশিয়েটিভ) সমর্থন করে। তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোরই নেওয়া উচিত বলে তারা মনে করে। একই সঙ্গে সরকার, জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে তাদের আলোচনা চলছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বাণিজ্য চুক্তি প্রসঙ্গে আসিফ মাহমুদ বলেন, ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট হওয়ার আগে এনসিপির সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এটি আমরা আগেও একাধিকবার পরিষ্কার করেছি। আজও একই কথা বলেছি। আমরা মনে করি, এত বড় একটি সিদ্ধান্তের আগে এনসিপির মতো গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের অংশ থাকার সময় এই চুক্তি হয়নি। তিনি পদত্যাগ করার প্রায় দুই মাস পর চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। ফলে সরকারের ভেতর থেকে এ বিষয়ে জানার সুযোগও তার ছিল না।

এনসিপির মুখপাত্র বলেন, চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল বলে বিভিন্ন পক্ষ থেকে একই ধরনের ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের বড় জাতীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করার প্রয়োজনীয়তার কথা তারা মার্কিন প্রতিনিধিদের জানিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রেড চুক্তি নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও প্রচারণার কথা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, অনেক সত্য-মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে। এ বিষয়ে আরও জনসচেতনতা প্রয়োজন। সরকারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসেরও বিষয়টি আরও ভালোভাবে জনগণের কাছে তুলে ধরা উচিত, যাতে ভুল বোঝাবুঝি না হয়।

এর আগে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠক করেন এনসিপির আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। 

Share this news as a Photo Card