নিউইয়র্ক ১১:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আন্তরিক নয় যুক্তরাষ্ট্র: ইসমাইল বাঘাই

  • আপডেটের সময় : ০১:৪০:১৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান। দেশটির অভিযোগ, কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও ওয়াশিংটন বারবার নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন অভিযোগকে সামরিক আগ্রাসনের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার মিথ্যা দাবি করে আসছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানে মার্কিন হামলার কিছুদিন আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এটাকে আপনারা কী বলবেন? এই আচরণের মধ্যে কি কোনো সদিচ্ছা দেখতে পান?’

ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকারও সমালোচনা করেন ইরানের এই মুখপাত্র। তিনি জানান, রাজনৈতিক বিবৃতি ছাড়া আলোচনার বিষয়ে ইউরোপের পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রস্তাব পায়নি তেহরান।

বাঘাইয়ের অভিযোগ, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুসরণ করেছে। এমনকি ইরানে সামরিক হামলার নিন্দা জানাতেও দেশগুলো ব্যর্থ হয়েছে।

ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেনি কিংবা এ ধরনের অস্ত্র অর্জনের চেষ্টাও করেনি বলে দাবি করেন বাঘাই। তিনি বলেন, তেহরান আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে ২০১৫ সালে পরমাণু চুক্তিতে সই করেছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়।

তার অভিযোগ, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের দাবির প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে, এমন অভিযোগ তুলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে কাতারে হামলার শিকার একটি উড়োজাহাজের তিন ইরানি পাইলটের বিষয়েও কথা বলেন বাঘাই। তিনি জানান, ওই পাইলটদের পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব কাতারের।

বাঘাই বলেন, তাদের মৃত্যুর প্রমাণ কিংবা সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র না পাওয়া পর্যন্ত যে দেশে উড়োজাহাজটি হামলার শিকার হয়েছে, সেই দেশকেই দায় নিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে কারিগরি ও আইনি পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

সম্প্রতি কাতারের একটি প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের কথাও নিশ্চিত করেন তিনি। সফরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাঘাই জানান, চলমান সংঘাতের মধ্যে বিভিন্ন পক্ষের বার্তা পৌঁছে দিতে এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে ভূমিকা রাখছে কাতার।

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন ও ইরানে সামরিক হামলার হুমকি প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা কে কত বেশি অপরাধ করতে পারেন, তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ইসরায়েলের ক্ষমতায় কে আসছেন, তা তেহরানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার রাতে রাশিয়া সফরে যাবেন বলে জানান বাঘাই। গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে তার এ সফর। সফরে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হবে।

পাকিস্তান ও ইরাকের সঙ্গে সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। ইসলামাবাদ বিষয়টিকে কারিগরি সমস্যা হিসেবে দেখলেও সম্ভাব্য পরিকল্পিত হামলা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

ইরাকের বিষয়ে বাঘাই বলেন, দেশটিতে ইরানের কূটনৈতিক মিশনগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করছে। তবে বাগদাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ইরাকের জনগণ এবং তেহরান-বাগদাদ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন

নির্বাসন কাটিয়ে ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন নোবেলজয়ী বিরোধী নেত্রী মাচাদো

২৬ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ইরানের সঙ্গে আলোচনায় আন্তরিক নয় যুক্তরাষ্ট্র: ইসমাইল বাঘাই

আপডেটের সময় : ০১:৪০:১৮ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তেহরান। দেশটির অভিযোগ, কূটনৈতিক সমাধানের কথা বললেও ওয়াশিংটন বারবার নিজেদের শর্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে মার্কিন অভিযোগকে সামরিক আগ্রাসনের অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে তেহরান।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলু দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বারবার মিথ্যা দাবি করে আসছে। ২০২৫ সালের জুনে ইরানে মার্কিন হামলার কিছুদিন আগেও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন, ‘এটাকে আপনারা কী বলবেন? এই আচরণের মধ্যে কি কোনো সদিচ্ছা দেখতে পান?’

ইউরোপীয় দেশগুলোর ভূমিকারও সমালোচনা করেন ইরানের এই মুখপাত্র। তিনি জানান, রাজনৈতিক বিবৃতি ছাড়া আলোচনার বিষয়ে ইউরোপের পক্ষ থেকে নতুন কোনো প্রস্তাব পায়নি তেহরান।

বাঘাইয়ের অভিযোগ, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহারের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুসরণ করেছে। এমনকি ইরানে সামরিক হামলার নিন্দা জানাতেও দেশগুলো ব্যর্থ হয়েছে।

ইরান কখনো পরমাণু অস্ত্র তৈরি করেনি কিংবা এ ধরনের অস্ত্র অর্জনের চেষ্টাও করেনি বলে দাবি করেন বাঘাই। তিনি বলেন, তেহরান আন্তরিকতার সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে ২০১৫ সালে পরমাণু চুক্তিতে সই করেছিল। কিন্তু ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে ওই চুক্তি থেকে বেরিয়ে যায়।

তার অভিযোগ, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ইসরায়েলের দাবির প্রভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। ইরান পরমাণু বোমা তৈরি করছে, এমন অভিযোগ তুলে দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের যৌক্তিকতা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।

সংবাদ সম্মেলনে কাতারে হামলার শিকার একটি উড়োজাহাজের তিন ইরানি পাইলটের বিষয়েও কথা বলেন বাঘাই। তিনি জানান, ওই পাইলটদের পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য দেওয়ার দায়িত্ব কাতারের।

বাঘাই বলেন, তাদের মৃত্যুর প্রমাণ কিংবা সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নথিপত্র না পাওয়া পর্যন্ত যে দেশে উড়োজাহাজটি হামলার শিকার হয়েছে, সেই দেশকেই দায় নিতে হবে। বিষয়টি নিয়ে ইরানের সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে কারিগরি ও আইনি পর্যায়ে আলোচনা চলছে।

সম্প্রতি কাতারের একটি প্রতিনিধিদলের তেহরান সফরের কথাও নিশ্চিত করেন তিনি। সফরে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা ও আঞ্চলিক মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাঘাই জানান, চলমান সংঘাতের মধ্যে বিভিন্ন পক্ষের বার্তা পৌঁছে দিতে এবং নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে ভূমিকা রাখছে কাতার।

ইসরায়েলের আসন্ন নির্বাচন ও ইরানে সামরিক হামলার হুমকি প্রসঙ্গে বাঘাই বলেন, ইসরায়েলি রাজনীতিকেরা কে কত বেশি অপরাধ করতে পারেন, তা নিয়ে প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। ইসরায়েলের ক্ষমতায় কে আসছেন, তা তেহরানের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সোমবার রাতে রাশিয়া সফরে যাবেন বলে জানান বাঘাই। গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর একটি শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে তার এ সফর। সফরে রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য জ্বালানি উৎপাদনকারী দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও আলোচনা হবে।

পাকিস্তান ও ইরাকের সঙ্গে সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয় নিয়েও কথা বলেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র। তিনি জানান, পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে। ইসলামাবাদ বিষয়টিকে কারিগরি সমস্যা হিসেবে দেখলেও সম্ভাব্য পরিকল্পিত হামলা ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে।

ইরাকের বিষয়ে বাঘাই বলেন, দেশটিতে ইরানের কূটনৈতিক মিশনগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করছে। তবে বাগদাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ইরাকের জনগণ এবং তেহরান-বাগদাদ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

Share this news as a Photo Card