নিউইয়র্ক ১১:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কানাডায় স্থায়ী হওয়ার প্রলোভনে নারীকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন, দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ড

  • আপডেটের সময় : ০১:৩৯:১২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

কানাডায় কাজের অনুমতিপত্র ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বাংলাদেশি নারীকে মানব পাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন নির্যাতনের দায়ে দুই বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। সাজাপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মাসুমকে ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খবর কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যম সিবিসি নিউজ এবং সিটিভির।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুনের প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায় অনুসারে, মাসুম মানব পাচার ও যৌন নিপীড়নের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, হায়দার মানব পাচারের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১৮ বছর সরকারি চাকরি করা ওই নারী কানাডায় রেস্তোরাঁয় চাকরি এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশায় দেশটিতে আসেন। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি সাসকাচুয়ানের গাল লেক ও টিসডেল এলাকার রেস্তোরাঁয় কাজ করেন।

অভিযোগ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাকে সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হতো। যথাযথ মজুরি দেওয়া হতো না এবং তার কাজের অনুমতিপত্র নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করা হয়েছিল। একপর্যায়ে মাসুম ওই নারীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন এবং তার ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালান। আদালতে এসব অপরাধ প্রমাণিত হয়।

পরে এলরোজ এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কাজের অনুমতিপত্র নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় ওই নারী শোষণের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর তিনি আইনি সহায়তা নেন।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত ভুক্তভোগী নারীর বকেয়া মজুরি বাবদ মাসুমকে ১২ হাজার ২৬৮ কানাডীয় ডলার এবং হায়দারকে ৫ হাজার ৮৮৫ ডলার ১৬ সেন্ট পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই নারী জানান, এই ঘটনার কারণে তার জীবন, সম্মান, ভবিষ্যৎ, পরিবার ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং অন্যদের বিশ্বাস করতে আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। মামলায় ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন রাখতে আদালত প্রকাশনা-নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

কানাডার এই মামলাটি অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে শ্রম শোষণ ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট কিংবা স্থায়ী বসবাসের প্রলোভন দেখিয়ে কাউকে শোষণ করা যে গুরুতর অপরাধ, আদালতের এ রায় তা আবারও তুলে ধরেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াসুও ফুকুদা মারা গেছেন

নির্বাসন কাটিয়ে ভেনেজুয়েলায় ফিরলেন নোবেলজয়ী বিরোধী নেত্রী মাচাদো

২৬ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

কানাডায় স্থায়ী হওয়ার প্রলোভনে নারীকে একাধিকবার যৌন নির্যাতন, দুই বাংলাদেশির কারাদণ্ড

আপডেটের সময় : ০১:৩৯:১২ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

কানাডায় কাজের অনুমতিপত্র ও স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক বাংলাদেশি নারীকে মানব পাচার, শ্রম শোষণ ও যৌন নির্যাতনের দায়ে দুই বাংলাদেশিকে কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। সাজাপ্রাপ্ত মোহাম্মদ মাসুমকে ১৪ বছর এবং সোহেল হায়দারকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। খবর কানাডার স্থানীয় গণমাধ্যম সিবিসি নিউজ এবং সিটিভির।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) কানাডার সাসকাচুয়ান প্রদেশের সাসকাটুনের প্রাদেশিক আদালতের বিচারক মিগুয়েল মার্টিনেজ এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রায় অনুসারে, মাসুম মানব পাচার ও যৌন নিপীড়নের তিনটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, হায়দার মানব পাচারের দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন।

আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১৮ বছর সরকারি চাকরি করা ওই নারী কানাডায় রেস্তোরাঁয় চাকরি এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পাওয়ার আশায় দেশটিতে আসেন। ২০২২ সালের আগস্ট থেকে ২০২৩ সালের মার্চ পর্যন্ত তিনি সাসকাচুয়ানের গাল লেক ও টিসডেল এলাকার রেস্তোরাঁয় কাজ করেন।

অভিযোগ ও আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাকে সপ্তাহে ছয় দিন দীর্ঘ সময় কাজ করতে বাধ্য করা হতো। যথাযথ মজুরি দেওয়া হতো না এবং তার কাজের অনুমতিপত্র নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করা হয়েছিল। একপর্যায়ে মাসুম ওই নারীর পাসপোর্ট নিজের কাছে রেখে দেন এবং তার ওপর একাধিকবার যৌন নির্যাতন চালান। আদালতে এসব অপরাধ প্রমাণিত হয়।

পরে এলরোজ এলাকার একটি রেস্তোরাঁয় কাজের অনুমতিপত্র নিয়ে যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজনের সহযোগিতায় ওই নারী শোষণের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন। এরপর তিনি আইনি সহায়তা নেন।

কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত ভুক্তভোগী নারীর বকেয়া মজুরি বাবদ মাসুমকে ১২ হাজার ২৬৮ কানাডীয় ডলার এবং হায়দারকে ৫ হাজার ৮৮৫ ডলার ১৬ সেন্ট পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে ওই নারী জানান, এই ঘটনার কারণে তার জীবন, সম্মান, ভবিষ্যৎ, পরিবার ও পেশাগত জীবন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এবং অন্যদের বিশ্বাস করতে আগের মতো স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না। মামলায় ভুক্তভোগী নারীর পরিচয় গোপন রাখতে আদালত প্রকাশনা-নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।

কানাডার এই মামলাটি অভিবাসনপ্রত্যাশী ও অস্থায়ী বিদেশি কর্মীদের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে শ্রম শোষণ ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চাকরি, ওয়ার্ক পারমিট কিংবা স্থায়ী বসবাসের প্রলোভন দেখিয়ে কাউকে শোষণ করা যে গুরুতর অপরাধ, আদালতের এ রায় তা আবারও তুলে ধরেছে।

Share this news as a Photo Card