নিউইয়র্ক ০৬:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্রিন কার্ডের জন্য ১ লাখ ডলার ফি নেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

  • আপডেটের সময় : ০৮:৪২:০৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে অগ্রিম এক লাখ মার্কিন ডলার ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। 

দ্য টেলিগ্রাফ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বল্প আয়ের বিদেশিদের অভিবাসন সীমিত করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের কাছে পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এ পরিকল্পনার আওতায় বিদেশে করা স্থায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের জামানত (বন্ড) আরোপ করা হতে পারে। কিছু কর্মকর্তা এ জামানতের পরিমাণ এক লাখ মার্কিন ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

খবরে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র দপ্তর শুরুতে অল্প কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই নীতি চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করছে।

আবেদনকারীদের এই জামানতের অর্থ জমা দিতে হবে। ব্যক্তিভেদে এর পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। পরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে সেই অর্থ ফেরত পাবেন। তবে নাগরিকত্ব পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

সূত্রগুলোর মতে, এই জামানতের উদ্দেশ্য হলো এটি এমন এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করবে, যাতে কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের আর্থিক চাহিদা পূরণে অক্ষম হলে সরকারের জন্য একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে চান, তাদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে।’

তিনি বলেন, পররাষ্ট্র দপ্তর কিছু ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে জামানত জমা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে, যাতে তারা নিজেদের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রাপ্যতা প্রমাণ করতে পারেন।

এই বিপুল অঙ্কের জামানত মূলত নিম্ন আয়ের দেশগুলো থেকে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশি আয়ের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক অনেক বিদেশির পক্ষেই সম্ভবত এত বড় অঙ্কের জামানত দেওয়া সম্ভব হবে না।

এ ধরনের ভিসা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করেন। এর মধ্যে স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা কিংবা ভাই-বোনও অন্তর্ভুক্ত। গত বছর প্রশাসন এ ধরনের পাঁচ লাখ ভিসা ইস্যু করেছিল।

সীমিত আয়ের বিদেশি নাগরিকদের অভিবাসন প্রতিহত করার জন্য হোয়াইট হাউসের অন্যান্য প্রচেষ্টার পর এই জামানতের প্রস্তাবটি এসেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে, প্রশাসন ৭৫টি নির্দিষ্ট দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ওপর একটি ব্যাপক এবং অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশ জারি করেছে। জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা স্থগিত করার এ নীতি এখনও বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

জুনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-ওয়ান-বি ভিসার আবেদন জমা দেওয়া নিয়োগদাতাদের ওপরে এক লাখ মার্কিন ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগে বাধার মুখে পড়েন।

একজন ফেডারেল বিচারক রায় দেন, নতুন এইচ-ওয়ান-বি ভিসা ফি আরোপ করে প্রশাসন তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। বিচারকের মতে, এই ফি কার্যত একটি করের মতো, আর এমন কর আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে।

গত বছর ট্রাম্প ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ নামে দ্রুতগতিতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার একটি কর্মসূচিও চালু করেন। এর জন্য খরচ ধরা হয় ১০ লাখ মার্কিন ডলার, পাশাপাশি ১৫ হাজার মার্কিন ডলার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি।

কর্মসূচিটি নিয়ে প্রশাসনের সমালোচকেরা উপহাস করেন, কারণ এতে আগ্রহ ছিল খুবই কম। মে পর্যন্ত মাত্র ৩৩৮ জন আবেদন করেছিলেন এবং তাদের মধ্যে মাত্র একটি আবেদন অনুমোদন পেয়েছিল।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘এটাই রাজনৈতিক যাত্রার শেষ’, বিদায়ী ভাষণে স্টারমার

১৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

গ্রিন কার্ডের জন্য ১ লাখ ডলার ফি নেওয়ার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

আপডেটের সময় : ০৮:৪২:০৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করতে অগ্রিম এক লাখ মার্কিন ডলার ফি আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। 

দ্য টেলিগ্রাফ এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বল্প আয়ের বিদেশিদের অভিবাসন সীমিত করার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের কাছে পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এ পরিকল্পনার আওতায় বিদেশে করা স্থায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদনগুলোর ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের জামানত (বন্ড) আরোপ করা হতে পারে। কিছু কর্মকর্তা এ জামানতের পরিমাণ এক লাখ মার্কিন ডলার করার প্রস্তাব দিয়েছেন।

খবরে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্র দপ্তর শুরুতে অল্প কয়েকটি দেশে পরীক্ষামূলকভাবে এই নীতি চালুর বিষয়টিও বিবেচনা করছে।

আবেদনকারীদের এই জামানতের অর্থ জমা দিতে হবে। ব্যক্তিভেদে এর পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। পরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে সেই অর্থ ফেরত পাবেন। তবে নাগরিকত্ব পেতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

সূত্রগুলোর মতে, এই জামানতের উদ্দেশ্য হলো এটি এমন এক ধরনের আর্থিক নিশ্চয়তা হিসেবে কাজ করবে, যাতে কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের আর্থিক চাহিদা পূরণে অক্ষম হলে সরকারের জন্য একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন করতে চান, তাদের অবশ্যই আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে।’

তিনি বলেন, পররাষ্ট্র দপ্তর কিছু ভিসা আবেদনকারীর কাছ থেকে জামানত জমা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে, যাতে তারা নিজেদের ভরণপোষণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের প্রাপ্যতা প্রমাণ করতে পারেন।

এই বিপুল অঙ্কের জামানত মূলত নিম্ন আয়ের দেশগুলো থেকে গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদনকারীদের নিরুৎসাহিত করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেশি আয়ের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক অনেক বিদেশির পক্ষেই সম্ভবত এত বড় অঙ্কের জামানত দেওয়া সম্ভব হবে না।

এ ধরনের ভিসা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের পরিবারের সদস্যরা ব্যবহার করেন। এর মধ্যে স্বামী বা স্ত্রী, বাবা-মা কিংবা ভাই-বোনও অন্তর্ভুক্ত। গত বছর প্রশাসন এ ধরনের পাঁচ লাখ ভিসা ইস্যু করেছিল।

সীমিত আয়ের বিদেশি নাগরিকদের অভিবাসন প্রতিহত করার জন্য হোয়াইট হাউসের অন্যান্য প্রচেষ্টার পর এই জামানতের প্রস্তাবটি এসেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে, প্রশাসন ৭৫টি নির্দিষ্ট দেশের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়াকরণের ওপর একটি ব্যাপক এবং অনির্দিষ্টকালের স্থগিতাদেশ জারি করেছে। জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা স্থগিত করার এ নীতি এখনও বিভিন্ন আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

জুনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-ওয়ান-বি ভিসার আবেদন জমা দেওয়া নিয়োগদাতাদের ওপরে এক লাখ মার্কিন ডলারের ফি আরোপের উদ্যোগে বাধার মুখে পড়েন।

একজন ফেডারেল বিচারক রায় দেন, নতুন এইচ-ওয়ান-বি ভিসা ফি আরোপ করে প্রশাসন তাদের সাংবিধানিক ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে। বিচারকের মতে, এই ফি কার্যত একটি করের মতো, আর এমন কর আরোপের ক্ষমতা কেবল কংগ্রেসের রয়েছে।

গত বছর ট্রাম্প ‘ট্রাম্প গোল্ড কার্ড’ নামে দ্রুতগতিতে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার একটি কর্মসূচিও চালু করেন। এর জন্য খরচ ধরা হয় ১০ লাখ মার্কিন ডলার, পাশাপাশি ১৫ হাজার মার্কিন ডলার আবেদন প্রক্রিয়াকরণ ফি।

কর্মসূচিটি নিয়ে প্রশাসনের সমালোচকেরা উপহাস করেন, কারণ এতে আগ্রহ ছিল খুবই কম। মে পর্যন্ত মাত্র ৩৩৮ জন আবেদন করেছিলেন এবং তাদের মধ্যে মাত্র একটি আবেদন অনুমোদন পেয়েছিল।

Share this news as a Photo Card