নিউইয়র্ক ০৬:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ট্রাম্পের চেহারা-সংবলিত ১ ডলারের কয়েন আনবে যুক্তরাষ্ট্র

  • আপডেটের সময় : ০৮:৪৫:২৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ০ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত ১ ডলারের একটি সোনালি রঙের নতুন স্মারক কয়েন তৈরি করবে দেশটির রাষ্ট্রীয় মুদ্রা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ইউএস মিন্ট’। চলতি সপ্তাহে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

নতুন এই মুদ্রার একদিকে ট্রাম্পের চেহারার পাশে ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ (আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি) বাক্যটি লেখা থাকবে। মুদ্রার চারপাশ ঘিরে থাকবে লেখা থাকবে ‘লিবার্টি’ (স্বাধীনতা) এবং ‘১৭৭৬-২০২৬’ সাল। মুদ্রার অপর পিঠে থাকবে একটি ঈগলের প্রতিকৃতি। যার এক পায়ে থাকবে তির এবং অন্য পায়ে জলপাইয়ের শাখা।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা সরকারি মুদ্রা এবং নথিপত্রে প্রেসিডেন্টের নাম ও ছবি ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত স্মারক পাসপোর্ট এবং নতুন মুদ্রিত ১০০ ডলারের নোটে তার স্বাক্ষর যুক্ত করার উদ্যোগ এর মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণের মুদ্রা এবং ২৫০ ডলারের স্মারক নোটে ট্রাম্পের ছবি রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, ‘এই মুদ্রা আমেরিকান মূল্যবোধের শক্তি এবং সবার জন্য স্বাধীনতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এক জাতির অঙ্গীকারকে উদ্‌যাপন করে।’

কয়েনটির প্রাথমিক খসড়া নকশায় পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্পের ওপর হওয়া হামলার স্মৃতি স্মরণে ট্রাম্পের মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবি এবং ‘ফাইট ফাইট ফাইট’ (লড়াই লড়াই লড়াই) কথাটি রাখার প্রস্তাব ছিল। তবে ১ ডলারের কয়েনে কোনো জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি রাখা আইনসম্মত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

২০২০ সালে পাস হওয়া এক আইন অনুযায়ী, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১ ডলারের কয়েন তৈরি করতে পারে ট্রেজারি বিভাগ। তবে মার্কিন বিধি অনুযায়ী, সাধারণত কেবল মৃত ব্যক্তিদের ছবিই কয়েনে ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। 

আইনি বাধার বিষয়ে বেসেন্ট ফক্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০ বছর পূর্তিতে ক্যালভিন কুলিজের ছবি সংবলিত কয়েন তৈরি করা হয়েছিল। তাই মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি রাখা সম্ভব।

মুদ্রার চূড়ান্ত নকশাটি ট্রাম্প মনোনীত সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘কমিশন অব ফাইন আর্টস’-এর সুপারিশ করা নকশার চেয়ে কিছুটা আলাদা। কমিশন ট্রাম্পের পার্শ্বচিত্র (প্রোফাইল) সুপারিশ করলেও চূড়ান্ত নকশায় তার সরাসরি সামনের দিকের ছবি রাখা হয়েছে। মুদ্রার নকশার ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

ইউএস মিন্ট-এর নকশা ব্যবস্থাপনা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেগান সুলিভান জানান, তারা আইনি গবেষণা করে দেখেছেন যে এই মুদ্রার নকশা কোনো আইন লঙ্ঘন করে না। সুলিভান জানান, মুদ্রাটি ২৫ সেন্টের মুদ্রার চেয়ে আকারে কিছুটা বড় হবে, এটি ম্যাঙ্গানিজ ব্রাস দিয়ে তৈরি হবে এবং দেখতে হবে সোনালি রঙের।

উল্লেখ্য, এই ১ ডলারের মুদ্রাগুলো ট্রেজারি বিভাগের তৈরি ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের মুদ্রা থেকে আলাদা, যার বাজারমূল্য কয়েক হাজার ডলার। গত জুনে সিনেট ডেমোক্র্যাটরা স্বর্ণের মুদ্রা উৎপাদন বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল যে ইউএস মিন্ট-এর স্বর্ণের সাথে বিদেশি অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘এটাই রাজনৈতিক যাত্রার শেষ’, বিদায়ী ভাষণে স্টারমার

১৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ট্রাম্পের চেহারা-সংবলিত ১ ডলারের কয়েন আনবে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটের সময় : ০৮:৪৫:২৬ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি সংবলিত ১ ডলারের একটি সোনালি রঙের নতুন স্মারক কয়েন তৈরি করবে দেশটির রাষ্ট্রীয় মুদ্রা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘ইউএস মিন্ট’। চলতি সপ্তাহে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।

নতুন এই মুদ্রার একদিকে ট্রাম্পের চেহারার পাশে ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ (আমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করি) বাক্যটি লেখা থাকবে। মুদ্রার চারপাশ ঘিরে থাকবে লেখা থাকবে ‘লিবার্টি’ (স্বাধীনতা) এবং ‘১৭৭৬-২০২৬’ সাল। মুদ্রার অপর পিঠে থাকবে একটি ঈগলের প্রতিকৃতি। যার এক পায়ে থাকবে তির এবং অন্য পায়ে জলপাইয়ের শাখা।

দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ট্রাম্প ও তার সহযোগীরা সরকারি মুদ্রা এবং নথিপত্রে প্রেসিডেন্টের নাম ও ছবি ব্যবহারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত স্মারক পাসপোর্ট এবং নতুন মুদ্রিত ১০০ ডলারের নোটে তার স্বাক্ষর যুক্ত করার উদ্যোগ এর মধ্যে অন্যতম। এ ছাড়া ২৪ ক্যারেটের স্বর্ণের মুদ্রা এবং ২৫০ ডলারের স্মারক নোটে ট্রাম্পের ছবি রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বেসেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক পোস্টে জানান, ‘এই মুদ্রা আমেরিকান মূল্যবোধের শক্তি এবং সবার জন্য স্বাধীনতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এক জাতির অঙ্গীকারকে উদ্‌যাপন করে।’

কয়েনটির প্রাথমিক খসড়া নকশায় পেনসিলভানিয়ায় নির্বাচনী জনসভায় ট্রাম্পের ওপর হওয়া হামলার স্মৃতি স্মরণে ট্রাম্পের মুষ্টিবদ্ধ হাতের ছবি এবং ‘ফাইট ফাইট ফাইট’ (লড়াই লড়াই লড়াই) কথাটি রাখার প্রস্তাব ছিল। তবে ১ ডলারের কয়েনে কোনো জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি রাখা আইনসম্মত কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

২০২০ সালে পাস হওয়া এক আইন অনুযায়ী, স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ১ ডলারের কয়েন তৈরি করতে পারে ট্রেজারি বিভাগ। তবে মার্কিন বিধি অনুযায়ী, সাধারণত কেবল মৃত ব্যক্তিদের ছবিই কয়েনে ব্যবহারের অনুমতি রয়েছে। 

আইনি বাধার বিষয়ে বেসেন্ট ফক্স নিউজকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ১৫০ বছর পূর্তিতে ক্যালভিন কুলিজের ছবি সংবলিত কয়েন তৈরি করা হয়েছিল। তাই মুদ্রায় জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি রাখা সম্ভব।

মুদ্রার চূড়ান্ত নকশাটি ট্রাম্প মনোনীত সদস্যদের নিয়ে গঠিত ‘কমিশন অব ফাইন আর্টস’-এর সুপারিশ করা নকশার চেয়ে কিছুটা আলাদা। কমিশন ট্রাম্পের পার্শ্বচিত্র (প্রোফাইল) সুপারিশ করলেও চূড়ান্ত নকশায় তার সরাসরি সামনের দিকের ছবি রাখা হয়েছে। মুদ্রার নকশার ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

ইউএস মিন্ট-এর নকশা ব্যবস্থাপনা দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেগান সুলিভান জানান, তারা আইনি গবেষণা করে দেখেছেন যে এই মুদ্রার নকশা কোনো আইন লঙ্ঘন করে না। সুলিভান জানান, মুদ্রাটি ২৫ সেন্টের মুদ্রার চেয়ে আকারে কিছুটা বড় হবে, এটি ম্যাঙ্গানিজ ব্রাস দিয়ে তৈরি হবে এবং দেখতে হবে সোনালি রঙের।

উল্লেখ্য, এই ১ ডলারের মুদ্রাগুলো ট্রেজারি বিভাগের তৈরি ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের মুদ্রা থেকে আলাদা, যার বাজারমূল্য কয়েক হাজার ডলার। গত জুনে সিনেট ডেমোক্র্যাটরা স্বর্ণের মুদ্রা উৎপাদন বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। তাদের আশঙ্কা ছিল যে ইউএস মিন্ট-এর স্বর্ণের সাথে বিদেশি অপরাধী চক্রের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

Share this news as a Photo Card