নিউইয়র্ক ০৪:৪৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, যারা পাবেন

  • আপডেটের সময় : ০৪:৩৭:২৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

দেশের তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে একটি নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট থেকে ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ শীর্ষক এই নতুন নীতিমালা জারি করা হয়।

দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এই নীতিমালার আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন সুবিধা লাভ করবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, এই তহবিলের সুফল পেতে হলে আবেদনকারীর বয়স আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে এবং তাকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা ও বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। তবে ঋণখেলাপি ব্যক্তি, পূর্বে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক ঋণ গ্রহণকারী এবং সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত হবেন না। কারিগরি স্টার্টআপ, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হস্তশিল্পসহ যেকোনো বৈধ নতুন বা বিদ্যমান ব্যবসায়িক উদ্যোগ এই অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হবে।

ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স: অর্ধেক ঋণ ও অর্ধেক অনুদান:

ব্যবসায়ের প্রকৃত প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ব্যয় মূল্যায়ন করে একজন উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স’ প্রদান করা হবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা ম্যাচিং গ্র্যান্ট বা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ—কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসায় ১২ লাখ টাকার প্রয়োজন হলে তিনি ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পাবেন, যা একই সময়ে তার ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। তবে শর্ত রয়েছে যে, ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কিংবা অর্থের কোনো অপব্যবহার করা হলে অনুদানের অংশটিও সুদমুক্ত ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং পরবর্তী সময়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা আদায় করা হবে।

উদ্যোক্তা বাছাই প্রক্রিয়া ও অতিরিক্ত সহায়তা:

স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য উদ্যোক্তা বাছাইয়ের জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখা থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। পরবর্তীতে উপজেলা ও জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদনগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে। ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বাজার সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, সফল উদ্যোক্তা, শিল্প খাত ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ প্যানেল কাজ করবে। চূড়ান্ত বাছাইয়ের পর মনোনীত উদ্যোক্তাদের ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, শুধু অর্থায়ন প্রদানই নয়, বরং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বাজার সংযোগ এবং ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যবসা নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কাশ্মীরে ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ইন্টারনেট

ভাঙনের পথে যুক্তরাজ্য

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

জামানত ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত দেবে বাংলাদেশ ব্যাংক, যারা পাবেন

আপডেটের সময় : ০৪:৩৭:২৫ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করতে একটি নতুন অর্থায়ন কর্মসূচি চালু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের এসএমই অ্যান্ড স্পেশাল প্রোগ্রামস ডিপার্টমেন্ট থেকে ‘উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ শীর্ষক এই নতুন নীতিমালা জারি করা হয়।

দেশের সকল তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এই নীতিমালার আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন সুবিধা লাভ করবেন।

নীতিমালা অনুযায়ী, এই তহবিলের সুফল পেতে হলে আবেদনকারীর বয়স আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে এবং তাকে সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা ও বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। তবে ঋণখেলাপি ব্যক্তি, পূর্বে কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যবসায়িক ঋণ গ্রহণকারী এবং সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এই কর্মসূচির আওতাভুক্ত হবেন না। কারিগরি স্টার্টআপ, কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও হস্তশিল্পসহ যেকোনো বৈধ নতুন বা বিদ্যমান ব্যবসায়িক উদ্যোগ এই অর্থায়নের জন্য বিবেচিত হবে।

ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স: অর্ধেক ঋণ ও অর্ধেক অনুদান:

ব্যবসায়ের প্রকৃত প্রয়োজন ও সম্ভাব্য ব্যয় মূল্যায়ন করে একজন উদ্যোক্তাকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স’ প্রদান করা হবে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ এবং বাকি ১০ লাখ টাকা ম্যাচিং গ্র্যান্ট বা অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে। উদাহরণস্বরূপ—কোনো উদ্যোক্তার ব্যবসায় ১২ লাখ টাকার প্রয়োজন হলে তিনি ৬ লাখ টাকা ঋণ এবং ৬ লাখ টাকা অনুদান পাবেন, যা একই সময়ে তার ব্যাংক হিসাবে জমা হবে। তবে শর্ত রয়েছে যে, ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কিংবা অর্থের কোনো অপব্যবহার করা হলে অনুদানের অংশটিও সুদমুক্ত ঋণে রূপান্তরিত হবে এবং পরবর্তী সময়ে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তা আদায় করা হবে।

উদ্যোক্তা বাছাই প্রক্রিয়া ও অতিরিক্ত সহায়তা:

স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যোগ্য উদ্যোক্তা বাছাইয়ের জন্য প্রতিটি উপজেলায় একটি করে লিড ব্যাংক নির্ধারণ করবে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের শাখা থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়া যাবে। পরবর্তীতে উপজেলা ও জেলা লিড ব্যাংকের মাধ্যমে আবেদনগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হবে। ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, বাজার সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক, তফসিলি ব্যাংক, সফল উদ্যোক্তা, শিল্প খাত ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে গঠিত একটি বিশেষ প্যানেল কাজ করবে। চূড়ান্ত বাছাইয়ের পর মনোনীত উদ্যোক্তাদের ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া, শুধু অর্থায়ন প্রদানই নয়, বরং অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের আর্থিক সাক্ষরতা প্রশিক্ষণ, মেন্টরিং, বাজার সংযোগ এবং ট্রেড লাইসেন্স বা ব্যবসা নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করবে।

Share this news as a Photo Card