নিউইয়র্ক ০৪:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

  • আপডেটের সময় : ০৪:৫০:১০ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

১৪ বছর আগে ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।  

রোববার (১৯ জুলাই) ঠাকুরগাঁও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামিদের উপস্থিতিতে দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলাল। রায় ঘোষণার সময় আনিস রানা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. আনিছুর, মো. খতিবুর ওরফে খতু এবং মো. লালু। দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামির বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মুসলিমনগর ও গোয়ালপাড়া এলাকায়।

রায়ের বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকা করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারা বা জেল কোডের বিধান অনুযায়ী কোনো ধরনের সাজা মওকুফ বা রেমিশন সুবিধা পাবেন না।

আসামিদের এই জরিমানা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে দণ্ডিতদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় করে সেই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণীতে আরও জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় বান্ধবীর বাসা থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে এনামুল পেট্রোল পাম্পের পেছনে ওই স্কুলছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে অপহরণ করা হয়। পরে পাম্পের পেছনে বাঁশ হাটের পাশে একটি মোবাইল টাওয়ারের নিচে নিয়ে আসামিরা তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে এবং অন্য আসামিরা এতে সহায়তা করে। ঘটনার তিন দিন পর ২৪ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

ইরান সমঝোতা স্মারক থেকে বেরিয়ে গেলে কিছুই যায় আসে না: ডোনাল্ড ট্রাম্প

নিউইয়র্কের এশিয়ান কমিউনিটির পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন সিটি কাউন্সিল স্পিকার

১৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

ঠাকুরগাঁওয়ে ধর্ষণ মামলায় তিনজনের আমৃত্যু কারাদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন

আপডেটের সময় : ০৪:৫০:১০ পূর্বাহ্ণ, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

১৪ বছর আগে ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুলছাত্রীকে তুলে নিয়ে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় করা মামলায় তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।  

রোববার (১৯ জুলাই) ঠাকুরগাঁও শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামিদের উপস্থিতিতে দুপুরে এই রায় ঘোষণা করেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলাল। রায় ঘোষণার সময় আনিস রানা পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. আনিছুর, মো. খতিবুর ওরফে খতু এবং মো. লালু। দণ্ডপ্রাপ্ত সব আসামির বাড়ি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার মুসলিমনগর ও গোয়ালপাড়া এলাকায়।

রায়ের বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির প্রত্যেককে ২ লক্ষ টাকা করে এবং যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির প্রত্যেককে ১ লক্ষ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারা বা জেল কোডের বিধান অনুযায়ী কোনো ধরনের সাজা মওকুফ বা রেমিশন সুবিধা পাবেন না।

আসামিদের এই জরিমানা ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৬ ধারা অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসককে দণ্ডিতদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রয় করে সেই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার বিবরণীতে আরও জানা যায়, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় বান্ধবীর বাসা থেকে নিজ বাড়ি ফেরার পথে এনামুল পেট্রোল পাম্পের পেছনে ওই স্কুলছাত্রীকে মুখ চেপে ধরে অপহরণ করা হয়। পরে পাম্পের পেছনে বাঁশ হাটের পাশে একটি মোবাইল টাওয়ারের নিচে নিয়ে আসামিরা তাকে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে এবং অন্য আসামিরা এতে সহায়তা করে। ঘটনার তিন দিন পর ২৪ অক্টোবর ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

Share this news as a Photo Card