নিউইয়র্ক ০৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পুলিশের গাড়ির সামনে রাড্ডার সরঞ্জাম লুটপাট হয়েছে: ফুয়াদ

  • আপডেটের সময় : ০১:২১:০০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে ভেঙে দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার থেকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ তুলেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তার দাবি, পুলিশের গাড়ির সামনেই হাসপাতালের ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতি ট্রাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘কোটি কোটি টাকার ইনস্ট্রুমেন্ট এখান থেকে চুরি করা হয়েছে। পুলিশের গাড়ির সামনে, আমরা দেখেছি সিসিটিভি ফুটেজে। এটার সামনে পুলিশের গাড়ি দাঁড়ানো ছিল, যখন এখান থেকে হাসপাতালের ফার্নিচার এবং ইক্যুইপমেন্টগুলো চুরি করে ট্রাকে উঠানো হচ্ছে।’

এ ঘটনায় শুধু রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা নয়, প্রশাসনেরও সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ফুয়াদ বলেন, ‘কারা এটার জন্য দায়ী ছিল? শুধুমাত্র রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা না, এখানে প্রশাসনের পরিষ্কার ইঙ্গিত ছিল। এখানকার একাধিক সরকারি দলীয় এমপিদের গ্রুপিং আছে।’

হাসপাতালটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ফুয়াদ বলেন, এ ধরনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা গাজায় যে ইনভেশন করে, অথবা বিজেপি-আরএসএসের সরকার গত ১০-১২ বছরে যেভাবে শত শত মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ভারতে বুলডোজ করে দিয়েছে, তার একটা নমুনা আসলে দেখলাম।’

ফুয়াদ আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মানুষের জন্য নয়; কমিউনিটির সবাই এটি ব্যবহার করেন। ফলে এমন একটি প্রতিষ্ঠান বুলডোজ করে দেওয়া আরও গুরুতর ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এর আগে আমরা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনায় চাঁদাবাজি, খুন-খারাপি, সন্ত্রাসী—এগুলো দেখেছি। কিন্তু রাতের আঁধারে এ রকম একটা প্রতিষ্ঠান, যেটা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যেটা সব দলের লোকরা ব্যবহার করে।’

হাসপাতালের ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে ফুয়াদ বলেন, ‘এখানকার হাসপাতালের স্টাফরা ট্রমাটাইজড। উনাদের সঙ্গে যে আমরা কথা বলেছি, উনারা প্রচণ্ড ভীতিকর অবস্থায় বাস করছেন। উনাদের এই ভয় এবং ট্রমা কাটানোর জন্য যা যা করা দরকার, সেটা করবেন।’

জনমনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ গুরুতর আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের তরফ থেকে আমরা শক্ত বক্তব্য দেখতে চাই।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দক্ষিণের সীমানা পেরিয়ে এবার বাংলায় পা রাখল থালাপতি বিজয়ের দল

দক্ষিণ আফ্রিকায় ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

পুলিশের গাড়ির সামনে রাড্ডার সরঞ্জাম লুটপাট হয়েছে: ফুয়াদ

আপডেটের সময় : ০১:২১:০০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে ভেঙে দেওয়া রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার থেকে কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম লুটের অভিযোগ তুলেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ। তার দাবি, পুলিশের গাড়ির সামনেই হাসপাতালের ফার্নিচার ও যন্ত্রপাতি ট্রাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগ করেন তিনি।

আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ‘কোটি কোটি টাকার ইনস্ট্রুমেন্ট এখান থেকে চুরি করা হয়েছে। পুলিশের গাড়ির সামনে, আমরা দেখেছি সিসিটিভি ফুটেজে। এটার সামনে পুলিশের গাড়ি দাঁড়ানো ছিল, যখন এখান থেকে হাসপাতালের ফার্নিচার এবং ইক্যুইপমেন্টগুলো চুরি করে ট্রাকে উঠানো হচ্ছে।’

এ ঘটনায় শুধু রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা নয়, প্রশাসনেরও সম্পৃক্ততার ইঙ্গিত রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ফুয়াদ বলেন, ‘কারা এটার জন্য দায়ী ছিল? শুধুমাত্র রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা না, এখানে প্রশাসনের পরিষ্কার ইঙ্গিত ছিল। এখানকার একাধিক সরকারি দলীয় এমপিদের গ্রুপিং আছে।’

হাসপাতালটি বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে ফুয়াদ বলেন, এ ধরনের সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের ঘটনা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।

তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা গাজায় যে ইনভেশন করে, অথবা বিজেপি-আরএসএসের সরকার গত ১০-১২ বছরে যেভাবে শত শত মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা ভারতে বুলডোজ করে দিয়েছে, তার একটা নমুনা আসলে দেখলাম।’

ফুয়াদ আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের মানুষের জন্য নয়; কমিউনিটির সবাই এটি ব্যবহার করেন। ফলে এমন একটি প্রতিষ্ঠান বুলডোজ করে দেওয়া আরও গুরুতর ঘটনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এর আগে আমরা রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনায় চাঁদাবাজি, খুন-খারাপি, সন্ত্রাসী—এগুলো দেখেছি। কিন্তু রাতের আঁধারে এ রকম একটা প্রতিষ্ঠান, যেটা সেবামূলক প্রতিষ্ঠান, যেটা সব দলের লোকরা ব্যবহার করে।’

হাসপাতালের ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়ে ফুয়াদ বলেন, ‘এখানকার হাসপাতালের স্টাফরা ট্রমাটাইজড। উনাদের সঙ্গে যে আমরা কথা বলেছি, উনারা প্রচণ্ড ভীতিকর অবস্থায় বাস করছেন। উনাদের এই ভয় এবং ট্রমা কাটানোর জন্য যা যা করা দরকার, সেটা করবেন।’

জনমনে নিরাপত্তাহীনতার বোধ গুরুতর আকার ধারণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনাদের তরফ থেকে আমরা শক্ত বক্তব্য দেখতে চাই।’

Share this news as a Photo Card