নিউইয়র্ক ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রেকর্ড গড়লেন এমবাপ্পে, ইন্টার মিলানকে হারালো রিয়াল মাদ্রিদ

  • আপডেটের সময় : ১০:৩৫:০৬ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে ইন্টার মিলানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নতুন মৌসুমের যাত্রা শুরু করল রিয়াল মাদ্রিদ। সাবেক ক্লাব ইন্টারের বিরুদ্ধে এই জয় দিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নতুন মেয়াদে যাত্রাটা দারুণভাবে শুরু করলেন পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনিয়ো। রিয়ালের হয়ে একটি করে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ফেডেরিকো ভালভার্দে।

তবে স্কোরলাইন যতটা স্বস্তির, ম্যাচটা ঠিক ততটা স্বস্তিদায়ক ছিল না রিয়াল মাদ্রিদের জন্য।

অন্তত প্রথম ২০ মিনিট দেখে মনে হয়নি এই ম্যাচটা রিয়ালের হতে পারে। তৃতীয় মিনিটেই মার্কোস থুরামের হাফ ভলি দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। এরপর হাকান চালহানোলুর ফ্রি কিকও একই পরিণতি পায়। ইন্টার তখন বার্নাব্যুর বাতাসে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। কিন্তু ফুটবলে কখনো কখনো সুযোগ তৈরি করার চেয়ে প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষা করাটাই বেশি কার্যকর।

১৪তম মিনিটে ইন্টারের ডিফেন্সের একটি মারাত্মক ভুল কাজে লাগায় স্বাগতিকরা। ইন্টারের কার্টিস জোন্সের একটি দুর্বল পাসের কারণে ইয়ান বিসেক চাপে পড়ে যান। এই সুযোগে ব্রাহিম দিয়াজ বল কেড়ে নিয়ে বাড়িয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পের দিকে। বল পেয়েই দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে এবং দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের হয়ে এমবাপ্পের আরেকটি রাত, আর ইউরোপিয়ান কাপে গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৭১, যেখানে তার পাশে এখন রাউল গঞ্জালেস।

নয় মিনিট পর আবারও ইন্টারের উপহার। বেনজামিন পাভারের ব্যাকপাস পেয়ে গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজ বল নিয়ে অযথা সময় নিলেন। ফেদেরিকো ভালভার্দে ছুটে এসে বল কেড়ে নিলেন। এরপর সেটি গড়িয়ে গেল ইন্টারের জালে। ২-০। রিয়াল তখন পর্যন্ত লক্ষ্যে শটই নিয়েছিল মাত্র একটি!

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ইন্টার ভেঙে পড়েনি। কার্টিস জোন্সের শট ক্রসবারে লাগে। বিরতির ঠিক আগে এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম ও ব্রাহিম দিয়াজ মিলে তৃতীয় গোলের যে সুযোগ তৈরি করেছিলেন, সেটিও অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যায় ইন্টার।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন অন্য এক ম্যাচ। ইন্টার একের পর এক আক্রমণ করেছে। জোন্সের শট ঠেকিয়েছেন কোর্তোয়া, মার্কো আর্তুরোর বদলে সুযোগ পাওয়া কার্লোস অগুস্তোর ক্রস থেকে থুরাম গোল করতে পারেননি। লাউতারো মার্তিনেজও সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে জোসেপ মার্তিনেজও প্রথমার্ধের ভুল ভুলিয়ে দিতে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করেছেন।

৫৮ মিনিটে বেলিংহামের মাথা থেকে আসা বলও তিনি ঠেকান। ৬৬ মিনিটে এমবাপ্পের শট আটকে দেন পা দিয়ে। কয়েক মিনিট পর ব্রাহিম দিয়াজের বাঁকানো শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। রিয়াল যেন গোল করার সুযোগ পেয়েই যাচ্ছিল, কিন্তু ম্যাচ শেষ করার গোলটি আর আসছিল না।

ব্যবধান কমাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রিস্টিয়ান কিভুর ইন্টার মিলান। অবশেষে ৭৭তম মিনিটে সাফল্য আসে। লাউতারো মার্তিনেজের চমৎকার এক ক্রস থেকে জোরালো শটে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ইন্টারের কার্লোস অগাস্টো (২-১)।

ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে ইন্টার একাধিক আক্রমণ করলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করেন। শেষ মুহূর্তে হেনরিখ মখিতারিয়ানের একটি নিশ্চিত গোলমুখী শট ফিরিয়ে দিয়ে রিয়ালের ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন তিনি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ইউরোপিয়ান কাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে পাঁচে উঠে এলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে
২৭ বছর বয়সী ফ্রান্স অধিনায়ক ম্যাচের ১৪ মিনিটেই গোল করেন। জোসে মরিনিওর দলের হয়ে বক্সের ভেতর থেকে দারুণ শটে বল জালে পাঠান তিনি। এটি ছিল প্রতিযোগিতায় তার ৯৯তম ম্যাচে ৭১তম গোল।

এমবাপ্পের চেয়ে বেশি গোল আছে শুধু চারজনের। করিম বেনজেমার গোল ৯০টি। রবার্ট লেভানডভস্কির গোল ১০৯টি। লিওনেল মেসির গোল ১২৯টি। আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোল ১৪০টি। এদিকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা রাউল ১৪২ ম্যাচে করেছিলেন ৭১ গোল। গত রাতের গোলে তাকেই ছুঁয়ে ফেলেন এমবাপ্পে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

প্রথমবার ওয়েব সিরিজে পরিণীতি চোপড়া

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

রেকর্ড গড়লেন এমবাপ্পে, ইন্টার মিলানকে হারালো রিয়াল মাদ্রিদ

আপডেটের সময় : ১০:৩৫:০৬ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে ইন্টার মিলানকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে নতুন মৌসুমের যাত্রা শুরু করল রিয়াল মাদ্রিদ। সাবেক ক্লাব ইন্টারের বিরুদ্ধে এই জয় দিয়ে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে নতুন মেয়াদে যাত্রাটা দারুণভাবে শুরু করলেন পর্তুগিজ কোচ হোসে মরিনিয়ো। রিয়ালের হয়ে একটি করে গোল করেন কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ফেডেরিকো ভালভার্দে।

তবে স্কোরলাইন যতটা স্বস্তির, ম্যাচটা ঠিক ততটা স্বস্তিদায়ক ছিল না রিয়াল মাদ্রিদের জন্য।

অন্তত প্রথম ২০ মিনিট দেখে মনে হয়নি এই ম্যাচটা রিয়ালের হতে পারে। তৃতীয় মিনিটেই মার্কোস থুরামের হাফ ভলি দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন থিবো কোর্তোয়া। এরপর হাকান চালহানোলুর ফ্রি কিকও একই পরিণতি পায়। ইন্টার তখন বার্নাব্যুর বাতাসে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। কিন্তু ফুটবলে কখনো কখনো সুযোগ তৈরি করার চেয়ে প্রতিপক্ষের ভুলের অপেক্ষা করাটাই বেশি কার্যকর।

১৪তম মিনিটে ইন্টারের ডিফেন্সের একটি মারাত্মক ভুল কাজে লাগায় স্বাগতিকরা। ইন্টারের কার্টিস জোন্সের একটি দুর্বল পাসের কারণে ইয়ান বিসেক চাপে পড়ে যান। এই সুযোগে ব্রাহিম দিয়াজ বল কেড়ে নিয়ে বাড়িয়ে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পের দিকে। বল পেয়েই দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে জাল খুঁজে নেন এমবাপ্পে এবং দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।

চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের হয়ে এমবাপ্পের আরেকটি রাত, আর ইউরোপিয়ান কাপে গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৭১, যেখানে তার পাশে এখন রাউল গঞ্জালেস।

নয় মিনিট পর আবারও ইন্টারের উপহার। বেনজামিন পাভারের ব্যাকপাস পেয়ে গোলরক্ষক জোসেপ মার্তিনেজ বল নিয়ে অযথা সময় নিলেন। ফেদেরিকো ভালভার্দে ছুটে এসে বল কেড়ে নিলেন। এরপর সেটি গড়িয়ে গেল ইন্টারের জালে। ২-০। রিয়াল তখন পর্যন্ত লক্ষ্যে শটই নিয়েছিল মাত্র একটি!

দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও ইন্টার ভেঙে পড়েনি। কার্টিস জোন্সের শট ক্রসবারে লাগে। বিরতির ঠিক আগে এমবাপ্পে, জুড বেলিংহাম ও ব্রাহিম দিয়াজ মিলে তৃতীয় গোলের যে সুযোগ তৈরি করেছিলেন, সেটিও অবিশ্বাস্যভাবে বেঁচে যায় ইন্টার।

দ্বিতীয়ার্ধে যেন অন্য এক ম্যাচ। ইন্টার একের পর এক আক্রমণ করেছে। জোন্সের শট ঠেকিয়েছেন কোর্তোয়া, মার্কো আর্তুরোর বদলে সুযোগ পাওয়া কার্লোস অগুস্তোর ক্রস থেকে থুরাম গোল করতে পারেননি। লাউতারো মার্তিনেজও সুযোগ পেয়েছেন। অন্যদিকে জোসেপ মার্তিনেজও প্রথমার্ধের ভুল ভুলিয়ে দিতে একের পর এক দুর্দান্ত সেভ করেছেন।

৫৮ মিনিটে বেলিংহামের মাথা থেকে আসা বলও তিনি ঠেকান। ৬৬ মিনিটে এমবাপ্পের শট আটকে দেন পা দিয়ে। কয়েক মিনিট পর ব্রাহিম দিয়াজের বাঁকানো শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। রিয়াল যেন গোল করার সুযোগ পেয়েই যাচ্ছিল, কিন্তু ম্যাচ শেষ করার গোলটি আর আসছিল না।

ব্যবধান কমাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ক্রিস্টিয়ান কিভুর ইন্টার মিলান। অবশেষে ৭৭তম মিনিটে সাফল্য আসে। লাউতারো মার্তিনেজের চমৎকার এক ক্রস থেকে জোরালো শটে রিয়ালের গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়াকে পরাস্ত করেন ইন্টারের কার্লোস অগাস্টো (২-১)।

ম্যাচের শেষ দিকে সমতায় ফিরতে ইন্টার একাধিক আক্রমণ করলেও রিয়াল গোলরক্ষক থিবো কুর্তোয়া দুর্দান্ত কয়েকটি সেভ করেন। শেষ মুহূর্তে হেনরিখ মখিতারিয়ানের একটি নিশ্চিত গোলমুখী শট ফিরিয়ে দিয়ে রিয়ালের ৩ পয়েন্ট নিশ্চিত করেন তিনি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ এবং ইউরোপিয়ান কাপের সর্বকালের সেরা গোলদাতাদের তালিকায় যৌথভাবে পাঁচে উঠে এলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে
২৭ বছর বয়সী ফ্রান্স অধিনায়ক ম্যাচের ১৪ মিনিটেই গোল করেন। জোসে মরিনিওর দলের হয়ে বক্সের ভেতর থেকে দারুণ শটে বল জালে পাঠান তিনি। এটি ছিল প্রতিযোগিতায় তার ৯৯তম ম্যাচে ৭১তম গোল।

এমবাপ্পের চেয়ে বেশি গোল আছে শুধু চারজনের। করিম বেনজেমার গোল ৯০টি। রবার্ট লেভানডভস্কির গোল ১০৯টি। লিওনেল মেসির গোল ১২৯টি। আর ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর গোল ১৪০টি। এদিকে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা রাউল ১৪২ ম্যাচে করেছিলেন ৭১ গোল। গত রাতের গোলে তাকেই ছুঁয়ে ফেলেন এমবাপ্পে।

Share this news as a Photo Card