নিউইয়র্ক ১১:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ বছর পর মাওলানা ফারুকী হত্যা মামলায় ৬ আসামির বিচার শুরু

  • আপডেটের সময় : ০১:৪২:২৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও ইসলামী অনুষ্ঠানের টেলিভিশন উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ৬ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছেন আদালত। এর ফলে ১২ বছর পর মামলাটির আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো। 

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার ৯ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. শহিদুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৬ ডিসেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘কারাগারে থাকা আসামি হাদিসুর রহমান সাগরকে ভার্চুয়ালী চার্জ পড়ে শোনানো হয়। জামিনে থাকা তিন আসামির পক্ষে অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। তবে অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো শুনানি হয়নি।’

আসামিরা হলেন- হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর, আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, রফিকুল ইসলাম ফারদীন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, মাহমুদ ইবনে বাশার ও রতন চৌধুরী ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিপন ওরফে রাকিবুল ইসলাম রিয়াজ। 

জামিনে থাকা আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপন, ও আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী আদালতে হাজিরা দেন। মামলার দুই আসামি মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম। এছাড়াও চার্জশিটে ১২ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৭ টার দিকে নুরুল ইসলাম ফারুকীর বাসায় কলিং বেল চাপ দেয় দুর্বৃত্তরা। বাসার দরজা খুললে দুই জন লোক বাসায় প্রবেশ করে নুরুল ইসলামের সাথে ড্রয়িং রুমে বসে। এর কিছুক্ষণ পর আরও ৬ থেকে ৭ লোক বাসায় প্রবেশ করে। বসার স্থান সংকুলান না হওয়ায় ফয়সাল ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যান। সে ফিরে এসে দেখে নুরুল ইসলামের মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ধরে রেখেছে আসামিরা। পরে তারা বাসার সবাইকে বেধে নুরুল ইসলাম ফারুকীতে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত ফারুকী চ্যানেল আইয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘কাফেলা’ ও ‘শান্তির পথে’, মাই টিভির লাইভ অনুষ্ঠান ‘সত্যের সন্ধানে’ এর উপস্থাপক ছিলেন। এছাড়া, তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পাদক, সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘পরাজিত ব্যক্তি’ বলতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ব্রিফিং ছাড়লেন ট্রাম্প

বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরানের কেশম দ্বীপ

০৮ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

১২ বছর পর মাওলানা ফারুকী হত্যা মামলায় ৬ আসামির বিচার শুরু

আপডেটের সময় : ০১:৪২:২৫ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

ইসলামী ফ্রন্টের নেতা ও ইসলামী অনুষ্ঠানের টেলিভিশন উপস্থাপক মাওলানা নুরুল ইসলাম ফারুকীকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ৬ আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেছেন আদালত। এর ফলে ১২ বছর পর মামলাটির আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার শুরু হলো। 

রোববার (৮ নভেম্বর) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার ৯ম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. শহিদুল ইসলামের আদালত এই আদেশ দেন। একই সঙ্গে আগামী ৬ ডিসেম্বর পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিনুল ইসলাম সরকার গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘কারাগারে থাকা আসামি হাদিসুর রহমান সাগরকে ভার্চুয়ালী চার্জ পড়ে শোনানো হয়। জামিনে থাকা তিন আসামির পক্ষে অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। তবে অপর দুই আসামি পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে কোনো শুনানি হয়নি।’

আসামিরা হলেন- হাদিসুর রহমান ওরফে সাগর, আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, রফিকুল ইসলাম ফারদীন, আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী, মাহমুদ ইবনে বাশার ও রতন চৌধুরী ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রিপন ওরফে রাকিবুল ইসলাম রিয়াজ। 

জামিনে থাকা আব্দুল্লাহ আল তাসনিম নাহিদ, ইঞ্জিনিয়ার ওরফে রিয়াজ ওরফে রিপন, ও আবু রায়হান মাহমুদ আব্দুল হাদী আদালতে হাজিরা দেন। মামলার দুই আসামি মাহমুদ ইবনে বাশার ও রফিকুল ইসলাম ফারদীন পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার কে এম আবুল কাশেম। এছাড়াও চার্জশিটে ১২ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়। 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ আগস্ট সন্ধ্যা ৭ টার দিকে নুরুল ইসলাম ফারুকীর বাসায় কলিং বেল চাপ দেয় দুর্বৃত্তরা। বাসার দরজা খুললে দুই জন লোক বাসায় প্রবেশ করে নুরুল ইসলামের সাথে ড্রয়িং রুমে বসে। এর কিছুক্ষণ পর আরও ৬ থেকে ৭ লোক বাসায় প্রবেশ করে। বসার স্থান সংকুলান না হওয়ায় ফয়সাল ফারুকীর মামাতো ভাই মারুফ হোসেন ভেতর থেকে চেয়ার আনতে যান। সে ফিরে এসে দেখে নুরুল ইসলামের মাথায় পিস্তল ও চাপাতি ধরে রেখেছে আসামিরা। পরে তারা বাসার সবাইকে বেধে নুরুল ইসলাম ফারুকীতে কুপিয়ে হত্যা করে। এ ঘটনায় তার ছেলে ফয়সাল ফারুকী বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নিহত ফারুকী চ্যানেল আইয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘কাফেলা’ ও ‘শান্তির পথে’, মাই টিভির লাইভ অনুষ্ঠান ‘সত্যের সন্ধানে’ এর উপস্থাপক ছিলেন। এছাড়া, তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পাদক, সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব ছিলেন।

Share this news as a Photo Card