জরুরি অর্থের প্রয়োজন হলে কারও ওপর নির্ভর যেন না করতে হয় সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই উদ্যোগকে বলা হচ্ছে জরুরি পেমেন্ট সেবা।যারা বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ ব্যবহার করছেন তারা ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার হওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে ঋণটি কিন্তু সরাসরি ব্যাংক হিসেবে দেওয়া হবে না।
যেসব প্রয়োজন মেটাতে দেওয়া হবে-
১. বিদ্যুৎ বিল
২. গ্যাস বিল
৩. মোবাইল রিচার্জ
৪. বাচ্চার স্কুলের বেতন
৫. হাসপাতালের কোনো বিল
৬. ব্যাংক একাউন্টের কোনো ডিপিএস-এর টাকা পরিশোধ বা ইন্স্যুরেন্সের প্রিমিয়াম পরিশোধ
যেভাবে দেওয়া হবে ঋণ
ব্যাংকিং অ্যাপে আলাদা করে কোনো টাকা দেওয়া হবে না। উল্লেখিত জরুরি সেবার বিল পরিশোধের জন্য সেই পরিমাণ টাকা আপনাকে পরিশোধ করার সুযোগ দেওয়া হবে।
এজন্য জন্য ব্যাংকগুলো আপনার কাছ থেকে কোনো সুদ আদায় করবে না। তবে তারা একটা মাশুল নেবে। তবে এই খরচটা খুব বেশি নয়। সাত দিন, ১৫ দিন, ৩০ দিন মেয়াদে এই টাকাটা দেওয়া হবে।
যে হারে দিতে হবে মাশুল বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে,
- ৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ মাশুল হবে যথাক্রমে ৩ টাকা, ৪ টাকা ও ৬ টাকা।
- ২৫১ টাকা থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে ৭, ১৫ ও ৩০ দিনের জন্য মাশুল হবে যথাক্রমে পাঁচ, আট ও ১৫ টাকা।
- ৫০১ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে ৭, ১২ ও ২০ টাকা।
- এক হাজার এক টাকা থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের মাশুল হবে ১০ টাকা, ২০ টাকা ও ৩০ টাকা।
- দুই হাজার এক টাকা থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের মাশুল হবে ১৫ টাকা, ৩০ টাকা ও ৫০ টাকা।
- তিন হাজার এক টাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে সাত দিন, ১৫ দিন ও ৩০ দিনের জন্য মাশুল হবে ২০ টাকা, ৪০ টাকা ও ৭০ টাকা।
- পাঁচ হাজার এক টাকা থেকে সাত হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে ২৫ টাকা ৫০ টাকা ও ৯০ টাকা।
- সাত হাজার এক টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে মাশুল হবে যথাক্রমে ৩৫ টাকা, ৭০ টাকা ও ১৩০ টাকা। অর্থাৎ ১০ হাজার টাকা ঋণ নিলে সেটার মেয়াদ যদি ৩০ দিন হয় তাহলে ১৩০ টাকা মাশুল দিতে হবে। সেটি ১৫ দিনের জন্য নেওয়া হলে দিতে হবে ৭০ টাকা। আর সাত দিনের জন্য নিয়ে থাকলে ৩৫ টাকা শোধ করতে হবে।
সিটি ব্যাংক পিএলসি’র ডিএমডি অরূপ হায়দার বলেন, ‘এই সার্কুলারটার ইমপ্লিমেন্টেশন হলে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এই সার্কুলারটা ইমপ্লিমেন্ট করে তাহলে গ্রাহকদের নিত্যদিনের যে পেমেন্ট করার সময় অনেক সময় ইনস্ট্যান্ট লিকুইডিটির অভাবের জায়গাটা তারা পূরণ করতে পারবে। বিষয়টার শর্টটার্ম রিকোয়ারমেন্ট সাইটটা এরকম। বাট এটার আসলে ইমপ্লিকেশনটা ইভেন ফারস্ট। এর মাধ্যমে আসলে গ্রাহকেরা যখন এই ধরনের বিল পেমেন্ট এই ধরনের লোন ফ্যাসিলিটি থেকে করা শুরু করবেন পাবেন এবং করা শুরু করবেন তাতে করে মানুষের ডিজিটাল এডপ্টেশন বাড়বে যেটা কিনা ক্যাশলেস বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য অন্যতম একটি নিয়ামক।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপাদৃষ্টিতে আজকের দিনে এই সার্কুলারটাকে অতটা সিগনিফিকেন্ট মনে হচ্ছে না। বাট আমরা মনে করি যেটি একটি সিগনিফিকেন্ট মাইলফলক। ধন্যবাদ বাংলাদেশ ব্যাংকে এ ধরনের একটি সময় উপযোগী সার্কুলার দেওয়ার জন্য এবং আশা করছি যে আমরা কোটি কোটি গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারব এই ফ্যাসিলিটি নিয়ে খুব শিগগিরই।’
এই ঋণের আওতায় থাকবেন যারা
বাংলাদেশে বর্তমানে যারা ব্যাকগুলোর অ্যাপ ব্যবহার করেন অর্থাৎ সিটি ব্যাংকের সিটি টাচ, বিকাশের আস্থা বা ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন, ডাচবাংলা ব্যাংকের নেক্সাস পে, সোনালী ব্যাংকের একটি নিজস্ব অ্যাপ আছে। এই অ্যাপগুলো যারা ব্যবহার করেন তারাই কেবল এই ঋণ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
বাংলাদেশে ব্যাংকিং অ্যাপ ব্যবহারকারীর সংখ্যা আড়াই কোটি। তবে এই আড়াই কোটি গ্রাহক ঋণ পাওয়ার যোগ্য হবেন কিন্তু ব্যাংকগুলো এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।


























