নিউইয়র্ক ১১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামীর পা ধরে কাঁদলেন স্ত্রী তবুও মন গললো না, সন্তান না হওয়ার আক্ষেপে ভাঙল সংসার

  • আপডেটের সময় : ০১:৩৮:২৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সাত বছরের দাম্পত্য জীবন। একসঙ্গে পথচলার দীর্ঘ সময়ে সংসারে আসেনি কোনো সন্তান। আর সন্তান না হওয়ার বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে ভাঙনের মুখে পড়েছে একটি সংসার। বিচ্ছেদ ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত স্বামীর পা ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী ইতি আক্তার। বারবার অনুরোধ করেন, সংসারটি যেন না ভাঙে। কিন্তু স্ত্রীর এমন আকুতি-মিনতিতেও মন গলেনি স্বামীর। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে বিচ্ছেদের পথেই হাঁটেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক সালিশে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সালিশে স্বামীর কাছে সংসার টিকিয়ে রাখার আকুতি জানাচ্ছেন ইতি। একপর্যায়ে স্বামীর পা ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কিন্তু স্ত্রীর কান্না ও অনুরোধের পরও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি স্বামী। ইতি আক্তার নিজেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। 

ইতি আক্তারের স্বামী রনি খান জানান, বিয়ের পর দীর্ঘ সাত বছর তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা করিয়েছেন। চিকিৎসার একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী কখনো মা হতে পারবেন না। এ কারণে তিনি আর স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করতে চান না।

ইতি আক্তারের ভাই জুলহাস সরদার জানান, সালিশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি পুলিশও উপস্থিত ছিলেন। তারা রনি খানকে বুঝিয়ে সংসারটি টিকিয়ে রাখতে বলেন। তবে তাতেও কোনো সমাধান হয়নি।

ইতি আক্তারের বাড়ি হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে। তার স্বামীর বাড়ি পাশের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাবনেরচর এলাকায়।

হিজলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. সেলিম রাড়ী বলেন, আমরা উপস্থিত থেকে সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সন্তান না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে স্বামী স্ত্রীকে খোলা তালাক দিয়েছেন। এ সময় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেনমোহর ও অন্যান্য বিষয় নিষ্পত্তির মাধ্যমে তালাক সম্পন্ন হয়।

হিজলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী আজগর বলেন, সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। এ ঘটনায় স্ত্রী ইতি আক্তার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। ওসি স্যার অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেন। এরপর আমি দুই পক্ষকে মিলিয়ে সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। শেষ পর্যন্ত গতকাল সন্ধ্যায় কাজির মাধ্যমে তাদের খোলা তালাক সম্পন্ন হয়।

সন্তান না হওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্বামীর এমন সিদ্ধান্ত এবং সংসার টিকিয়ে রাখতে স্ত্রীর আকুতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘পরাজিত ব্যক্তি’ বলতেই ক্ষুব্ধ হয়ে ব্রিফিং ছাড়লেন ট্রাম্প

বিস্ফোরণে কেঁপে উঠল ইরানের কেশম দ্বীপ

০৮ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

স্বামীর পা ধরে কাঁদলেন স্ত্রী তবুও মন গললো না, সন্তান না হওয়ার আক্ষেপে ভাঙল সংসার

আপডেটের সময় : ০১:৩৮:২৮ অপরাহ্ণ, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

সাত বছরের দাম্পত্য জীবন। একসঙ্গে পথচলার দীর্ঘ সময়ে সংসারে আসেনি কোনো সন্তান। আর সন্তান না হওয়ার বিষয়টিকেই কেন্দ্র করে ভাঙনের মুখে পড়েছে একটি সংসার। বিচ্ছেদ ঠেকাতে শেষ পর্যন্ত স্বামীর পা ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন স্ত্রী ইতি আক্তার। বারবার অনুরোধ করেন, সংসারটি যেন না ভাঙে। কিন্তু স্ত্রীর এমন আকুতি-মিনতিতেও মন গলেনি স্বামীর। নিজের সিদ্ধান্তে অনড় থেকে বিচ্ছেদের পথেই হাঁটেন তিনি।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের মাসকাটা গ্রামে স্থানীয়ভাবে আয়োজিত এক সালিশে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার একটি ভিডিও শনিবার দিবাগত রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সালিশে স্বামীর কাছে সংসার টিকিয়ে রাখার আকুতি জানাচ্ছেন ইতি। একপর্যায়ে স্বামীর পা ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। কিন্তু স্ত্রীর কান্না ও অনুরোধের পরও সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি স্বামী। ইতি আক্তার নিজেই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দিয়েছেন। 

ইতি আক্তারের স্বামী রনি খান জানান, বিয়ের পর দীর্ঘ সাত বছর তারা দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসা করিয়েছেন। চিকিৎসার একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, তার স্ত্রী কখনো মা হতে পারবেন না। এ কারণে তিনি আর স্ত্রীর সঙ্গে সংসার করতে চান না।

ইতি আক্তারের ভাই জুলহাস সরদার জানান, সালিশে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পাশাপাশি পুলিশও উপস্থিত ছিলেন। তারা রনি খানকে বুঝিয়ে সংসারটি টিকিয়ে রাখতে বলেন। তবে তাতেও কোনো সমাধান হয়নি।

ইতি আক্তারের বাড়ি হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নে। তার স্বামীর বাড়ি পাশের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার বাবনেরচর এলাকায়।

হিজলা উপজেলার জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মো. সেলিম রাড়ী বলেন, আমরা উপস্থিত থেকে সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সন্তান না হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে স্বামী স্ত্রীকে খোলা তালাক দিয়েছেন। এ সময় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেনমোহর ও অন্যান্য বিষয় নিষ্পত্তির মাধ্যমে তালাক সম্পন্ন হয়।

হিজলা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলী আজগর বলেন, সন্তান না হওয়াকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। এ ঘটনায় স্ত্রী ইতি আক্তার থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। ওসি স্যার অভিযোগটি তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেন। এরপর আমি দুই পক্ষকে মিলিয়ে সংসারটি টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করি। শেষ পর্যন্ত গতকাল সন্ধ্যায় কাজির মাধ্যমে তাদের খোলা তালাক সম্পন্ন হয়।

সন্তান না হওয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে স্বামীর এমন সিদ্ধান্ত এবং সংসার টিকিয়ে রাখতে স্ত্রীর আকুতির ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

Share this news as a Photo Card