নিউইয়র্ক ০৭:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজেটের সফল বাস্তবায়নেই প্রকৃত সার্থকতা: অর্থমন্ত্রী

  • আপডেটের সময় : ০৫:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় বাজেট দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত হয়েছে। তবে একটি বাজেট প্রণয়নই শেষ কথা নয়, এর প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করে সফল বাস্তবায়নের ওপর।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দেড়-দুই মাসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রণীত বাজেটটি সফলভাবে বাস্তবায়নে অর্থ বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার যৌথ উদ্যোগে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আমলাতন্ত্র নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তন করতে হবে। গত চার মাসের অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেছেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে এসে উদ্ভাবনী চিন্তা ও নতুন কর্মপদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দাপ্তরিক সভাগুলোকে একমুখী না রেখে কর্মকর্তাদের মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত মতামত দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। মুক্ত আলোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী উপায়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কর্মপরিবেশকে একটি পরিবারের মতো গড়ে তুলতে হবে। শুধু সমস্যা চিহ্নিত না করে তার কার্যকর সমাধানও তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনুবিভাগগুলো থেকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ মতামত পাওয়া গেলে নীতিনির্ধারণে সেগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অর্থ বিভাগকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।

পরে সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই পর্যটন এলাকায় হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রাম থেকে উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সমন্বয়ে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র (গ্রোথ হাব) হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার অবদান আরও বাড়বে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

পারমাণবিক চুক্তির জন্য ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দিতে হবে সৌদি আরবকে: ট্রাম্প

দিল্লিতে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ফের সংঘর্ষ, বন্ধ ইন্টারনেট

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বাজেটের সফল বাস্তবায়নেই প্রকৃত সার্থকতা: অর্থমন্ত্রী

আপডেটের সময় : ০৫:০৫:৩৯ পূর্বাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় বাজেট দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সমাদৃত হয়েছে। তবে একটি বাজেট প্রণয়নই শেষ কথা নয়, এর প্রকৃত সার্থকতা নির্ভর করে সফল বাস্তবায়নের ওপর।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথম মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত দেড়-দুই মাসের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রণীত বাজেটটি সফলভাবে বাস্তবায়নে অর্থ বিভাগের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার যৌথ উদ্যোগে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।

তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে আমলাতন্ত্র নিয়ে যে নেতিবাচক ধারণা রয়েছে, তা পরিবর্তন করতে হবে। গত চার মাসের অভিজ্ঞতায় তিনি উপলব্ধি করেছেন, সম্মিলিতভাবে কাজ করলে যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব। পরিবর্তিত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রচলিত ধ্যান-ধারণার বাইরে এসে উদ্ভাবনী চিন্তা ও নতুন কর্মপদ্ধতি গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দাপ্তরিক সভাগুলোকে একমুখী না রেখে কর্মকর্তাদের মুক্ত ও স্বতঃস্ফূর্ত মতামত দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। মুক্ত আলোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং প্রথাগত চিন্তার বাইরে গিয়ে উদ্ভাবনী উপায়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কর্মপরিবেশকে একটি পরিবারের মতো গড়ে তুলতে হবে। শুধু সমস্যা চিহ্নিত না করে তার কার্যকর সমাধানও তুলে ধরতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অনুবিভাগগুলো থেকে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ মতামত পাওয়া গেলে নীতিনির্ধারণে সেগুলো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে অর্থ বিভাগকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে এবং দেশের স্বার্থে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে।

পরে সচিবালয়ে কক্সবাজারের সমন্বিত উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ক সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যমান ৫০ মিটার ও ৫০০ মিটারের বিধিনিষেধ পুনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করেই পর্যটন এলাকায় হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও অন্যান্য বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, কক্সবাজারকে ঘিরে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে, রেল যোগাযোগ চালু হয়েছে এবং চট্টগ্রাম থেকে উন্নত সড়ক যোগাযোগ গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব অবকাঠামোর সমন্বয়ে কক্সবাজারকে একটি আধুনিক ডিজিটাল পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্যে কক্সবাজারকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবৃদ্ধি কেন্দ্র (গ্রোথ হাব) হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পর্যটন, বাণিজ্য ও সেবাখাতের সম্প্রসারণের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে জেলার অবদান আরও বাড়বে।

Share this news as a Photo Card