নিউইয়র্ক ০৭:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৩৫

  • আপডেটের সময় : ০৮:৩৪:৩৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক আগ্রাসনে কমপক্ষে পঁয়ত্রিশ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। হামলার শিকার এই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্ষয়ক্ষতির এই সর্বশেষ খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে মার্কিন বাহিনীর এই সাম্প্রতিক হামলায় প্রধানত ইরানের হরমোজগান, সিস্তান ও বেলুচিস্তান এবং খুজেস্তান প্রদেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হয়েছে। 

এর বাইরে গত বুধবার সকালে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বুশেহর শহরের তিনটি নির্দিষ্ট স্থানে মার্কিন বাহিনী নতুন করে হামলা চালালেও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে ওই প্রদেশের গভর্নর নিশ্চিত করেছেন।

পারস্য উপসাগরে চলমান এই তীব্র উত্তেজনা প্রসঙ্গে গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে ইরানের ওপর তাদের এই আক্রমণ অব্যাহত থাকবে এবং আগামী দিনগুলোতে এর তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে। 

তিনি তেহরানকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন যে ইরান যদি সমঝোতায় না আসে, তবে আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিধ্বংসী হামলা শুরু করা হবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী গত রোববার ভোর থেকে ইরানের বিভিন্ন শহর ও দ্বীপে তারা এই দৈনিক হামলা পরিচালনা করছে, যা মূলত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর তেহরানের হামলার পাল্টা জবাব। 

এই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম ইরানের ওপর পুনরায় সম্পূর্ণ নৌ অবরোধ আরোপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এর জবাবে ইরানও আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে কিছু আরব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে তাদের দেশে বেসামরিক নাগরিক হতাহত এবং অবকাঠামো ধ্বংসের পাল্টা অভিযোগ এনেছে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার এই ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা ও সামরিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে চরম আকার ধারণ করল যখন পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসন ও একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ইতিমধ্যে ইরান এই শান্তি সমঝোতার শর্তগুলো সরাসরি লঙ্ঘন করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের কাছে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘এটাই রাজনৈতিক যাত্রার শেষ’, বিদায়ী ভাষণে স্টারমার

১৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মার্কিন হামলায় ইরানে নিহত বেড়ে ৩৫

আপডেটের সময় : ০৮:৩৪:৩৯ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সাম্প্রতিক আগ্রাসনে কমপক্ষে পঁয়ত্রিশ জন সাধারণ নাগরিক নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। হামলার শিকার এই সাধারণ মানুষের মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারী ও শিশু রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেন কেরমানপুর মার্কিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ক্ষয়ক্ষতির এই সর্বশেষ খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেছেন যে মার্কিন বাহিনীর এই সাম্প্রতিক হামলায় প্রধানত ইরানের হরমোজগান, সিস্তান ও বেলুচিস্তান এবং খুজেস্তান প্রদেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও বিপর্যস্ত হয়েছে। 

এর বাইরে গত বুধবার সকালে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বুশেহর শহরের তিনটি নির্দিষ্ট স্থানে মার্কিন বাহিনী নতুন করে হামলা চালালেও সেখানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে ওই প্রদেশের গভর্নর নিশ্চিত করেছেন।

পারস্য উপসাগরে চলমান এই তীব্র উত্তেজনা প্রসঙ্গে গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন যে ইরানের ওপর তাদের এই আক্রমণ অব্যাহত থাকবে এবং আগামী দিনগুলোতে এর তীব্রতা আরও বাড়ানো হবে। 

তিনি তেহরানকে দ্রুত আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করেন যে ইরান যদি সমঝোতায় না আসে, তবে আগামী সপ্তাহ থেকে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সেতুগুলোকে লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিধ্বংসী হামলা শুরু করা হবে।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি অনুযায়ী গত রোববার ভোর থেকে ইরানের বিভিন্ন শহর ও দ্বীপে তারা এই দৈনিক হামলা পরিচালনা করছে, যা মূলত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর তেহরানের হামলার পাল্টা জবাব। 

এই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম ইরানের ওপর পুনরায় সম্পূর্ণ নৌ অবরোধ আরোপের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। এর জবাবে ইরানও আরব দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে কিছু আরব দেশ ইরানের বিরুদ্ধে তাদের দেশে বেসামরিক নাগরিক হতাহত এবং অবকাঠামো ধ্বংসের পাল্টা অভিযোগ এনেছে।

আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার এই ভয়াবহ যুদ্ধাবস্থা ও সামরিক উত্তেজনা এমন এক সময়ে চরম আকার ধারণ করল যখন পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত নিরসন ও একটি স্থায়ী শান্তি চুক্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি বিশেষ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ইতিমধ্যে ইরান এই শান্তি সমঝোতার শর্তগুলো সরাসরি লঙ্ঘন করার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং মার্কিন প্রশাসনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের কাছে একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়েছে।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

Share this news as a Photo Card