নিউইয়র্ক ০৬:৩৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এমবাপ্পের গোলে তুরস্ককে হারিয়ে জিদান যুগের শুরু

  • আপডেটের সময় : ০২:১৩:০১ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে অভিষেকটা জয় দিয়েই রাঙালেন জিনেদিন জিদান। দীর্ঘ ১৪ বছর দিদিয়ের দেশমের অধীনে থাকার পর এবার জিদানের অধীনে নতুন যাত্রা শুরু করেছে ফরাসিরা। সেই যাত্রায় তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স, দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে নতুন কোচের ৪-৩-৩ ছকে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিল ফ্রান্স। দুই বছর ধরে জাতীয় দলের জার্সিতে বাঁ প্রান্তে না খেলা এমবাপ্পেকে শুরু থেকেই দুই ডিফেন্ডার ঘিরে রাখেন। উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেকেও স্বাভাবিক ছন্দে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে তুরস্ক। চতুর্থ মিনিটে ইলমাজের শট ঠেকান মাইক মাইনিয়ঁ। এরপর গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে বিপদ সামাল দেন ফরাসি ডিফেন্ডাররা। ২৮ মিনিটে কাদিয়োগ্লুর জোরালো শটও দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মাইনিয়ঁ।

তুরস্কের হাইপ্রেসিংয়ের কারণে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই বেশ ভুগতে হয়েছে ফ্রান্সকে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে শুরু করে ফরাসিরা। আক্রমণের শেষভাগে এমবাপ্পে সক্রিয় হয়ে ওঠেন, মাঝমাঠে রায়ান শেরকিও কয়েকটি ভালো মুহূর্ত তৈরি করেন। বিরতির ঠিক আগে মাইকেল ওলিসের শট ঠেকিয়ে দেন তুর্কি গোলরক্ষক চাকির।

বিরতির পরও আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে যায় তুরস্ক। তবে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ফ্রান্সের কাছ থেকে। জুলস কুন্দে ও শেরকির সম্মিলিত প্রেসিংয়ে ডি-বক্সে বল পেয়ে যান ওলিসে। সেখান থেকে বাঁ প্রান্তে এমবাপ্পের কাছে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল এমবাপ্পের ৬৭তম গোল।

তবে গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোলের পরই চোট পেয়ে মাঠে বসে পড়েন এমবাপ্পে। ৫৯ মিনিটে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তার জায়গায় নামেন দেজিরে দুয়ে। মাঠে নামার তিন মিনিটের মধ্যেই তুরস্কের পোস্টে শট নিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেন এই তরুণ।

ব্যবধান বাড়ানোর জন্য এরপরও আক্রমণ চালিয়ে যায় ফ্রান্স। ৬৯ মিনিটে জুলস কুন্দের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে ব্র্যাডলি বারকোলা মাঠে নামার পর ফরাসি আক্রমণে আরও গতি যোগ হয়। তার গতি সামলাতে শেষ পর্যন্ত বেশ ব্যস্ত থাকতে হয় তুরস্কের রক্ষণকে।

ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৮৮ মিনিটে বারকোলা একা তুরস্কের রক্ষণ ভেদ করে এগিয়ে যাওয়ার সময় ডি-বক্সের বাইরে হাত দিয়ে বল ঠেকান গোলরক্ষক চাকির। ফলে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি। তবে ফ্রি কিক থেকে আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ফ্রান্স।

শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। জয় দিয়ে শুরু হলো জিদানের ফ্রান্স অধ্যায়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

যুক্তরাষ্ট্রে ৩৬ বছরের মধ্যে জনপ্রিয়তায় সর্বনিম্ন ডোনাল্ড ট্রাম্প

শেখ হাসিনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ও ভারত মিলে নেবে, ‘আশা’ যুক্তরাষ্ট্রের

২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

এমবাপ্পের গোলে তুরস্ককে হারিয়ে জিদান যুগের শুরু

আপডেটের সময় : ০২:১৩:০১ অপরাহ্ণ, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফ্রান্সের কোচ হিসেবে অভিষেকটা জয় দিয়েই রাঙালেন জিনেদিন জিদান। দীর্ঘ ১৪ বছর দিদিয়ের দেশমের অধীনে থাকার পর এবার জিদানের অধীনে নতুন যাত্রা শুরু করেছে ফরাসিরা। সেই যাত্রায় তুরস্ককে ১-০ গোলে হারিয়েছে ফ্রান্স, দলের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উয়েফা নেশনস লিগের ম্যাচে নতুন কোচের ৪-৩-৩ ছকে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তিতে ছিল ফ্রান্স। দুই বছর ধরে জাতীয় দলের জার্সিতে বাঁ প্রান্তে না খেলা এমবাপ্পেকে শুরু থেকেই দুই ডিফেন্ডার ঘিরে রাখেন। উসমান দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসেকেও স্বাভাবিক ছন্দে পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে তুরস্ক। চতুর্থ মিনিটে ইলমাজের শট ঠেকান মাইক মাইনিয়ঁ। এরপর গোললাইন থেকে বল ফিরিয়ে বিপদ সামাল দেন ফরাসি ডিফেন্ডাররা। ২৮ মিনিটে কাদিয়োগ্লুর জোরালো শটও দুর্দান্ত দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মাইনিয়ঁ।

তুরস্কের হাইপ্রেসিংয়ের কারণে বল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতেই বেশ ভুগতে হয়েছে ফ্রান্সকে। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে শুরু করে ফরাসিরা। আক্রমণের শেষভাগে এমবাপ্পে সক্রিয় হয়ে ওঠেন, মাঝমাঠে রায়ান শেরকিও কয়েকটি ভালো মুহূর্ত তৈরি করেন। বিরতির ঠিক আগে মাইকেল ওলিসের শট ঠেকিয়ে দেন তুর্কি গোলরক্ষক চাকির।

বিরতির পরও আক্রমণের চেষ্টা চালিয়ে যায় তুরস্ক। তবে ম্যাচের একমাত্র গোলটি আসে ফ্রান্সের কাছ থেকে। জুলস কুন্দে ও শেরকির সম্মিলিত প্রেসিংয়ে ডি-বক্সে বল পেয়ে যান ওলিসে। সেখান থেকে বাঁ প্রান্তে এমবাপ্পের কাছে বল বাড়িয়ে দেন তিনি। নিখুঁত শটে বল জালে পাঠিয়ে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক। জাতীয় দলের হয়ে এটি ছিল এমবাপ্পের ৬৭তম গোল।

তবে গোলের আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। গোলের পরই চোট পেয়ে মাঠে বসে পড়েন এমবাপ্পে। ৫৯ মিনিটে খুঁড়িয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে। তার জায়গায় নামেন দেজিরে দুয়ে। মাঠে নামার তিন মিনিটের মধ্যেই তুরস্কের পোস্টে শট নিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেন এই তরুণ।

ব্যবধান বাড়ানোর জন্য এরপরও আক্রমণ চালিয়ে যায় ফ্রান্স। ৬৯ মিনিটে জুলস কুন্দের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। পরে ব্র্যাডলি বারকোলা মাঠে নামার পর ফরাসি আক্রমণে আরও গতি যোগ হয়। তার গতি সামলাতে শেষ পর্যন্ত বেশ ব্যস্ত থাকতে হয় তুরস্কের রক্ষণকে।

ম্যাচের শেষ দিকে নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। ৮৮ মিনিটে বারকোলা একা তুরস্কের রক্ষণ ভেদ করে এগিয়ে যাওয়ার সময় ডি-বক্সের বাইরে হাত দিয়ে বল ঠেকান গোলরক্ষক চাকির। ফলে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি। তবে ফ্রি কিক থেকে আর ব্যবধান বাড়াতে পারেনি ফ্রান্স।

শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পের একমাত্র গোলেই ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। জয় দিয়ে শুরু হলো জিদানের ফ্রান্স অধ্যায়।

Share this news as a Photo Card