নিউইয়র্ক ০৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাশকতায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক আবারও রিমান্ডে

  • আপডেটের সময় : ১১:৫৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

সন্দেহজনক গতিবিধি এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নাশকতায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে (৪৪) আবারও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রবিউলকে আগের ৪ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার এই ভারতীয় নাগরিককে ফের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের এসআই মেজবাহ উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত ৪ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে রবিউলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাঁকে আবারও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

এর আগে, ২২ সেপ্টেম্বর ডিবির করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। 

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে বলেন, রবিউল বৈধভাবেই বাংলাদেশে এসেছেন। তাকে গ্রেপ্তার করে ইতিমধ্যে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আবারও রিমান্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। চার দিনের রিমান্ডে তদন্তের কোনো অগ্রগতিও হয়নি।

২৩ সেপ্টেম্বর আদালতকে ডিবি জানিয়েছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল পাসপোর্ট দেখিয়ে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে পরিচয় দেন। পরে তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি যাচাই করে দেখা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডিতে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্মতারিখের মিল নেই।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, রবিউল এর আগে অনেকবার বাংলাদেশ ভ্রমণ করলেও আসা-যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, তিনি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিয়েছেন। পুলিশের ধারণা, তিনি বাংলাদেশে কোনো ধ্বংসাত্মক অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রিমান্ড আবেদনের নথি থেকে জানা যায়, রবিউলের বাবার নাম শহীদুল ইসলাম, মায়ের নাম সালেহা খাতুন। তার স্থায়ী ঠিকানা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গোঁড়ি ভোজ এলাকায়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দক্ষিণের সীমানা পেরিয়ে এবার বাংলায় পা রাখল থালাপতি বিজয়ের দল

দক্ষিণ আফ্রিকায় ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

নাশকতায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক আবারও রিমান্ডে

আপডেটের সময় : ১১:৫৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সন্দেহজনক গতিবিধি এবং সাম্প্রতিক সময়ে দেশজুড়ে নাশকতায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে (৪৪) আবারও চার দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রবিউলকে আগের ৪ দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার এই ভারতীয় নাগরিককে ফের ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের রমনা জোনাল টিমের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের এসআই মেজবাহ উদ্দিন। শুনানি শেষে আদালত ৪ দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, চার দিনের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে রবিউলের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও তাঁর দেওয়া তথ্য যাচাইয়ের জন্য তাঁকে আবারও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

এর আগে, ২২ সেপ্টেম্বর ডিবির করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের ১৩ নম্বর সড়কের ৬০ নম্বর বাসার নিচতলা থেকে তাকে আটক করা হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি বাংলাদেশে অবস্থান করছিলেন। 

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুন অর রশিদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে বলেন, রবিউল বৈধভাবেই বাংলাদেশে এসেছেন। তাকে গ্রেপ্তার করে ইতিমধ্যে চার দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। আবারও রিমান্ড চাওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই। চার দিনের রিমান্ডে তদন্তের কোনো অগ্রগতিও হয়নি।

২৩ সেপ্টেম্বর আদালতকে ডিবি জানিয়েছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রবিউল পাসপোর্ট দেখিয়ে নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে পরিচয় দেন। পরে তার কাছে থাকা ভারতীয় পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডি যাচাই করে দেখা যায়, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও এনআইডিতে থাকা জন্মতারিখের সঙ্গে পাসপোর্টের জন্মতারিখের মিল নেই।

রিমান্ড আবেদনে আরও বলা হয়, রবিউল এর আগে অনেকবার বাংলাদেশ ভ্রমণ করলেও আসা-যাওয়ার সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানাতে পারেননি। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য, তিনি একেক সময় একেক রকম তথ্য দিয়েছেন। পুলিশের ধারণা, তিনি বাংলাদেশে কোনো ধ্বংসাত্মক অপরাধে জড়িত থাকতে পারেন। সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা শহরসহ সারা দেশে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

রিমান্ড আবেদনের নথি থেকে জানা যায়, রবিউলের বাবার নাম শহীদুল ইসলাম, মায়ের নাম সালেহা খাতুন। তার স্থায়ী ঠিকানা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গোঁড়ি ভোজ এলাকায়।

Share this news as a Photo Card