নিউইয়র্ক ০৭:১৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বকাপ ফাইনালে ‘ষড়যন্ত্র’ নিয়ে এবার মুখ খুললেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক

  • আপডেটের সময় : ১২:০৮:০২ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল নানা ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। আর্জেন্টিনার হার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি নানা গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। তবে সেসবকে একেবারেই পাত্তা দিচ্ছেন না আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো। বরং তার মতে, স্পেনই ছিল শিরোপার যোগ্য দল।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

রোমেরোর দাবি, ফাইনালে সন্দেহজনক কিছুই ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘ফাইনালে কিছুই ঘটেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমন জায়গা, যেখানে কেউ একটা বোকামিপূর্ণ কথা লিখলেও সেটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যেতে পারে। স্পেন নিজেদের কাজ ঠিকঠাক করেছে। আমরা কোনোমতে টিকে গিয়েছিলাম। এটাকে অলৌকিক ঘটনা বলব কি না জানি না, তবে পুরো বিশ্বকাপটাই আমাদের জন্য শারীরিকভাবে কঠিন ছিল। আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতেই হিমশিম খেয়েছে, আমিও তাদের একজন।’ 

মেসির সঙ্গে জাতীয় দলে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছেন রোমেরো। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বলেন, ‘মেসির বিদায়ের পর তার সঙ্গে আর কথা হয়নি। জাতীয় দলে একসঙ্গে থাকার সময় আমাদের কথা হতো। এখনো বিষয়টি আমাদের কাছে কিছুটা অদ্ভুত লাগে।’

ইনজুরির তালিকাটাও বেশ দীর্ঘ ছিল বলে জানিয়েছেন রোমেরো। তিনি বলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আমাদের ইনজুরির সঙ্গে লড়তে হয়েছে। আমরা লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে পেয়েছি পাঁজরের চোট নিয়ে, যা নিয়ে কেউ কথাই বলে না। আমি নিজে ইংল্যান্ড ম্যাচের পর টেন্ডনের চোটের কারণে অনুশীলনই করতে পারিনি। লিচাও একই অবস্থায় ছিল, মলিও তাই। টাগলিয়াফিকোও কোনোমতে ফিট ছিল। আর দিবু খেলেছে ভাঙা আঙুল নিয়ে। আমরা আমাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলাম।’ 

সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা কিংবা নানা ধরনের মন্তব্য নিয়েও খুব একটা ভাবতে রাজি নন রোমেরো। নিজের পারফরম্যান্স ও দলের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়াকেই তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

‘কী বলা হচ্ছে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। যতক্ষণ আমি নিজের কাছে পরিষ্কার আছি এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত নিজের সবটুকু দিয়েছি, সেটাই আমাকে স্বস্তি দেয়’, বলেন তিনি।

এরপর সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্টনির্ভর সমালোচকদেরও একহাত নেন রোমেরো। তিনি বলেন, ‘মানুষ কী বলছে, কিংবা কোনো পরিচিত ব্যক্তি যে কিনা কনটেন্ট বানাতে চায়, সে বাইরে গিয়ে খেলোয়াড়দের নিয়ে খারাপ কথা বলবে—আমরা ওইসব বাজে জিনিসে কান দিই না। গত ছয়-সাত বছর ধরে এই জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এই পুরো সময়ে আমরা সবসময় নিজেদের সেরাটাই দিয়েছি।’

বিশ্বকাপের আগে রোমেরোর চোট নিয়েও আর্জেন্টিনা শিবিরে তৈরি হয়েছিল বড় শঙ্কা। সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

রোমেরো বলেন, ‘সবার আগে আমি স্কালোনিকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে দলে রাখার জন্য। কারণ অন্য কোনো কোচ হলে হয়তো শুরুতেই আমাকে বাদ দিয়ে দিতেন। তিনি আমার ওপর ভরসা রেখেছিলেন।’

হাঁটুর চোট পাওয়ার পর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কায় কেঁদে ফেলেছিলেন বলেও জানান এই ডিফেন্ডার। তিনি বলেন, ‘আমার যখন হাঁটুতে চোট লাগে, তখন আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। আমার মাথায় প্রথম যে বিষয়টি এসেছিল, তা হলো আমি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাচ্ছি। আমার মনে হয়েছিল চোটটা আরও অনেক বেশি গুরুতর। তবে দুই দিন পর যখন স্ক্যান করানো হলো, দেখা গেল সেটি লিগামেন্টের সমস্যা। সবকিছু বিবেচনা করলে আমি শেষ ষোলো বা কোয়ার্টার ফাইনালে ফিট হয়ে উঠতে পারবো।’

ব্যালন ডি’অর ও সুপার ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের মতামত জানাতে গিয়ে পুরস্কার নির্বাচনের বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়েও কটাক্ষ করেছেন রোমেরো। তার মতে, বর্তমানে পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিপণন ও জনপ্রিয়তার প্রভাবও রয়েছে।

রোমেরো বলেন, ‘এখন পুরস্কারটা কিছুটা বিপণননির্ভর হয়ে গেছে। সম্ভবত যার ইনস্টাগ্রামে অনুসারী বেশি, তাকেই দেওয়া হবে, হা হা! আগে গ্যালারিতে বসে একটি ম্যাচ দেখলেই বোঝা যেত, লিও কী করছে। তার সঙ্গে কারও তুলনাই হতো না। সে কারণেই সে সর্বকালের সেরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, যে চ্যাম্পিয়নস লিগ কিংবা বিশ্বকাপ জিতবে, পুরস্কারটাও তার পাওয়া উচিত। কিন্তু মেসি মাঠে যা করে এবং যে প্রভাব তৈরি করে, অন্য কাউকে তা করতে আমি দেখিনি।’

মেসিকে বাদ দিয়ে কাকে এই পুরস্কার দেওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন রোমেরো। তার সরাসরি উত্তর, ‘মেসিকেই। যদিও সেটা সম্ভব নয়, তবুও আমি তাকেই দেব।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

ব্রাজিলের পাসপোর্ট বাতিলের পর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেন ফ্লাভিও বলসোনারো

২৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বিশ্বকাপ ফাইনালে ‘ষড়যন্ত্র’ নিয়ে এবার মুখ খুললেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক

আপডেটের সময় : ১২:০৮:০২ অপরাহ্ণ, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

২০২৬ উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল নানা ধরনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব। আর্জেন্টিনার হার নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি নানা গুঞ্জনও ছড়িয়েছিল। তবে সেসবকে একেবারেই পাত্তা দিচ্ছেন না আর্জেন্টিনা অধিনায়ক ক্রিস্তিয়ান ‘কুতি’ রোমেরো। বরং তার মতে, স্পেনই ছিল শিরোপার যোগ্য দল।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টিওয়াইসি স্পোর্টসের এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

রোমেরোর দাবি, ফাইনালে সন্দেহজনক কিছুই ঘটেনি। তিনি বলেন, ‘ফাইনালে কিছুই ঘটেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমন জায়গা, যেখানে কেউ একটা বোকামিপূর্ণ কথা লিখলেও সেটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যেতে পারে। স্পেন নিজেদের কাজ ঠিকঠাক করেছে। আমরা কোনোমতে টিকে গিয়েছিলাম। এটাকে অলৌকিক ঘটনা বলব কি না জানি না, তবে পুরো বিশ্বকাপটাই আমাদের জন্য শারীরিকভাবে কঠিন ছিল। আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড় শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতেই হিমশিম খেয়েছে, আমিও তাদের একজন।’ 

মেসির সঙ্গে জাতীয় দলে কাটানো সময়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধার কথা জানিয়েছেন রোমেরো। আর্জেন্টিনার অধিনায়ক বলেন, ‘মেসির বিদায়ের পর তার সঙ্গে আর কথা হয়নি। জাতীয় দলে একসঙ্গে থাকার সময় আমাদের কথা হতো। এখনো বিষয়টি আমাদের কাছে কিছুটা অদ্ভুত লাগে।’

ইনজুরির তালিকাটাও বেশ দীর্ঘ ছিল বলে জানিয়েছেন রোমেরো। তিনি বলেন, ‘পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আমাদের ইনজুরির সঙ্গে লড়তে হয়েছে। আমরা লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে পেয়েছি পাঁজরের চোট নিয়ে, যা নিয়ে কেউ কথাই বলে না। আমি নিজে ইংল্যান্ড ম্যাচের পর টেন্ডনের চোটের কারণে অনুশীলনই করতে পারিনি। লিচাও একই অবস্থায় ছিল, মলিও তাই। টাগলিয়াফিকোও কোনোমতে ফিট ছিল। আর দিবু খেলেছে ভাঙা আঙুল নিয়ে। আমরা আমাদের সর্বস্ব উজাড় করে দিয়েছিলাম।’ 

সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা কিংবা নানা ধরনের মন্তব্য নিয়েও খুব একটা ভাবতে রাজি নন রোমেরো। নিজের পারফরম্যান্স ও দলের জন্য সর্বোচ্চটা দেওয়াকেই তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।

‘কী বলা হচ্ছে তাতে আমার কিছু যায় আসে না। যতক্ষণ আমি নিজের কাছে পরিষ্কার আছি এবং শেষ মিনিট পর্যন্ত নিজের সবটুকু দিয়েছি, সেটাই আমাকে স্বস্তি দেয়’, বলেন তিনি।

এরপর সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্টনির্ভর সমালোচকদেরও একহাত নেন রোমেরো। তিনি বলেন, ‘মানুষ কী বলছে, কিংবা কোনো পরিচিত ব্যক্তি যে কিনা কনটেন্ট বানাতে চায়, সে বাইরে গিয়ে খেলোয়াড়দের নিয়ে খারাপ কথা বলবে—আমরা ওইসব বাজে জিনিসে কান দিই না। গত ছয়-সাত বছর ধরে এই জাতীয় দলের সঙ্গে থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছে। এই পুরো সময়ে আমরা সবসময় নিজেদের সেরাটাই দিয়েছি।’

বিশ্বকাপের আগে রোমেরোর চোট নিয়েও আর্জেন্টিনা শিবিরে তৈরি হয়েছিল বড় শঙ্কা। সেই কঠিন সময়ের কথা স্মরণ করে কোচ লিওনেল স্কালোনির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

রোমেরো বলেন, ‘সবার আগে আমি স্কালোনিকে ধন্যবাদ জানাই আমাকে দলে রাখার জন্য। কারণ অন্য কোনো কোচ হলে হয়তো শুরুতেই আমাকে বাদ দিয়ে দিতেন। তিনি আমার ওপর ভরসা রেখেছিলেন।’

হাঁটুর চোট পাওয়ার পর বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার আশঙ্কায় কেঁদে ফেলেছিলেন বলেও জানান এই ডিফেন্ডার। তিনি বলেন, ‘আমার যখন হাঁটুতে চোট লাগে, তখন আমি কেঁদে ফেলেছিলাম। আমার মাথায় প্রথম যে বিষয়টি এসেছিল, তা হলো আমি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাচ্ছি। আমার মনে হয়েছিল চোটটা আরও অনেক বেশি গুরুতর। তবে দুই দিন পর যখন স্ক্যান করানো হলো, দেখা গেল সেটি লিগামেন্টের সমস্যা। সবকিছু বিবেচনা করলে আমি শেষ ষোলো বা কোয়ার্টার ফাইনালে ফিট হয়ে উঠতে পারবো।’

ব্যালন ডি’অর ও সুপার ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের মতামত জানাতে গিয়ে পুরস্কার নির্বাচনের বর্তমান প্রক্রিয়া নিয়েও কটাক্ষ করেছেন রোমেরো। তার মতে, বর্তমানে পুরস্কার দেওয়ার ক্ষেত্রে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বিপণন ও জনপ্রিয়তার প্রভাবও রয়েছে।

রোমেরো বলেন, ‘এখন পুরস্কারটা কিছুটা বিপণননির্ভর হয়ে গেছে। সম্ভবত যার ইনস্টাগ্রামে অনুসারী বেশি, তাকেই দেওয়া হবে, হা হা! আগে গ্যালারিতে বসে একটি ম্যাচ দেখলেই বোঝা যেত, লিও কী করছে। তার সঙ্গে কারও তুলনাই হতো না। সে কারণেই সে সর্বকালের সেরা।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে, যে চ্যাম্পিয়নস লিগ কিংবা বিশ্বকাপ জিতবে, পুরস্কারটাও তার পাওয়া উচিত। কিন্তু মেসি মাঠে যা করে এবং যে প্রভাব তৈরি করে, অন্য কাউকে তা করতে আমি দেখিনি।’

মেসিকে বাদ দিয়ে কাকে এই পুরস্কার দেওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবেও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন রোমেরো। তার সরাসরি উত্তর, ‘মেসিকেই। যদিও সেটা সম্ভব নয়, তবুও আমি তাকেই দেব।’

Share this news as a Photo Card