নিউইয়র্ক ০৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাড্ডা সেন্টারের ভাঙা কক্ষেই চলছে টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, নেই পানি-বিদ্যুৎ

  • আপডেটের সময় : ১২:১৩:২১ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর মিরপুরে হামলা ও ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের একটি ভাঙা কক্ষেই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলছে। তবে সেখানে এখনো পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, তাদের স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেন্টারের একটি ভাঙা কক্ষে শিশুদের টিকাদান শুরু হয়। এর আগে শনিবার ও রোববার সেন্টারের বাইরে সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা কক্ষটিতে চেয়ার-টেবিল পেতে স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিচ্ছেন। শিশু ও মায়েদের বসার জন্য সেখানে ৮ থেকে ১০টি চেয়ার রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে শিশু ও মায়েদের কষ্ট হচ্ছে। কয়েকটি শিশুকে কান্না করতেও দেখা যায়। পাশাপাশি কেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ থেকে কংক্রিট ও ইটের টুকরা সরানোর কাজ চলায় আশপাশে ধুলাবালুও উড়ছে।

সাড়ে চার মাস বয়সী শিশুকে টিকা দিতে আসা লাবনী বেগম জানান, ভাঙা ঘরে নাতিকে নিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে। গরমে শিশুটি কষ্ট পাচ্ছে। তবে টিকা দিতে পারায় তিনি সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, ভাঙা একটি কক্ষ পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। তবে স্বাভাবিক পরিবেশে সেবা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘এখনো পানি, বিদ্যুৎ ও শৌচকাজের কোনো ব্যবস্থা এখানে হয়নি। এখানে সেবা নিতে মায়েরা ও শিশুরা আসেন। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের বেশির ভাগই নারী। তাঁদের সেবা দেওয়ার পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য এখনো তৈরি হয়নি।’

নাসরিন আখতার জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রটির অবশিষ্ট অংশ সংস্কার করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ২০০ থেকে ২৫০ জন বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে কেন্দ্রটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। এক্সকাভেটর দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়।

এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। মামলায় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবার জন্য ১৯৭৪ সালে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশুস্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। বর্তমানে কেন্দ্রটির ভাঙা কক্ষেই এসব স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

দক্ষিণের সীমানা পেরিয়ে এবার বাংলায় পা রাখল থালাপতি বিজয়ের দল

দক্ষিণ আফ্রিকায় ১১ নারীর মরদেহ উদ্ধার, বাড়ছে ‘সিরিয়াল কিলার’ আতঙ্ক

২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

রাড্ডা সেন্টারের ভাঙা কক্ষেই চলছে টিকাদান ও স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম, নেই পানি-বিদ্যুৎ

আপডেটের সময় : ১২:১৩:২১ অপরাহ্ণ, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর মিরপুরে হামলা ও ভাঙচুরের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের একটি ভাঙা কক্ষেই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলছে। তবে সেখানে এখনো পানি ও বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, তাদের স্বজন ও স্বাস্থ্যকর্মীরা।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সেন্টারের একটি ভাঙা কক্ষে শিশুদের টিকাদান শুরু হয়। এর আগে শনিবার ও রোববার সেন্টারের বাইরে সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়েছিল।

সরেজমিনে দেখা যায়, ভাঙা কক্ষটিতে চেয়ার-টেবিল পেতে স্বাস্থ্যকর্মীরা সেবা দিচ্ছেন। শিশু ও মায়েদের বসার জন্য সেখানে ৮ থেকে ১০টি চেয়ার রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমের মধ্যে শিশু ও মায়েদের কষ্ট হচ্ছে। কয়েকটি শিশুকে কান্না করতেও দেখা যায়। পাশাপাশি কেন্দ্রের ধ্বংসস্তূপ থেকে কংক্রিট ও ইটের টুকরা সরানোর কাজ চলায় আশপাশে ধুলাবালুও উড়ছে।

সাড়ে চার মাস বয়সী শিশুকে টিকা দিতে আসা লাবনী বেগম জানান, ভাঙা ঘরে নাতিকে নিয়ে সেবা নিতে হচ্ছে। গরমে শিশুটি কষ্ট পাচ্ছে। তবে টিকা দিতে পারায় তিনি সন্তুষ্ট। একই সঙ্গে হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেন তিনি।

রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানান, ভাঙা একটি কক্ষ পরিষ্কার করে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। তবে স্বাভাবিক পরিবেশে সেবা দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘এখনো পানি, বিদ্যুৎ ও শৌচকাজের কোনো ব্যবস্থা এখানে হয়নি। এখানে সেবা নিতে মায়েরা ও শিশুরা আসেন। আমাদের স্বাস্থ্যকর্মীদের বেশির ভাগই নারী। তাঁদের সেবা দেওয়ার পরিবেশ ও স্বাচ্ছন্দ্য এখনো তৈরি হয়নি।’

নাসরিন আখতার জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রটির অবশিষ্ট অংশ সংস্কার করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, ২০০ থেকে ২৫০ জন বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে কেন্দ্রটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকাসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয়। এক্সকাভেটর দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবন ভেঙে ফেলা হয়। পরে সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সাইনবোর্ড ও ব্যানার টাঙানো হয়।

এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। মামলায় বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ হানিফসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। তবে হামলার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ স্পষ্ট তথ্য দেয়নি।মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মাতৃ ও শিশুসেবার জন্য ১৯৭৪ সালে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানটি শিশুদের টিকাদান, শিশুস্বাস্থ্য, প্রজননস্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। বর্তমানে কেন্দ্রটির ভাঙা কক্ষেই এসব স্বাস্থ্যসেবা চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card