সুরমা নদীর পানি কমতে শুরু করায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির পূর্বাভাস দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তবে ১৯ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে উত্তরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী ৯ জেলার নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশিত কেন্দ্রটির নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়, বর্তমানে কুশিয়ারা নদী সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩১ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সুরমা নদীর পানি কমছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে নদী দুটির পানি আরও কমে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের এক কর্মকর্তা জানান, উজানে ভারতের দিক থেকে এখন বড় ধরনের পানির ঢল নেই এবং বৃষ্টিপাতও কমেছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবেও আগামী তিন দিনে সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা নেই। ফলে দুই জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হতে পারে।
তবে কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী (পুর) সরদার উদয় রায়হান জানান, ১৯ থেকে ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদী-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
এ ছাড়া ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার কিছু এলাকায় সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এর ফলে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আগামী পাঁচ দিন এসব নদী বিপৎসীমার নিচ দিয়েই প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মনু, ধলাই, খোয়াই ও সারিগোয়াইন নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে, তবে আগামী তিন দিনে তা কমতে পারে। অন্যদিকে রংপুর অঞ্চলের তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কমলেও চলতি সপ্তাহের দ্বিতীয়ার্ধে আবারও বাড়তে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে এবং এটি আগামী দুই দিনে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে। এর প্রভাবে ১৬ থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত রংপুর, রাজশাহী, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগসহ ভারতের আসাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ ও হিমালয়-পাদদেশীয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।


























