নিউইয়র্ক ০৭:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিতর্কিত উদযাপনে ফাইনালের আগে বড় শাস্তি হতে পারে আর্জেন্টিনার

  • আপডেটের সময় : ০৮:১৮:৩২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে তারা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয়। কিন্তু জয়ের পর ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মাঠে একটি বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন করেন। ‘লাস মালভিয়ানস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা সেই ব্যানারটি নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে, কারণ এই বাক্যের মাধ্যমে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের ঐতিহাসিক বিরোধকে স্মরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, কিন্তু দ্রুত পরপর দুটি গোল করে তারা ঘুরে দাঁড়ায় এবং টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে। রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে স্পেন আগেই নাম লিখিয়েছে।

ব্যানারটি ওই ভূখণ্ড-সংক্রান্ত বিরোধকে নির্দেশ করে, যেটিকে ব্রিটেনে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং আর্জেন্টিনায় ইসলাম মালভিনাস বলা হয়। এই বিরোধের জেরেই ৪৪ বছর আগে ৭৪ দিনব্যাপী একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সেই সংঘাতে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন, এর মধ্যে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ।

লিসান্দ্রো মার্তিনেস এবং জিওভানি লো সেলসো হাসিমুখে ব্যানারটি হাতে তুলে ধরেন এবং গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের দিকে নাড়াতে থাকেন। ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছে, তা স্পষ্ট নয়।

বিশ্বকাপ চলাকালে রাজনৈতিক ব্যানারের বিষয়টি এবারই প্রথম সামনে আসেনি। গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে, ইরান যখন খেলেছিল, তখন তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত প্রাক-বিপ্লবী পতাকা ইরানি-আমেরিকানরা প্রদর্শন করেছিলেন। তবে ওই ম্যাচগুলো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর, আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে এই স্লোগান দিতে শোনা যায়: মালভিনাসের জন্য, দিয়েগো মারাদোনার জন্য এবং লিও মেসির শেষটির জন্য।

আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পল বলেন, ‘আমরা বুঝি, এটি এমন একটি ফুটবল ম্যাচ যা ক্রীড়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়; এটি দিয়েগো যা করেছিলেন, সেই স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে আনে। আমরা আমাদের মালভিনাসের বীরদের নিয়ে গান গাই, মূলত তাদের স্মরণ করার জন্য। কিন্তু আমাদের এটাও বুঝতে হবে যে এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, আর মালভিনাসের বিষয়টি অন্যত্র আলোচনা হওয়া উচিত। যা ঘটেছিল, তা ছিল এক ভয়াবহ নৃশংসতা এবং আমরা সবসময় নিহতদের স্মরণ করি। তবে আমরা যা চাই, তা হলো এই ম্যাচটি জিতে ফাইনালে পৌঁছানো।

ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক, আপত্তিকর অথবা বৈষম্যমূলক প্রকৃতির ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক এবং অন্যান্য সামগ্রী নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাবে ফিফা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মন্তেওলিভা মঙ্গলবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রে সোমবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আর্জেন্টিনার একটি স্থানীয় রেডিওকে বলেন, সেখানে ১ হাজার ৬০০ জন কর্মকর্তা মোতায়েন থাকবেন। আমরা চাই উদ্‌যাপনটি শান্তিপূর্ণ হোক। রাজনৈতিক বা বর্ণগত যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক বার্তাসংবলিত কোনো উপকরণ প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

‘এটাই রাজনৈতিক যাত্রার শেষ’, বিদায়ী ভাষণে স্টারমার

১৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

বিতর্কিত উদযাপনে ফাইনালের আগে বড় শাস্তি হতে পারে আর্জেন্টিনার

আপডেটের সময় : ০৮:১৮:৩২ অপরাহ্ণ, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

ম্যাচে পিছিয়ে থেকেও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় তুলে নিয়েছে। এই জয়ের মাধ্যমে তারা বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয়। কিন্তু জয়ের পর ইংল্যান্ডকে হারানোর আনন্দে আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়রা মাঠে একটি বিতর্কিত ব্যানার প্রদর্শন করেন। ‘লাস মালভিয়ানস সন আর্জেন্টিনাস’ লেখা সেই ব্যানারটি নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়েছে, কারণ এই বাক্যের মাধ্যমে ১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের ঐতিহাসিক বিরোধকে স্মরণ করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ম্যাচের শেষ পাঁচ মিনিট বাকি থাকতে আর্জেন্টিনা ১-০ গোলে পিছিয়ে ছিল, কিন্তু দ্রুত পরপর দুটি গোল করে তারা ঘুরে দাঁড়ায় এবং টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে। রোববার নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে স্পেন আগেই নাম লিখিয়েছে।

ব্যানারটি ওই ভূখণ্ড-সংক্রান্ত বিরোধকে নির্দেশ করে, যেটিকে ব্রিটেনে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ এবং আর্জেন্টিনায় ইসলাম মালভিনাস বলা হয়। এই বিরোধের জেরেই ৪৪ বছর আগে ৭৪ দিনব্যাপী একটি যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। সেই সংঘাতে ৯০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন, এর মধ্যে ৬৪৯ জন আর্জেন্টাইন এবং ২৫৫ জন ব্রিটিশ।

লিসান্দ্রো মার্তিনেস এবং জিওভানি লো সেলসো হাসিমুখে ব্যানারটি হাতে তুলে ধরেন এবং গ্যালারিতে থাকা সমর্থকদের দিকে নাড়াতে থাকেন। ব্যানারটি কোথা থেকে এসেছে, তা স্পষ্ট নয়।

বিশ্বকাপ চলাকালে রাজনৈতিক ব্যানারের বিষয়টি এবারই প্রথম সামনে আসেনি। গত মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসে, ইরান যখন খেলেছিল, তখন তেহরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত প্রাক-বিপ্লবী পতাকা ইরানি-আমেরিকানরা প্রদর্শন করেছিলেন। তবে ওই ম্যাচগুলো কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পর, আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়কে এই স্লোগান দিতে শোনা যায়: মালভিনাসের জন্য, দিয়েগো মারাদোনার জন্য এবং লিও মেসির শেষটির জন্য।

আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পল বলেন, ‘আমরা বুঝি, এটি এমন একটি ফুটবল ম্যাচ যা ক্রীড়ার গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়; এটি দিয়েগো যা করেছিলেন, সেই স্মৃতিগুলো ফিরিয়ে আনে। আমরা আমাদের মালভিনাসের বীরদের নিয়ে গান গাই, মূলত তাদের স্মরণ করার জন্য। কিন্তু আমাদের এটাও বুঝতে হবে যে এটি একটি ফুটবল ম্যাচ, আর মালভিনাসের বিষয়টি অন্যত্র আলোচনা হওয়া উচিত। যা ঘটেছিল, তা ছিল এক ভয়াবহ নৃশংসতা এবং আমরা সবসময় নিহতদের স্মরণ করি। তবে আমরা যা চাই, তা হলো এই ম্যাচটি জিতে ফাইনালে পৌঁছানো।

ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে রাজনৈতিক, আপত্তিকর অথবা বৈষম্যমূলক প্রকৃতির ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক এবং অন্যান্য সামগ্রী নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধের জবাবে ফিফা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

আর্জেন্টিনার নিরাপত্তামন্ত্রী আলেহান্দ্রা মন্তেওলিভা মঙ্গলবার জানান, যুক্তরাষ্ট্রে সোমবার অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আর্জেন্টিনার একটি স্থানীয় রেডিওকে বলেন, সেখানে ১ হাজার ৬০০ জন কর্মকর্তা মোতায়েন থাকবেন। আমরা চাই উদ্‌যাপনটি শান্তিপূর্ণ হোক। রাজনৈতিক বা বর্ণগত যেকোনো ধরনের উসকানিমূলক বার্তাসংবলিত কোনো উপকরণ প্রবেশ করতে দেয়া হবে না।

Share this news as a Photo Card