নিউইয়র্ক ০৫:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসিফ নজরুলের নির্দেশেই বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি

  • আপডেটের সময় : ০৩:৪২:৩১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে দীর্ঘদিন পর প্রকাশিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কমিটির দাবি, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি এককভাবে নিয়েছিলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ। এর মধ্যে তিনটি কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বিসিবিও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিন সদস্যের কমিটি তাদের ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত কোনো সম্মিলিত আলোচনা বা পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। বরং তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এককভাবে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্য কারও মতামত নেওয়ার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিটিংয়ে আসিফ নজরুল শুধুমাত্র নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। 

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর বলেন, ‘যে একজন ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে, তিনি তৎকালীন স্পোর্টসের দায়িত্বে ছিলেন, প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল।’


তবে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসিফ নজরুলের বক্তব্যে ভিন্নতা ছিল বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রীয় মাঠ উন্নয়নে বিসিবির দুই কোটি টাকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আসিফ নজরুল বলেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা।


সেদিন তিনি বলেন, ‘কোনো অনুশোচনা বা প্রশ্নের সুযোগ নেই (বিশ্বকাপ খেলতে না পারার কারণে)। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ও ক্রিকেট বোর্ড। তারা দেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আত্মত্যাগ করেছে। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

অথচ এর আগে, ২২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারই ক্রিকেটারদের ভারতে পাঠাচ্ছে না। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি সিদ্ধান্তের দায় বোর্ড ও ক্রিকেটারদের ওপর চাপিয়ে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি মনে করে, এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা সামনে এসেছে। ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটাররা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে বা বিপক্ষে মত থাকতেই পারে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কাশ্মীরে ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ইন্টারনেট

ভাঙনের পথে যুক্তরাজ্য

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

আসিফ নজরুলের নির্দেশেই বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি বাংলাদেশ: তদন্ত কমিটি

আপডেটের সময় : ০৩:৪২:৩১ অপরাহ্ণ, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিরাপত্তা শঙ্কার কারণে গত ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। তবে দীর্ঘদিন পর প্রকাশিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কমিটির দাবি, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তটি এককভাবে নিয়েছিলেন তৎকালীন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।

ভারতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশের গ্রুপ পর্বের চারটি ম্যাচ। এর মধ্যে তিনটি কলকাতায় এবং একটি মুম্বাইয়ে। নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে ভেন্যু পরিবর্তনের অনুরোধ জানায়। আইসিসি সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলে বাংলাদেশ দলকে ভারতে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। বিসিবিও সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়।

নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিন সদস্যের কমিটি তাদের ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে না পাঠানোর সিদ্ধান্ত কোনো সম্মিলিত আলোচনা বা পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়া হয়নি। বরং তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এককভাবে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে অন্য কারও মতামত নেওয়ার প্রয়োজন তিনি অনুভব করেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্রিকেটারদের সঙ্গে মিটিংয়ে আসিফ নজরুল শুধুমাত্র নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। 

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির ইচ্ছায় নেওয়া উচিত নয়। সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করে, ক্রিকেটারদের ভবিষ্যৎ এবং দেশের কোটি কোটি ক্রিকেটপ্রেমীর প্রত্যাশাকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।’ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে তদন্ত কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর বলেন, ‘যে একজন ব্যক্তির কথা বলা হচ্ছে, তিনি তৎকালীন স্পোর্টসের দায়িত্বে ছিলেন, প্রফেসর ড. আসিফ নজরুল।’


তবে বিশ্বকাপে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আসিফ নজরুলের বক্তব্যে ভিন্নতা ছিল বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রীয় মাঠ উন্নয়নে বিসিবির দুই কোটি টাকা অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আসিফ নজরুল বলেছিলেন, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও ক্রিকেটাররা।


সেদিন তিনি বলেন, ‘কোনো অনুশোচনা বা প্রশ্নের সুযোগ নেই (বিশ্বকাপ খেলতে না পারার কারণে)। এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশের খেলোয়াড়েরা ও ক্রিকেট বোর্ড। তারা দেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের মর্যাদার প্রশ্নে আত্মত্যাগ করেছে। এটি একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

অথচ এর আগে, ২২ জানুয়ারি আসিফ নজরুল স্পষ্টভাবে জানিয়েছিলেন, নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারই ক্রিকেটারদের ভারতে পাঠাচ্ছে না। মাত্র তিন সপ্তাহের ব্যবধানে নিজের অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি সিদ্ধান্তের দায় বোর্ড ও ক্রিকেটারদের ওপর চাপিয়ে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটি মনে করে, এই ঘটনার মাধ্যমে বাংলাদেশের ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা সামনে এসেছে। ভবিষ্যতে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আরও সুস্পষ্ট প্রশাসনিক কাঠামো, কার্যকর কূটনৈতিক যোগাযোগ, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে খেলোয়াড়দের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। কারণ প্রশাসনিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে যেন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ক্রিকেটাররা বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করা জরুরি।

বিশ্বকাপ বয়কটের পক্ষে বা বিপক্ষে মত থাকতেই পারে। তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের স্বার্থে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা প্রয়োজন, যেখানে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে ক্রিকেটারদের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।

Share this news as a Photo Card