নিউইয়র্ক ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুই শিশুর পেটের ভেতর মিলল ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা

  • আপডেটের সময় : ০৮:০৯:১৩ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে পেটের ভেতর ইয়াবা বহন করে পাচারের সময় ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাব। পরে চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের পেট থেকে ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশু দুটিকে পাচারের কাজে ব্যবহার করার অভিযোগে শারমিন আকতার প্রকাশ ইসমত আরা নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে র‌্যাব-৭-এর সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার শারমিন আকতার কক্সবাজারের চকরিয়া থানার পূর্ব ডোমখালী এলাকার মো. আহমদ হোসেনের মেয়ে। এর আগেও একই কৌশলে শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করে র‌্যাব।

র‍্যাব জানায়, দুই শিশুর পেটে ইয়াবা বড়ি ঢুকিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছিল। এ কাজে শিশুদের পরিবারের খরচ দেওয়ার পাশাপাশি আট হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে তাদের রাজি করানো হয়। পরে সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই শিশুর পেট থেকে ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ক্যাম্পের লে. কমান্ডার তাওহীদুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ব্যবহার করে মাদক পাচার করে আসছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছিল র‍্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাট এলাকায় তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। সেখানে একটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে শারমিন আক্তার নামের এক নারীকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি চকরিয়ায়। তার সঙ্গে থাকা দুই শিশুর বয়স ৯ ও ১২ বছর।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, দুই শিশুর বাড়ি বান্দরবানের আলীকদমে। পরিবারের খরচ দেওয়ার পাশাপাশি আট হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মাদক পাচারে ব্যবহার করে চক্রটি। শিশুদের সঙ্গে শারমিন আক্তারকে রাখা হয়েছিল, যাতে দেখে কারও সন্দেহ না হয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই শিশুর পেটে করে ইয়াবা আনার বিষয়টি স্বীকার করেন শারমিন। পরে দুই শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক্স-রে করার পর চিকিৎসকেরা তাদের পেটে ইয়াবা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর মলত্যাগের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো বের করা হয়। ৯ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৬টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটে মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা ছিল বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন দাবি করেন, তিনি উখিয়া থেকে ইয়াবা কিনে শিশু দুটিকে কৌশলে সেবন করিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে আসছিলেন। এর আগেও একই পদ্ধতিতে শিশু দুটির পেটে করে আরও দুইবার উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান তিনি।

এ ঘটনায় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তাওহীদুল ইসলাম বলেন, পেটের ভেতরে ইয়াবা থাকায় দুই শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। এভাবে মাদক বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। শিশুদের যাতে মাদক পাচারে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নোরা ফাতেহির বিরুদ্ধে ৩ কোটির মানহানির মামলা

ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রার্থী হচ্ছেন আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

দুই শিশুর পেটের ভেতর মিলল ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা

আপডেটের সময় : ০৮:০৯:১৩ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে পেটের ভেতর ইয়াবা বহন করে পাচারের সময় ৯ ও ১২ বছর বয়সী দুই শিশুকে হেফাজতে নিয়েছে র‌্যাব। পরে চিকিৎসার মাধ্যমে তাদের পেট থেকে ৬ হাজার ৬১৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশু দুটিকে পাচারের কাজে ব্যবহার করার অভিযোগে শারমিন আকতার প্রকাশ ইসমত আরা নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে র‌্যাব-৭-এর সিপিসি-৩-এর কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. তাওহিদুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

গ্রেপ্তার শারমিন আকতার কক্সবাজারের চকরিয়া থানার পূর্ব ডোমখালী এলাকার মো. আহমদ হোসেনের মেয়ে। এর আগেও একই কৌশলে শিশুদের ব্যবহার করে ইয়াবা পাচারের সঙ্গে তার জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করে র‌্যাব।

র‍্যাব জানায়, দুই শিশুর পেটে ইয়াবা বড়ি ঢুকিয়ে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আনা হচ্ছিল। এ কাজে শিশুদের পরিবারের খরচ দেওয়ার পাশাপাশি আট হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলে তাদের রাজি করানো হয়। পরে সোমবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুই শিশুর পেট থেকে ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব-৭ চট্টগ্রামের চান্দগাঁও ক্যাম্পের লে. কমান্ডার তাওহীদুল ইসলাম বলেন, কক্সবাজার ও চট্টগ্রামকেন্দ্রিক একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ব্যবহার করে মাদক পাচার করে আসছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি নজরদারিতে রেখেছিল র‍্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় আনোয়ারা উপজেলার সরকারহাট এলাকায় তল্লাশিচৌকি বসানো হয়। সেখানে একটি সিএনজি অটোরিকশা থেকে শারমিন আক্তার নামের এক নারীকে আটক করা হয়। তাঁর বাড়ি চকরিয়ায়। তার সঙ্গে থাকা দুই শিশুর বয়স ৯ ও ১২ বছর।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, দুই শিশুর বাড়ি বান্দরবানের আলীকদমে। পরিবারের খরচ দেওয়ার পাশাপাশি আট হাজার টাকা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের মাদক পাচারে ব্যবহার করে চক্রটি। শিশুদের সঙ্গে শারমিন আক্তারকে রাখা হয়েছিল, যাতে দেখে কারও সন্দেহ না হয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই শিশুর পেটে করে ইয়াবা আনার বিষয়টি স্বীকার করেন শারমিন। পরে দুই শিশুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এক্স-রে করার পর চিকিৎসকেরা তাদের পেটে ইয়াবা থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এরপর মলত্যাগের মাধ্যমে ইয়াবাগুলো বের করা হয়। ৯ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৭টি এবং ১২ বছর বয়সী শিশুটির পেট থেকে ৬৬টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়। এসব প্যাকেটে মোট ৬ হাজার ৬১৫টি ইয়াবা ছিল বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‌্যাবের জিজ্ঞাসাবাদে শারমিন দাবি করেন, তিনি উখিয়া থেকে ইয়াবা কিনে শিশু দুটিকে কৌশলে সেবন করিয়ে চট্টগ্রামে নিয়ে আসছিলেন। এর আগেও একই পদ্ধতিতে শিশু দুটির পেটে করে আরও দুইবার উখিয়া থেকে চট্টগ্রামে ইয়াবার চালান পৌঁছে দিয়েছেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানান তিনি।

এ ঘটনায় মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তাওহীদুল ইসলাম বলেন, পেটের ভেতরে ইয়াবা থাকায় দুই শিশুর মৃত্যুর আশঙ্কা ছিল। এভাবে মাদক বহন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। শিশুদের যাতে মাদক পাচারে ব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

Share this news as a Photo Card