নিউইয়র্ক ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩০ বছরেও পাকা হয়নি সড়ক, কাদায় থমকে ১০ হাজার মানুষের জীবন

  • আপডেটের সময় : ০৮:০৮:১০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের মধ্য মদনপুরা থেকে পশ্চিম মাঝপাড়া গ্রামের সোনামদ্দিন মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার সড়ক ৩০ বছরেও পাকা হয়নি। প্রায় তিন দশক আগে সড়কটিতে মাটির কাজ করা হলেও এরপর আর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। দীর্ঘদিন সংস্কার ও পাকাকরণ না হওয়ায় সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মধ্য মদনপুরার পাকা সড়ক থেকে পশ্চিম মাঝপাড়া হয়ে সোনামদ্দিন মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পুরো পথই কাঁচা। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও হাঁটুপানি ও কাদা তৈরি হয়েছে। সড়কের পাশ থেকে বালুর বস্তা ফেলে কোনোভাবে তৈরি করা সরু পথ দিয়ে স্থানীয়দের চলাচল করতে হচ্ছে। পিচ্ছিল ওই পথে পা পিছলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সড়কটির দুরবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা। সোনামদ্দিন মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। তবে বর্ষা মৌসুমে সড়কের দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতিও কমে যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামাল মুন্সী বলেন, ‘এই সড়কে এখন কোনো যানবাহন চলাচল করে না। কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়াটাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। জরুরি প্রয়োজনে অনেক সময় মানুষকে কাঁধে করে কিংবা অন্যভাবে সড়কের খারাপ অংশ পার করতে হয়।’

আরেক বাসিন্দা মো. নিয়াজ খান বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর আগে এখানে মাটির সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর অনেক সরকার এসেছে-গেছে, কিন্তু সড়কটির আর উন্নয়ন হয়নি। চার গ্রামের হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।’

সোনামদ্দিন মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটি চার গ্রামের মানুষের প্রধান চলাচলের সড়ক। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করেন। বর্ষায় হাঁটুসমান কাদা হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে অনেক সমস্যা হয়। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে উপস্থিতিও কমে যায়। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে দ্রুত সড়কটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল ফরাজী বলেন, সড়কটি পাকাকরণের জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নোরা ফাতেহির বিরুদ্ধে ৩ কোটির মানহানির মামলা

ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রার্থী হচ্ছেন আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

৩০ বছরেও পাকা হয়নি সড়ক, কাদায় থমকে ১০ হাজার মানুষের জীবন

আপডেটের সময় : ০৮:০৮:১০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের মধ্য মদনপুরা থেকে পশ্চিম মাঝপাড়া গ্রামের সোনামদ্দিন মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৮০০ মিটার সড়ক ৩০ বছরেও পাকা হয়নি। প্রায় তিন দশক আগে সড়কটিতে মাটির কাজ করা হলেও এরপর আর উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। দীর্ঘদিন সংস্কার ও পাকাকরণ না হওয়ায় সড়কটি এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার মধ্য মদনপুরার পাকা সড়ক থেকে পশ্চিম মাঝপাড়া হয়ে সোনামদ্দিন মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত পুরো পথই কাঁচা। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কের বিভিন্ন অংশে তৈরি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। বৃষ্টির পানি জমে কোথাও কোথাও হাঁটুপানি ও কাদা তৈরি হয়েছে। সড়কের পাশ থেকে বালুর বস্তা ফেলে কোনোভাবে তৈরি করা সরু পথ দিয়ে স্থানীয়দের চলাচল করতে হচ্ছে। পিচ্ছিল ওই পথে পা পিছলে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সড়কটির দুরবস্থায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়ছেন শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী, শিশু ও বয়স্করা। সোনামদ্দিন মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা নিয়মিত এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। তবে বর্ষা মৌসুমে সড়কের দুরবস্থার কারণে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে উপস্থিতিও কমে যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. কামাল মুন্সী বলেন, ‘এই সড়কে এখন কোনো যানবাহন চলাচল করে না। কেউ অসুস্থ হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়াটাও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। গর্ভবতী নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়। জরুরি প্রয়োজনে অনেক সময় মানুষকে কাঁধে করে কিংবা অন্যভাবে সড়কের খারাপ অংশ পার করতে হয়।’

আরেক বাসিন্দা মো. নিয়াজ খান বলেন, ‘প্রায় ৩০ বছর আগে এখানে মাটির সড়ক নির্মাণ করা হয়েছিল। এরপর অনেক সরকার এসেছে-গেছে, কিন্তু সড়কটির আর উন্নয়ন হয়নি। চার গ্রামের হাজার হাজার মানুষের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।’

সোনামদ্দিন মৃধা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এটি চার গ্রামের মানুষের প্রধান চলাচলের সড়ক। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা প্রতিদিন এ পথ ব্যবহার করেন। বর্ষায় হাঁটুসমান কাদা হয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসতে অনেক সমস্যা হয়। এ কারণে বর্ষা মৌসুমে উপস্থিতিও কমে যায়। শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক শিক্ষাজীবন নিশ্চিত করতে দ্রুত সড়কটি নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে বাউফল উপজেলা এলজিইডির উপসহকারী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল ফরাজী বলেন, সড়কটি পাকাকরণের জন্য সরেজমিনে পরিদর্শন করা হবে। পরিদর্শনের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Share this news as a Photo Card