নিউইয়র্ক ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাঁকো ভেঙে দুর্ভোগে ৩২ পরিবার, কলাগাছের ভেলাই এখন একমাত্র ভরসা

  • আপডেটের সময় : ০৮:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের খানপুরা-উত্তর রহমতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২ পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র বাঁশ-কাঠের সাঁকোটি ভেঙে পড়েছে। এতে রাজারবের খাল পারাপারে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে এখন কলাগাছের ভেলা তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হচ্ছেন তারা। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল রাজারবের খালের ওপর নির্মিত বাঁশ-কাঠের সাঁকোটি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সাঁকোটি সম্প্রতি ভেঙে পড়ায় সরাসরি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে।

এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বাজারে যাওয়া মানুষ এবং চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সাঁকো না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই কলাগাছের ভেলা বানিয়ে খাল পারাপার করছেন তারা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কাওছার মৃধা বলেন, ‘রাজারবের খালের ওপর এই সাঁকোটিই আমাদের ৩২ পরিবারের দ্রুত যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর এখন কলাগাছের ভেলা দিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে। এভাবে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

আরেক বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিন বাজার, চিকিৎসা এবং ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্য তাদের খাল পার হতে হয়। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় এখন কলাগাছের ভেলাই তাদের একমাত্র ভরসা। কিছুদিন আগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক গৃহিণী ভেলা থেকে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২টি পরিবারের প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য রাজারবের খালের ওপরের সাঁকোটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভেঙে যাওয়ায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এখানে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন সিকদার বলেন, সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২টি পরিবারের চলাচলে যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগে বাসিন্দারা যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকজন বাসিন্দা তার কাছে এসে সাঁকোটির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তাদের জানানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

নোরা ফাতেহির বিরুদ্ধে ৩ কোটির মানহানির মামলা

ঢাকা উত্তর সিটিতে প্রার্থী হচ্ছেন আসিফ, দক্ষিণে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

সাঁকো ভেঙে দুর্ভোগে ৩২ পরিবার, কলাগাছের ভেলাই এখন একমাত্র ভরসা

আপডেটের সময় : ০৮:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের খানপুরা-উত্তর রহমতপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২ পরিবারের যাতায়াতের একমাত্র বাঁশ-কাঠের সাঁকোটি ভেঙে পড়েছে। এতে রাজারবের খাল পারাপারে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দারা। বাধ্য হয়ে এখন কলাগাছের ভেলা তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হচ্ছেন তারা। দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দাদের উপজেলা সদরসহ আশপাশের এলাকায় যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল রাজারবের খালের ওপর নির্মিত বাঁশ-কাঠের সাঁকোটি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা সাঁকোটি সম্প্রতি ভেঙে পড়ায় সরাসরি চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে।

এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বাজারে যাওয়া মানুষ এবং চিকিৎসাসহ জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া বাসিন্দাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। সাঁকো না থাকায় অনেকটা বাধ্য হয়েই কলাগাছের ভেলা বানিয়ে খাল পারাপার করছেন তারা।

আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা কাওছার মৃধা বলেন, ‘রাজারবের খালের ওপর এই সাঁকোটিই আমাদের ৩২ পরিবারের দ্রুত যাতায়াতের একমাত্র পথ ছিল। সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার পর এখন কলাগাছের ভেলা দিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে। এভাবে চলাচল করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত এখানে একটি সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।’

আরেক বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, প্রতিদিন বাজার, চিকিৎসা এবং ছেলে-মেয়েদের স্কুল-কলেজে যাতায়াতের জন্য তাদের খাল পার হতে হয়। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় এখন কলাগাছের ভেলাই তাদের একমাত্র ভরসা। কিছুদিন আগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের এক গৃহিণী ভেলা থেকে পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য সাবিনা ইয়াসমিন মুক্তা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২টি পরিবারের প্রতিদিনের যাতায়াতের জন্য রাজারবের খালের ওপরের সাঁকোটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ভেঙে যাওয়ায় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এখানে দ্রুত একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা জরুরি।

রহমতপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান সুমন সিকদার বলেন, সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৩২টি পরিবারের চলাচলে যে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ঝুঁকি নিয়ে খাল পার হতে হচ্ছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে স্থায়ী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর আগে বাসিন্দারা যাতে নিরাপদে চলাচল করতে পারেন, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের কয়েকজন বাসিন্দা তার কাছে এসে সাঁকোটির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা তাদের জানানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card