বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে দুই দেশের মধ্যে ‘সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপ’ গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। মালদ্বীপে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের দেওয়া এ প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার আবদুল রহিম আবদুল্লাহ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মালদ্বীপের পার্লামেন্ট ‘পিপলস মজলিসে’ স্পিকারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ প্রস্তাব দেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে দুই দেশের সংসদীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় সংসদ সদস্যদের পারস্পরিক সফর, নিয়মিত সংলাপ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়।
হাইকমিশনার ড. মোহাম্মদ নাজমুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের সম্পর্ক কেবল সরকার পর্যায়ের যোগাযোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
তিনি বলেন, সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপ গঠিত হলে দুই দেশের সংসদ সদস্যদের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ ও সহযোগিতার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মাধ্যমে আইন প্রণয়ন, সংসদ পরিচালনা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী করার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা সম্ভব হবে।
পাশাপাশি অর্থনীতি, শিক্ষা, জনকল্যাণ, শ্রম অভিবাসন ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বৈঠকে মালদ্বীপের অর্থনীতি ও উন্নয়নে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দেশটির উন্নয়নে তাঁদের অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ায় মালদ্বীপ সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান হাইকমিশনার।
জবাবে মালদ্বীপের স্পিকার আবদুল রহিম আবদুল্লাহ দেশটির অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও উন্নয়নে বাংলাদেশি কর্মীদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপ গঠনের বিষয়টি এগিয়ে নিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের সংসদীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাবে।
সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ও মালদ্বীপের স্পিকার নিজ নিজ দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্বকারী উপহার বিনিময় করেন।


























