নিউইয়র্ক ০৭:১৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মসজিদের সভাপতি পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব, দুই ঘণ্টার তাণ্ডবে ৫ ঘরে আগুন

  • আপডেটের সময় : ১১:৫৫:১৪ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • ৫ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত পাঁচটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এবং প্রায় ৩০টি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এতে মোশারফ ফকিরকে সভাপতি করা হলে আপত্তি জানান স্থানীয় বাচ্চু মোড়ল। নিজেকে সভাপতি দাবি করে তিনি বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে বাচ্চু মোড়ল ও সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে বাচ্চু মোড়লের শতাধিক কর্মী-সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচটি ঘরে আগুন দেওয়া হয় এবং প্রায় ৩০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তামিম মাতুব্বর পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘পুলিশ তাদের (বাচ্চু) পক্ষ নিয়ে আমাদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর বাচ্চু মোড়লের লোকজন আমাদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।’

একই অভিযোগ করেন সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বর। তিনি বলেন, বাচ্চু মোড়লের লোকজন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালালেও পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তবে হামলা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাচ্চু মোড়ল। তাঁর দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন এমদাদ মাতুব্বর ও তাঁর সমর্থকেরা। তাঁরা নিজেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে তাঁর ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দুই পক্ষ প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত সোমবারও তাঁদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সে সময় কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষকে বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছে। কারও কথা অনুযায়ী পুলিশ কাজ না করলেই পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা হয়। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা পক্ষপাতের অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত অন্তত ৪৬

ব্রাজিলের পাসপোর্ট বাতিলের পর যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেন ফ্লাভিও বলসোনারো

২৮ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

মসজিদের সভাপতি পদ নিয়ে দ্বন্দ্ব, দুই ঘণ্টার তাণ্ডবে ৫ ঘরে আগুন

আপডেটের সময় : ১১:৫৫:১৪ পূর্বাহ্ণ, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

মাদারীপুরে মসজিদ পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় অন্তত পাঁচটি বসতঘরে অগ্নিসংযোগ এবং প্রায় ৩০টি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের বাহেরান্দী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন মাস আগে বাহেরান্দী জামে মসজিদের পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এতে মোশারফ ফকিরকে সভাপতি করা হলে আপত্তি জানান স্থানীয় বাচ্চু মোড়ল। নিজেকে সভাপতি দাবি করে তিনি বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে বাচ্চু মোড়ল ও সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফা সংঘর্ষ হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার সকালে বাচ্চু মোড়লের শতাধিক কর্মী-সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এমদাদ মাতুব্বরের সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচটি ঘরে আগুন দেওয়া হয় এবং প্রায় ৩০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে দাবি স্থানীয়দের।

খবর পেয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত তামিম মাতুব্বর পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বলেন, ‘পুলিশ তাদের (বাচ্চু) পক্ষ নিয়ে আমাদের বাড়িঘর থেকে বের করে দেয়। এরপর বাচ্চু মোড়লের লোকজন আমাদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।’

একই অভিযোগ করেন সাবেক ইউপি সদস্য এমদাদ মাতুব্বর। তিনি বলেন, বাচ্চু মোড়লের লোকজন এলাকায় ব্যাপক তাণ্ডব চালালেও পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

তবে হামলা ও অগ্নিসংযোগে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাচ্চু মোড়ল। তাঁর দাবি, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করেন এমদাদ মাতুব্বর ও তাঁর সমর্থকেরা। তাঁরা নিজেরা সংঘর্ষে জড়িয়ে তাঁর ওপর দায় চাপাচ্ছেন। এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, ছোটখাটো বিষয় নিয়ে দুই পক্ষ প্রায়ই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর আগে গত সোমবারও তাঁদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সে সময় কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষকে বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ অস্বীকার করে ওসি বলেন, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলছে। কারও কথা অনুযায়ী পুলিশ কাজ না করলেই পক্ষপাতের অভিযোগ তোলা হয়। সংঘর্ষে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।

মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা পক্ষপাতের অভিযোগও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card