নিউইয়র্ক ০৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

  • আপডেটের সময় : ০৭:৪২:২০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) টার্মিনালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে এই টার্মিনালের ভবন উদ্বোধন করা হলেও এটি চালুর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, তখন টার্মিনালে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি এবং কার্যক্রম পরিচালনার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনাও ছিল না।

রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, পূর্বে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী রাজস্বের ১৫ শতাংশ বাংলাদেশ এবং বাকি ৮৫ শতাংশ জাপানি কোম্পানির পাওয়ার কথা ছিল। ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে সেই অনুপাত পরিবর্তন করে বাংলাদেশের প্রাপ্য অংশ ২৭ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি, যা প্রকল্পের ঋণ পরিশোধে সহায়ক হবে বলে জানান মন্ত্রী।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কিস্তি ইতিমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অন্যান্য খাতের আয় থেকে পরিশোধ শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং চলতি ডিসেম্বরে আরও ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। টার্মিনালটি চালু করা না গেলে এভাবে অন্যান্য খাতের আয় থেকেই ঋণ পরিশোধ অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান তিনি। এ প্রেক্ষাপটে ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে হলেও টার্মিনালটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছিলেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর নামে বিগত সরকার শুধু একটি ভবন উদ্বোধন করেছিল, তবে এর অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলেও সে সময় জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকার সরাসরি বরাদ্দ দেয় ৫ হাজার কোটি টাকা, বাকি অর্থের জোগান আসে জাইকার ঋণ থেকে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

এলএনজি টার্মিনাল-২ চুক্তি পুনর্বহালের দাবি সামিটের

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন হচ্ছে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

আপডেটের সময় : ০৭:৪২:২০ পূর্বাহ্ণ, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত। মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) টার্মিনালটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে এই টার্মিনালের ভবন উদ্বোধন করা হলেও এটি চালুর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তার ভাষায়, তখন টার্মিনালে ইন্টারনেট সংযোগ ছিল না, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়নি এবং কার্যক্রম পরিচালনার সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনাও ছিল না।

রাজস্ব ভাগাভাগির বিষয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, পূর্বে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী রাজস্বের ১৫ শতাংশ বাংলাদেশ এবং বাকি ৮৫ শতাংশ জাপানি কোম্পানির পাওয়ার কথা ছিল। ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে সেই অনুপাত পরিবর্তন করে বাংলাদেশের প্রাপ্য অংশ ২৭ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান তিনি, যা প্রকল্পের ঋণ পরিশোধে সহায়ক হবে বলে জানান মন্ত্রী।

জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) ঋণে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কিস্তি ইতিমধ্যে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের অন্যান্য খাতের আয় থেকে পরিশোধ শুরু হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ পর্যন্ত ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে এবং চলতি ডিসেম্বরে আরও ৯০০ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। টার্মিনালটি চালু করা না গেলে এভাবে অন্যান্য খাতের আয় থেকেই ঋণ পরিশোধ অব্যাহত রাখতে হবে বলে জানান তিনি। এ প্রেক্ষাপটে ১৬ ডিসেম্বর আংশিকভাবে হলেও টার্মিনালটি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

এর আগে গত ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদে রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছিলেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালুর নামে বিগত সরকার শুধু একটি ভবন উদ্বোধন করেছিল, তবে এর অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলেও সে সময় জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে। ২১ হাজার ৩৯৮ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। এই ব্যয়ের মধ্যে সরকার সরাসরি বরাদ্দ দেয় ৫ হাজার কোটি টাকা, বাকি অর্থের জোগান আসে জাইকার ঋণ থেকে।

Share this news as a Photo Card