নিউইয়র্ক ০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বর্ণ জয়ের লক্ষ্যে এশিয়ান গেমসে যাবে বাংলাদেশ

  • আপডেটের সময় : ০৪:৪৮:০০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪ সময়-দৃশ্য

ছবি: সংগৃহীত

চলতি মাসে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় বসতে যাচ্ছে এশিয়ান গেমসের আসর। গেমসে আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের। গেমস ভিলেজে অন্য ক্রীড়াবিদরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন, ক্রিকেটারদেরও সেগুলো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি। আবাসনের চেয়ে প্রতিযোগিতায় দ্রুত মানিয়ে নেওয়া ও ভালো পারফরম্যান্স করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালাহউদ্দিন জানান, পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এশিয়ান গেমসে যাবে বাংলাদেশ।

গতকাল থেকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সালাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুরে অধিনায়ক লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিদ হাসান তামিম, মোসাদ্দেক হোসেন ও নাসুদ আহমেদরা। যেখানে তাদের তালিম দিচ্ছিলেন জাতীয় দলের হেড কোচ ফিল সিমন্স ও মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। স্কোয়াডে থাকা বাকি খেলোয়াড়রা দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে দেশে ফিরে ক্যাম্পে যোগ দিবে। দেশ ছাড়ার আগে নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলার কথা রয়েছে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যে কোনো দলই চমক দেখাতে পারে। এ কারণে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না টাইগার কোচ। সালাউদ্দিন বলেন, ‘এটি একটি নকআউট টুর্নামেন্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। অন্য দলগুলোকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। আমার বিশ্বাস, আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশগুলো মূলত এই ফরম্যাটেই বেশি খেলে। তাই এই ফরম্যাটে তাদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা থাকতে পারে। আমাদের প্রায়ই বিভিন্ন ফরম্যাটের মধ্যে মানিয়ে নিতে হয়। এ কারণেই টি-টোয়েন্টিতে কাউকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বের সঙ্গে খেলতে হবে এবং জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে।’

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধা ও প্রস্তুতি নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ক্রীড়াবিদদের থাকতে হবে প্রমোদতরিতে। তবে আবাসন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না সালাউদ্দিন। বলেন, ‘আবাসন নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা নেই। গেমস ভিলেজে অন্য ক্রীড়াবিদরা যা পাবেন, আমরাও তাই পাব। ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের আলাদা থাকার প্রয়োজন আছে-এমনটা আমরা ভাবছি না। আমরা নিজেদের ক্রীড়াবিদ হিসেবেই দেখি। অন্য ক্রীড়াবিদরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাবেন, আমরাও সেগুলোই পাব। তারা তো আর আমাদের রাস্তায় ফেলে রাখবে না। থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা থাকবেই। তাই এ নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তিত নই।’

আবাসনের চেয়ে জাপানে গিয়ে দল কত দ্রুত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, সেটিই বেশি ভাবাচ্ছে সালাউদ্দিনকে। কারণ এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট হবে নকআউট পদ্ধতিতে। ফলে একটি ম্যাচে ব্যর্থ হলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকবে না। জাপানের উইকেট কেমন হবে, সেটিকেও অজুহাত হিসেবে দেখতে চান না তিনি। বলেন, ‘ক্রিকেট খেলার সময় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের উইকেটে খেলতে হয়। তাই প্রতিবারই ভালো উইকেট পাওয়ার আশা করা ঠিক নয়। উইকেট যদি এমন হয় যেখানে ১২০ রান করা সম্ভব, তবে আমাদের সে অনুযায়ী খেলতে হবে। আর যদি ২০০ রানের উইকেট হয়, তবে সেভাবেই পরিকল্পনা সাজাতে হবে।’

২০১০ সালে চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে দেশের একমাত্র স্বর্ণপদকও এসেছিল সেই আসর থেকে। এবার আইচি-নাগোয়া গেমসে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চান সালাউদ্দিন। ক্রিকেটে স্বর্ণ জিততে পারলে তা জাপানে যাওয়া পুরো বাংলাদেশ দলের জন্যই বড় অর্জন হবে বলে মনে করেন তিনি। সালাউদ্দিন বলেন, ‘নারী ক্রিকেট দল ২০১০ সালে রৌপ্য জিতেছিল। কাবাডিতেও হয়তো আমরা এক-দুটি রৌপ্য পেয়েছি। এছাড়া বড় কোনো সাফল্য আমাদের নেই। বাংলাদেশ থেকে একটি বড় দল সেখানে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু খুব কম ইভেন্টেই আমাদের পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ক্রিকেটের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা চাই, বাংলাদেশ যেন স্বর্ণপদক জেতে।’

Share this news as a Photo Card

ট্যাগ :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

About Author Information

জনপ্রিয় পোস্ট

কাশ্মীরে ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ইন্টারনেট

ভাঙনের পথে যুক্তরাজ্য

১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
www.usbdjournal24.com

স্বর্ণ জয়ের লক্ষ্যে এশিয়ান গেমসে যাবে বাংলাদেশ

আপডেটের সময় : ০৪:৪৮:০০ অপরাহ্ণ, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চলতি মাসে জাপানের আইচি-নাগোয়ায় বসতে যাচ্ছে এশিয়ান গেমসের আসর। গেমসে আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা নেই বাংলাদেশের পুরুষ ক্রিকেট দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের। গেমস ভিলেজে অন্য ক্রীড়াবিদরা যে ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন, ক্রিকেটারদেরও সেগুলো নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে বলে মনে করেন তিনি। আবাসনের চেয়ে প্রতিযোগিতায় দ্রুত মানিয়ে নেওয়া ও ভালো পারফরম্যান্স করাই তার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ক্রিকবাজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সালাহউদ্দিন জানান, পদক জয়ের লক্ষ্য নিয়েই এশিয়ান গেমসে যাবে বাংলাদেশ।

গতকাল থেকে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সালাউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে এশিয়ান গেমসের প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ। গতকাল মিরপুরে অধিনায়ক লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্ত, মোস্তাফিজুর রহমান, তানজিদ হাসান তামিম, মোসাদ্দেক হোসেন ও নাসুদ আহমেদরা। যেখানে তাদের তালিম দিচ্ছিলেন জাতীয় দলের হেড কোচ ফিল সিমন্স ও মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। স্কোয়াডে থাকা বাকি খেলোয়াড়রা দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে দেশে ফিরে ক্যাম্পে যোগ দিবে। দেশ ছাড়ার আগে নিজেদের মধ্যে ভাগ হয়ে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলার কথা রয়েছে।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে যে কোনো দলই চমক দেখাতে পারে। এ কারণে কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ দেখছেন না টাইগার কোচ। সালাউদ্দিন বলেন, ‘এটি একটি নকআউট টুর্নামেন্ট এবং টি-টোয়েন্টিতে যে কোনো কিছুই ঘটতে পারে। অন্য দলগুলোকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। আমার বিশ্বাস, আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশগুলো মূলত এই ফরম্যাটেই বেশি খেলে। তাই এই ফরম্যাটে তাদের কিছুটা বাড়তি সুবিধা থাকতে পারে। আমাদের প্রায়ই বিভিন্ন ফরম্যাটের মধ্যে মানিয়ে নিতে হয়। এ কারণেই টি-টোয়েন্টিতে কাউকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি ম্যাচ গুরুত্বের সঙ্গে খেলতে হবে এবং জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামতে হবে।’

এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের সুযোগ-সুবিধা ও প্রস্তুতি নিয়ে এরই মধ্যে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ক্রীড়াবিদদের থাকতে হবে প্রমোদতরিতে। তবে আবাসন নিয়ে কোনো শঙ্কা দেখছেন না সালাউদ্দিন। বলেন, ‘আবাসন নিয়ে আমার কোনো দুশ্চিন্তা নেই। গেমস ভিলেজে অন্য ক্রীড়াবিদরা যা পাবেন, আমরাও তাই পাব। ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের আলাদা থাকার প্রয়োজন আছে-এমনটা আমরা ভাবছি না। আমরা নিজেদের ক্রীড়াবিদ হিসেবেই দেখি। অন্য ক্রীড়াবিদরা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাবেন, আমরাও সেগুলোই পাব। তারা তো আর আমাদের রাস্তায় ফেলে রাখবে না। থাকার ও খাওয়ার ব্যবস্থা থাকবেই। তাই এ নিয়ে আমরা খুব একটা চিন্তিত নই।’

আবাসনের চেয়ে জাপানে গিয়ে দল কত দ্রুত কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে, সেটিই বেশি ভাবাচ্ছে সালাউদ্দিনকে। কারণ এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট হবে নকআউট পদ্ধতিতে। ফলে একটি ম্যাচে ব্যর্থ হলে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ থাকবে না। জাপানের উইকেট কেমন হবে, সেটিকেও অজুহাত হিসেবে দেখতে চান না তিনি। বলেন, ‘ক্রিকেট খেলার সময় বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের উইকেটে খেলতে হয়। তাই প্রতিবারই ভালো উইকেট পাওয়ার আশা করা ঠিক নয়। উইকেট যদি এমন হয় যেখানে ১২০ রান করা সম্ভব, তবে আমাদের সে অনুযায়ী খেলতে হবে। আর যদি ২০০ রানের উইকেট হয়, তবে সেভাবেই পরিকল্পনা সাজাতে হবে।’

২০১০ সালে চীনের গুয়াংজুতে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে পুরুষ ক্রিকেটে স্বর্ণপদক জিতেছিল বাংলাদেশ। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে দেশের একমাত্র স্বর্ণপদকও এসেছিল সেই আসর থেকে। এবার আইচি-নাগোয়া গেমসে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে চান সালাউদ্দিন। ক্রিকেটে স্বর্ণ জিততে পারলে তা জাপানে যাওয়া পুরো বাংলাদেশ দলের জন্যই বড় অর্জন হবে বলে মনে করেন তিনি। সালাউদ্দিন বলেন, ‘নারী ক্রিকেট দল ২০১০ সালে রৌপ্য জিতেছিল। কাবাডিতেও হয়তো আমরা এক-দুটি রৌপ্য পেয়েছি। এছাড়া বড় কোনো সাফল্য আমাদের নেই। বাংলাদেশ থেকে একটি বড় দল সেখানে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু খুব কম ইভেন্টেই আমাদের পদক জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই ক্রিকেটের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি। আমরা চাই, বাংলাদেশ যেন স্বর্ণপদক জেতে।’

Share this news as a Photo Card